আনোয়ারায় প্রথমবারের মত ভিন্ন জাতের আখ চাষ, সাফল্যের সম্ভাবনা

দেশে প্রধান অর্থকরী ফসল গুলির মধ্যে আখ অন্যতম। বর্তমানে প্রায় প্রতিটি জেলাতেই কম বেশি আখ চাষ করা হয়। বিভিন্ন প্রজাতির আখ রয়েছে যে গুলোকে সাধারণত দু’ভাগে ভাগ করা যায়। চিনি ও গুড় তৈরির জন্য আর চিবিয়ে খাবার জন্য। চিবিয়ে খাওয়ার জন্য সব থেকে ভাল জাতের আখ হলো ফিলিপাইন ব্যাক আখ।

ধান, গম বা সবজির দাম ভালো না পেয়ে প্রতি বছরই হতাশায় দিন কাটাতে হয় কৃষকদের। আর তাই কৃষকরাও ঝুঁকছেন বিকল্প ফসলের দিকে। উচ্চ ফলনশীল ও বিকল্প হিসেবে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার বটতলী ইউনিয়নের আইমঙ্গল গ্রামের এক চাষী। ২০ শতক জমিতে ফিলিপাইন ব্যাক আখ চাষ করে আশায় আছেন
সফলতার।

কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, বাজারে যে সকল আখ পাওয়া যায় অনেক সময় সেগুলো শক্ত, মিষ্টি কম ও রসকম হয়ে থাকে। কিন্তু ফিলিপাইন ব্যাক আখ সেই দিক দিয়ে বেশ ভালো জাতের আখ। এ আখের মিষ্টতা অনেক বেশি ও নরম থাকায় বৃদ্ধমানুষজন এই আখ অনায়াশেই চিবিয়ে খেতে পারে। বানিজ্যিকভাবে ফিলিপাইন ব্যাক আখ চাষ করে অল্প সময়ে অধিক মুনাফ অর্জন করা সম্ভব।

এই আখ চাষের জমি প্রস্তুত করতে উপযুক্ত জমিতে ৩ থেকে ৪ বার মই দিয়ে প্রস্তুত করতে হয়। পানি নিষ্কাশনের জন্য সুবিধা মত নালা কাটতে হয়। জমিতে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা থাকলে সব থেকে ভাল ফলন হয়। উঁচু ও মাঝারি উঁচু জমিতে, যে জমিতে পানি জমে থাকে না, এমন জমি নির্বাচন করতে হবে।

আরো জানা যায়, চিবিয়ে খাওয়ার যোগ্য আখ রোপণের উপযুক্ত সময় হলো অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত। আখের চারা রোপণের সর্বোত্তম সময় হলো মধ্য সেপ্টেম্বর থেকে মধ্য ডিসেম্বর। পোকা মাকড়ে ও রোগ বালাই, আখে সাধারণত ডগা-কান্ড মাজরা পোকা, উঁইপোকা লাল পচা রোগ হয়ে থাকে। কিন্তু ফিলিপাইন ব্যাক আখে এ সকল রোগ খুব একটা দেখা যায় না। আখের কাটিং লাগানের ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যেও অনকুর বের না হয় তাহলে হালকা সেচ দেওয়া ভালো।

আখ পরিপক্ক হতে সাধারণত ১২ থেকে ১৫ মাস সময় লাগে কিন্তু ফিলিপাইন ব্যাক আখ এক বছরেই বাজার জাত করা যায়। এ আখ অনেক নরম, হাতের নখ দিয়েও চামড়া ছাড়ানো যায়। অন্য যে কোন আখ থেকে এই আখের মিষ্টতা অনেক বেশি। এই আখ অনেক নরম হওয়ার কারণে কামড় দিলে রসে মুখ ভরে যায়। এই আখের বাজার মূল্য অনেক বেশি হওয়ায় কৃষকরা লাভবান হন।

চাষি মো. নেজাম উদ্দিন জানান, এই আখ চাষের জন্য অন্য আখ থেকে বেশি খরচ হয়ে থাকে। আখ নরম হওয়ার কারণে শিয়ালের হাত থেকে রক্ষা পাবার জন্য ক্ষেতের চারপাশে নেট দিয়ে বেড়া দিতে হয়। আখ বড় হলে বাঁশের খুটির সাথে বেধে দিতে হয় কারণ এই আখের উচ্চাতা অনেক বেশি। এ সকল কারণেই খরচটা একটু বেশি হয়।

এখন পর্যন্ত এর পরিচর্যা করে যাচ্ছি। আখ ক্ষেতে শারীরিক পরিশ্রম তেমন নেই। অন্যান্য ফসলে লোকসান হলেও আখ চাষে লোকসান হবে না, এটা নিশ্চিত করে বলা যায়। আমিই এলাকায় প্রথম ফিলিপাইন ব্যাক আখ চাষ শুরু করেছি। ২০ শতক জমিতে এখন পর্যন্ত ১০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে।

আনোয়ারা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাসানুজ্জামান বলেন, এবারের প্রথম দক্ষিণ চট্টগ্রামের আনোয়ারায়ফিলিপাইন ব্যাক আখ চাষ হচ্ছে। বাজারে যে আখ গুলো আমরা দেখতে পাই সেগুলা সাধারণত সবোর্চ্চ ১০ ফিট বা তার একটু বেশি হয়ে থাকে, কিন্তু ফিলিপাইন জাতের আখের উচ্চতা প্রায় দ্বিগুন হয় (২০ থেকে ২৫ ফুট)। মাটির গুণগত মান ভালো। যেকোনো ফসলের বীজ রোপণ করলেই ফলনও ভালো হয়। বর্তমানে ধান ও অন্যান্য শাক-সবজির পাশাপাশি আখ চাষ করে ভালো ফলন ও দাম পাওয়া যাবে। তাই আখ চাষের প্রতি আগ্রহী হচ্ছেন অনেক কৃষকরা।

তিনি আরো বলেন, আখ চাষে উৎসাহী করতে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। কোনো সাহায্য সহায়তা প্রয়োজন হলে কৃষকদের করবে কৃষি অফিস।

বার্তাবাজার/এসজে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর