আসন্ন পৌর নির্বাচন উপলক্ষে ঠাকুরগাঁওয়ে জমে উঠেছে ভোটের আলোচনা। পাড়ার টং থেকে শুরু করে নজনসমাগমস্থলে একমাত্র আলোচনার বিষয় “কে হচ্ছেন পরবর্তী নৌকার মাঝি”?
এরইমধ্যে বিএনপি তাদের দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করলেও সবাই তাকিয়ে রয়েছে কে পাচ্ছেন নৌকার মনোনয়ন। নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশী ডজনখানেক প্রার্থী থাকলেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন তিন থেকে চারজন। এর আগে পৌরপিতা সরকার দলীয় না থাকায় উন্নয়ন বঞ্চিত হয়েছেন এলাকার মানুষ। তবে এবার ভোটাররা আশা করছেন পৌর সভার উন্নয়ন কাজ পরিচালিত হবে সরকার দলীয় পৌর পিতার হাত ধরেই।
যে কয়জন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে তাদের মধ্যে এগিয়ে রয়েছেন জেলা যুব মহিলা লীগের সভাপতি ও গতবারের পরাজিত নৌকার প্রার্থী তহমিনা আখতার মোল্লা, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও রেলমন্ত্রীর ভাগ্নে আ. স. ম. গোলাম ফারুক রুবেল, জেলা আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক প্যানেল মেয়র আলহাজ্ব বাবলুর রহমান বাবলু এবং জেলা যুবলীগের সভাপতি আব্দুল মজিদ আপেল। এছাড়া অন্যান্য প্রার্থীরাও দলীয় সমর্থণ আদায়ে দেন দরবার অব্যাহত রেখেছেন।
এর আগে ভোটারদের সাথে জনসংযোগকালে নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশিরা জানান, মনোনয়ন পেলে ও নির্বাচনে জয়ী হলে ঠাকুরগাঁওকে একটি মডেল পৌরসভা হিসাবে গড়ে তুলতে চাই। পৌরসভাকে মাদকমুক্ত ও পরিচ্ছন্ন শহর গড়ে তুলব। পৌরবাসীর বিনোদনের জন্য একটি আধুনিক পৌর পার্ক প্রতিষ্ঠাসহ শিশুদের জন্য একমাত্র শিশুপার্কটি সংষ্কার করে যুগোপযোগী আধুনিক শিশুপার্ক নির্মাণ করা হবে।
উল্লেখ্য, বিগত মেয়াদে ঠাকুরগাঁওয়ে পৌর মেয়র বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের আপন সহোদর মির্জা ফয়সল আমিন তার মেয়াদে শহরের রাস্তাঘাটসহ ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নতি না হওয়ায় উন্নয়ন বঞ্চিত হয়েছে বলে মনে করেন পৌরবাসীর অনেকেই। তাই এবারে স্বেচ্ছায় মির্জা ফয়সল আমিন মেয়র প্রার্থী হিসেবে নিজেকে সরিয়ে নিলে অন্য প্রার্থীকে চূড়ান্ত করে জেলা বিএনপি।
এছাড়া, বিগত ৫ বছরে ১২জন পুরুষ ও ৪জন সংরক্ষিত নারী পৌর কাউন্সিলর আওয়ামী লীগ ও বিএনপি উভয় দল সমর্থিত প্রার্থীরাই ছিলেন। তবে দায়িত্বে থাকাকালে তেমন কোন দৃষ্টান্তমূলক কাজ করতে না পারায় তাদের প্রায় সবাই রয়েছেন বিপাকে। পৌর নির্বাচনের আগ মুহূর্তে অনেক এলাকায় সড়ক উন্নয়নের কাজকে পরবর্তী নির্বাচনে ভোট চাওয়ার কৌশল হিসেবে মনে করছেন তরুণ প্রার্থীরা। এসবকে কাজে লাগিয়ে জোরালোভাবে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন তরুণরা। দলীয় সমর্থণের জন্য তারাও দেন দরবার অব্যাহত রেখেছেন।