গত সপ্তাহ দুয়েক ধরে সকাল ৮টার দিকে লোডশেডিং শুরু হয়ে ফিরছে সন্ধ্যা ৬টায়। আবার সন্ধ্যায় ফিরলেও, ক্ষণে আসে ক্ষণে যায় অবস্থা। বিদ্যুতের এমন ভেলকিবাজিতে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট, বড়দল উত্তর, বড়দল দক্ষিণ ও শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের কয়েকটি বাজার ও গ্রামের লোকজন দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।
সুনামগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ অফিস সূত্রে জানা যায়, বিশ্বম্ভরপুর ও বাদাঘাট ৩৩ কেভির মেইন লাইনের বিদ্যুৎ আপডেট, লাইন ভাগ এবং ঠিকাদারি একটি প্রতিষ্ঠান বিদ্যুৎ বন্ধ রেখে পল্লী বিদ্যুতের মেইন লাইনের পুরাতন কাঠের খুটি পরিবর্তন করে পাঁকা খুটি স্থাপন করার কারনে বেশ কয়েকদিন ধরে এই সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। এ সমস্যা চলবে আরও কয়েকদিন। তবে দ্রুত সময়ের মধ্যে মেইন লাইন মেরামত করে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
বিদ্যুতের এমন ভেলকিবাজিতে অতিষ্ঠ ব্যবসায়ী রোকন মিয়া বার্তা বাজারকে বলেন, গত দুই সপ্তাহ যাবত ১২ ঘন্টা করে নিয়মিতভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ না থাকায় বিদ্যুৎ নির্ভর আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ক্ষতির মুখে দাঁড়িয়েছে।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হোসেন খান বার্তা বাজারকে বলেন, বিদ্যুতের লাইন মেরামত করা জরুরী। তবে সারাদিন বন্ধ না রেখে দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ করলে বাজারের বিদ্যুতের উপর নির্ভরশীল ব্যবসায়ীরা তাদের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমিয়ে আনতে পারতো।
তাহিরপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির পরিচালক মোর্শেদ আলম বার্তা বাজারকে বলেন, সুনামগঞ্জ থেকে বাদাঘাট আসা মেইন লাইনটি বিদ্যুৎ আপডেট করার কারনে বন্ধ রাখতে হচ্ছে। বর্তমানে এক উপজেলার বিদ্যুৎ দিয়ে দুই উপজেলায় বিদ্যুতের চাহিদা মেটানোর কারনে এমন সমস্যা হচ্ছে। সমস্যা নিরসনে গ্রাহকদের ধৈর্য ধারণ করার অনুরোধ জানান।
সুনামগঞ্জ পল্লী বিদ্যুতের জেনারেল ম্যানেজার অখিল কুমার শাহ বার্তা বাজারকে বলেন, বাদাঘাট ও বিশ্বম্ভরপুর ৩৩ কেভি বিদ্যুতের মেইন লাইন ভাগ করার কারনে দিনে লাইন বন্ধ রেখে কাজ করতে হচ্ছে। যার কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহ ঠিক মতো করা যাচ্ছে না। আপাতত জামালগঞ্জ থেকে বিদ্যুৎ এনে তাহিরপুর এলাকায় রাতে সরবরাহ করা হচ্ছে। দ্রুতই যেন বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা যায় এ চেষ্টা চলছে।
বার্তাবাজার/এ.আর