আবাসিক কটেজে অসামাজিক কার্যকলাপ, নারীসহ আটক ৫২

কক্সবাজার শহরের পর্যটন জোনের আবাসিক কটেজে অসামাজিক কর্মকান্ডের দ্বায়ে অর্ধ শতাধিক নারী-পুরুষকে আটক করেছে পুলিশ। এসময় উদ্ধার করা হয়েছে বেশ কিছু ইয়াবা। স্থানীয়দের অভিযোগ এসব অবৈধ কর্মকান্ডের নেপথ্যে রয়েছে এলাকার কাউন্সিলর ও তার সহোদর কাজী রাসেল।

শুক্রবার (৮ জানুয়ারি) রাতে ৫ ঘন্টা ব্যাপী অভিযান চালিয়ে কলাতলি হোটেল-মোটেল জোনের লাইট হাউজ এলাকার তিনটি কটেজে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৩১ জন নারী ও ২১ জন পুরুষ রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) রফিকুল ইসলাম।

তিনি বলেন, পর্যটন মৌসুমে কক্সবাজারের কিছু আবাসিক হোটেল মালিক ও ব্যবস্থাপকরা মিলে বিভিন্ন এলাকা থেকে নারীদের সংগ্রহ করে অসামাজিক কর্মকান্ড চালিয়ে আসছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে জেলা পুলিশের একটি দল আমির ড্রিম প্যালেস থেকে এক কর্মচারীসহ ৮ জন পুরুষ ও ২ জন নারী, মিম রিসোর্ট থেকে এক কর্মচারীসহ ১৩ জন পুরুষ ও ১৭ জন নারী এবং আজিজ গেস্ট ইন থেকে ১০ জন পুরুষ ও ২ জন নারীকে আটক করে। এসময় আজিজ গেস্ট ইন কটেজের রিসেপশন ডেস্ক থেকে ৩৬০ পিস ইয়াবা বড়ি জব্দ করা হয়।

ছবি- বার্তাবাজার

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) রফিকুল ইসলাম ‘বার্তা বাজার’কে বলেন- আটককৃতদের আজ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। এসব অপকর্মে জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

স্থানীয়দের দাবী, লাইট হাউজ এলাকায় সৈকত পাড়ায় দ্বীর্ঘ বছর ধরে অন্তত ডজন খানেক কটেজে পতিতা ব্যবসা নিয়ন্ত্রন করে আসছে লাইট হাউজ কটেজ মালিক সমিতির কথিত সভাপতি কাজী রাসেল নামের এক ব্যক্তি। তার ভাই স্থানীয় কাউন্সিলরের ক্ষমতা অপব্যবহার করে সে অবৈধ কর্মকান্ড নিয়ন্ত্রন করে আসছে। গত বছর মিমি নামের এক নারী ও যৌন উত্তেজক বড়ি এবং শতাধিক কন্ডমসহ আটক হয়ে জামিনে এসে ফের অপরাধ কর্মকান্ড শুরু করেছে।

এর আগে ২০১৭ সালে লাইট হাউজ এলাকায় কাজী রাসেলের চাঁদাবাজি, মাদক ও পতিতা ব্যবসার সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে কাজী রাসেলের আক্রমনের শিকার হয়েছিলো এক সাংবাদিক। তার অভিযোগ এসময় তার ক্যামেরা ও আইপড কেড়ে নিয়ে ভেঙ্গে ফেলেছে। এই বিষয়ে তার ভাই স্থানীয় কাউন্সিলর আগবাড়িয়ে বিষয়টি সমাধানে আশ্বাস দিয়ে কোন ব্যবস্থা গ্রহন করেনি।

সম্প্রতি যৌনকর্মীসহ আটক হন কাজী রাসেল

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন স্থানীয় হোটেল মালিক জানান, দাবীকৃত টাকা না পেলে কাউন্সিলর বাবু পুলিশ লেলিয়ে দেয়, পরে বাগে আসলে অভিযানের নাম থাকেনা। এভাবে পতিতা ব্যবসা বন্ধ করা সম্ভব না।

কাউন্সিলর কাজী মুর্শেদ বাবু বলেন- এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন। অসামাজিক কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে আমার পরিবার মামলার আসামী হয়েছে। এছাড়া তার ভাই কাজী রাসেল ষড়যন্ত্রের শিকার বলেও দাবী করেন।

বার্তাবাজার/পি/এসজে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর