সন্ধ্যে হলে হাতির হানা কর্ণফুলীর লোকালয়ে

খাবারের খোঁজে প্রায়ই আসছে হাতির দল। খেতের ফসলের পাশাপাশি ক্ষতি করছে ঘরবাড়িও। হাতির ভয়ে এখন রাতের ঘুম উড়ে যায়। জঙ্গল আর পাহাড়ে পর্যাপ্ত খাবার মিলছে না বলেই খাবারের খোঁজে লোকালয়ে আসছে হাতি। চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার বড়উঠান ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম-গঞ্জে কিছুদিন পরপর তাণ্ডব চালায় বন্য হাতির একটি দল।

সন্ধ্যায় পর একজোট হয়ে হাতি দল আক্রমণ করে। আক্রমণ প্রতিহত করার চেষ্টাও করে স্থানীয়রা। কিন্তুবন্য হাতির তাণ্ডবের নতুন নয়। প্রতিবছর হাতির পাল বেরিয়ে এসে গ্রামে ফসল ও ঘরবাড়ির ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে।

কেইপিজেড ও দেয়াঙ পাহাড়ে দিন দুপুরে কিন বা রাতে ঘুরে বেড়াতে দেখে সাধারণ মানুষ কয়েকটি হাতি। রাত হলেই লোকালয়ে ঢুকে বিভিন্ন গাছপালা ও স্থাপনা ভেঙে ক্ষতি করেছে প্রতিদিনই। গত মঙ্গলবার ভোর রাতে উপজেলার বড়উঠান ইউনিয়নের হাজী লাল মিয়ার বাড়ি হাতির একটি দল তাণ্ডব চালিয়ে মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন, আবু সৈয়দ, আমিনুর হক, মোহাম্মদ সালাম, বৃদ্ধ আসমা খাতুন মোহাম্মদ হোসেনের বসত ঘর, দেয়াল ভেঙে কয়েক শতক জমির ফসলি ধান নষ্ট করে। এছাড়াও একই গ্রামের নুরুল হকের পুত্র আবদুল করিম (৩৮) আক্রমণ করে গুরুত্বর আহত করে।

এর আগে উপজেলার চরলক্ষ্যা ইউনিয়নের আলী হোসেন মার্কেট এলাকায় ফজরের নামাজ পড়তে বাড়ি থেকে হজরত নেয়ামত শাহ জামে মসজিদে যাওয়ার পথে বন্য হাতির আক্রমণের মুখে পড়ে মুয়াজ্জিন হাফেজ মো. জরিফ আলী (৬০) তাঁর এক পা ও এক হাত ভেঙে যায়। অন্যদিকে কর্ণফুলী উপজেলার কোরিয়ান রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অ লে (কেইপিজেড) ও আশপাশের লোকালয়ে বন্য হাতির ভয়ে আতস্কে রাত কাটছে সাধারণ মানুষ। কয়েক মাস পরপর কেইপিজেডের পাহাড়ে অবস্থান নেয় হাতির দল। সন্ধ্যা নামলেই সড়কে ও লোকালয়ে চলে আসে। এই কারণে কেইপিজেডের দায়িত্বরত শ্রমিক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, নিরাপত্তা প্রহরী ও আশপাশের এলাকাবাসীরদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

ক্ষতিগ্রস্ত মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন জানায়, কিছুদিন পরপর কেইপিজেডের অবস্থান নেওয়া হাতি গুলো গ্রামে ঢুকে আমাদের ঘরে ভাঙংচুর করে ফসলি জমির ধান গুলো সব নষ্ট করে দিয়েছে। আমরা অসহায় কৃষকদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সরকারের কাছে আহবান করছি।
বড়উঠান ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য মোহাম্মদ মুছা বলেন, কেইপিজেডের পাহাড় থেকে আসা বন্য হাতির একটি দল লোকালয়ে ঢুকে বসতঘরে ভাঙংচুর, ফসলি জমির ধান নষ্ট ও মানুষদের উপর হামলা করছে। হাতি গুলো সরিয়ে নেওয়ার জন্য প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া আহবান করছি।

কর্ণফুলী উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহিনা সুলতানা বলেন, হাতি গুলোর বিষয়ে বন বিভাগ ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। আশা করি দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বার্তাবাজার/পি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর