দিনাজপুরে সাড়ে ৪ হাজারের বেশি গৃহহীন পরিবার পাচ্ছে সরকারি ঘর

দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার পূর্ব বাসুলী গ্রামের গেন বালা বৈশ্য একজন বিধবা ও ভিক্ষুক মহিলা। ৪৮ বছর বয়সী এই নারী অন্যের কাছে ভিক্ষাবৃত্তি করে জীবন পরিচালনা করছেন। থাকার মত ঘরটুকুও নেই! নিজের জমি জায়গা বলতেও কিছু নেই!

এবার তিনি দুই রুম বিশিষ্ট সরকারি জমিতে একটি আধাপাকা পূর্নাঙ্গ ঘর পাচ্ছেন। ঘর পেয়ে নিজের খুশি যেনো ধরে রাখতে পারছেন না তিনি। গেন বালা বৈশ্য জানালেন, হামার স্বামী নাই! থাকার মত কোন জায়গাও নাই। হামাক সরকার থাকি একটা বাড়ি তৈরি করে দেওছে! এই জীবনে ইটের বাড়িত থাকির পারিমো এটা কোনদিনও ভাবো নাই! আল্লাহ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভালো করুক।’ কথা গুলো বলতে বলতে চোখের কোণে জল এসে গেল গেন বালা বৈশ্যের। নতুন ঘরে সাঁজাবেন নতুন জীবন। এমনটাই প্রত্যাশা এই বয়স্ক ও বিধবা নারীর।

দিনাজপুরের ১৩টি উপজেলায় ৪ হাজার ৭৬৪টি গৃহহীন পরিবার পাচ্ছেন সরকারি জমিসহ একটি করে বাড়ি। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় সরকারি খাস জমিতে এসব বাড়ি নির্মাণের কাজ প্রায় শেষের দিকে। মুজিবশতবর্ষ উপলক্ষে ভূমি ও গৃহহীনদের জন্য এসব বাড়ি নির্মাণ করে দিচ্ছে সরকার। প্রতিটি বাড়ির বরাদ্দ ধরা হয়েছে ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, জেলার বোচাগঞ্জ উপজেলায় ৪৩০টি, পার্বতীপুরে ২৬২, বিরামপুরে ৪১৫, বিরলে ৫৫৬, কাহারোলে ১৩৯, ঘোড়াঘাটে ৫৬৭, খানসামায় ৪১০, নবাবগঞ্জে ২২৬, বীরগঞ্জে ৩৫০, চিরিরবন্দরে ২১৫, সদরে ২৮০, ফুলবাড়ীতে ৭৬৯ এবং হাকিমপুর উপজেলায় ১৪৫টি বাড়ি নির্মাণের কাজ উদ্বোধন করা হবে কিছুদিনের মধ্যেই। এসব কাজের তদারকি ও দেখভাল করছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও জেলা প্রশাসক নিজেই।

সরেজমিন কয়েকটি উপজেলায় গিয়ে দেখা মিলে হালকা বেগুনি রঙের টিনশেড দিয়ে দুটি শোবার ঘর, একটি রান্নাঘর, বারান্দা ও একটি ওয়াশরুম তৈরি করা হয়েছে। কোথাও রাস্তার পাশে আবার কোথাও রাস্তা থেকে খানিকটা দূরে সরকারি খাস জমিতে এসব বাড়ি নির্মাণ করা হয়েছে। আবার কোথাও সারিবদ্ধ ঘরের পর ঘর কোথাও আবার রাস্তা থেকে একটি দুটি করে বাড়ির দৃশ্যও চোখে পড়ছে।

বাড়ির কাজ পরিদর্শন করতে নিউ পাকেরহাট এলাকায় গিয়েছেন খানসামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহমেদ মাহবুব-উল ইসলাম। তিনি জানালেন, বাড়ির কাজ সঠিকভাবে আদায় করে নিচ্ছি আমরা। কোন বাড়ির কাজ খারাপ হলে সাথে সাথেই মিস্ত্রীকে বলে ঠিক করে নিচ্ছি। আমরা চাই সরকারের এই কাজের শতভাগ সফলতা। গরিব ও অসহায় মানুষের জন্য সরকারের এই উদ্যোগ গৃহহীনদের জন্য অনেক বড় পাওয়া। কাজের মান যাতে শতভাগ ভালো হয় আমরা সেদিকেই খেয়াল রাখছি।’

এ বিষয়ে দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক মো. মাহমুদুল আলম বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় সরকারি খাস জমিতে গৃহহীনদের জন্য আধাপাকা ঘর নির্মাণের কাজ চলছে। দিনাজপুরে প্রথম পর্যায়ে ৪ হাজার ৭৬৪টি গৃহহীন পরিবার এসব বাড়ি পাচ্ছেন। বাংলাদেশের অন্যান্য জেলার তুলনায় দিনাজপুরে ঘরের সংখ্যা বেশি। মুজিববর্ষ উপলক্ষে গৃহহীনদের জন্য এসব ঘর নির্মাণের কাজ প্রায় শেষের দিকে। আমি নিজেও বিভিন্ন উপজেলায় গিয়ে এসব ঘরের কাজ পরিদর্শন করছি। এছাড়াও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাগণ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকগণ এসব বাড়ি নির্মাণের তদারকি করছে। প্রতিনিয়তই বিভিন্ন উপজেলায় গিয়ে সরেজমিন বাড়ির কাজ দেখভাল করছি। ইতোমধ্যেই আমরা প্রায় কাজ শেষ করেছি। অল্প কিছুদিনের মধ্যেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এসব বাড়ি উদ্বোধন করবেন বলেও জানান তিনি।‘

বার্তাবাজার/পি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর