গর্ভপাতে রাজি না হওয়ায় স্ত্রীকে শারীরিক নিযার্তনের অভিযোগে যশোর জেলা যুবলীগের প্রচার সম্পাদক হোসেন মিলন ওরফে টাক মিলনসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মঙ্গলবার(৫ জানুয়ারি) রাতে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে কোতোয়ালি থানার ওসি মোঃ মনিরুজ্জামান জানান, সোমবার(৪ জানুয়ারি) রাতে জাহিদ হোসেনের বিরুদ্ধে ২য় স্ত্রী সোনিয়া খাতুন মামলা দায়ের করেন।
মামলার আসামিরা হলেন, যুবলীগ নেতা জাহিদ হোসেন মিলন, তার প্রথম স্ত্রী সাথী বেগম, মেয়ে অন্তরা ও পুলিশ লাইন টালিখোলা এলাকার বাসিন্দা উজ্জল হোসেন।
মামলায় বাদীর অভিযোগ, গত ১৩ বছর আগে যুবলীগ নেতা মিলন নড়াইল সদরের খাশিয়াল গ্রামের মোল্লা ইউনুস আলীর কন্যা সোনিয়াকে বিয়ে করেন। কিন্তু সোনিয়া জানতেন না তার স্বামীর স্ত্রী-সন্তান আছে। বিয়ের তাকে বিভিন্ন যায়গায় বাড়ি ভাড়া করে তাকে রাখেন।
২০২০ সালের ১৯ ডিসেম্বর সোনিয়া অসুস্থবোধ করলে তাকে তার স্বামী যশোর সার্কিট হাউসের সামনের ল্যাবএইড হাসপাতাল অ্যান্ড মেডিকেল সার্ভিসে নিয়ে গেলে সেখানে আল্ট্রাসনোগ্রাম করার পর চিকিৎসক তাকে জানান, তিনি ১ মাস ২ দিনের গর্ভবতী। পরে বাসায় ফেরার পথে তার স্বামী জাহিদ হোসেন মিলন তাকে গর্ভের সন্তান মেরে ফেলার জন্য বিভিন্নভাবে প্রলোভন ও ভয়ভীতি দেখান। কিন্তু তিনি তার স্বামীর এই প্রস্তাবে রাজি হন নি। এরই একপর্যায়ে গত ৩ জানুয়ারি রাত সাড়ে ৭টার দিকে মামলার ৪ নম্বর আসামি উজ্জ্বল হোসেন তার বাসায় যান এবং তাকে স্বামী জাহিদ হোসেন মিলনের নিজস্ব বাড়িতে যাওয়ার অনুরোধ করেন।
পরে উজ্জ্বল হোসেনের সঙ্গে স্বামী জাহিদ হোসেন মিলনের বাড়িতে যান। ৪ তলার ৩য় তলায় গিয়ে সেখানে তিনি তার স্বামী জাহিদ হোসেন মিলন, প্রথম স্ত্রী সাথী বেগম ও মেয়ে অন্তরাকে দেখতে পান। তারা এ সময় তাকে গর্ভের সন্তান মেরে ফেলার জন্য ভয়ভীতি দেখালে তিনি এতে রাজি হননি। এ কারণে সাথী বেগম ও তার মেয়ে অন্তরা তাকে চড় থাপ্পড় ও লাথি মারেন। চুলের মুঠি ধরে তাকে টানাহেঁচড়া করেন এবং লাঠি দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। এ ছাড়া তারা একাধিকবার তার তলপেটে আঘাত করার চেষ্টা করেন। তার সঙ্গী আরিফ হোসেন তাকে রক্ষা করার চেষ্টা করলে তাকেও মারধর করা হয়।
এর পরও গর্ভের সন্তান মেরে ফেলতে রাজি না হলে তাকে খুন জখমের হুমকি দেয়া হয়। অবশেষে তিনি এ ব্যাপারে মামলা করেছেন।
বার্তাবাজার/পি/এসজে