১৯৭৯ সালের পহেলা জানুয়ারী গঠিত হয় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। শিক্ষা-ঐক্য-প্রগতি এই স্লোগানকে ধারণ করে দলটি গঠিত হলেও সেই ‘ঐক্যই’ নেই দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলে।
দীর্ঘ একযুগের ও বেশি সময় ধরে ক্ষমতার বাইরে থাকা জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি যেখানে সরকাল দলের সাথে পাঙ্গা নিতে হিমশিম খাচ্ছে সেখানে দলের সংকট থেকে উত্তরণে ঐক্যের পরিবর্তে একাধিক গ্রুপ-উপগ্রুপে বিভক্ত দক্ষিণ সুনামগঞ্জ ছাত্রদল। দীর্ঘদিন ধরে কমিটিবিহীন থাকা এই উপজেলা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা প্রতিপক্ষ দলকে প্রতিহতের পরিবর্তে দলীয় কোন্দলে কোনঠাসা। বিভিন্ন সময়ে কেন্দ্রীয় কর্মসূচীর নির্দেশনা আসলে তা সম্মিলিতভাবে পালনের পরিবর্তে পৃথক ব্যানারে মিটিং-মিছিল কর্মসূচী করে আসছেন উপজেলা ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ।
সর্বশেষ গেল রবিবার (৩ জানুয়ারী) ছাত্রদলের ৪২ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীও পৃথকভাবে পালন করেছেন উপজেলা ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ। পৃথক কর্মসূচীতেই থেমে থাকেননি তারা। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে স্ব স্ব গ্রুপের অবস্থান নিতে উপজেলা ছাত্রদলের ২ গ্রুপের নেতৃবৃন্দ মারমুখী অবস্থান নিতে পারেন এমন বার্তা ছিল পুলিশ প্রশাসন ও ক্ষুদ ছাত্রদলেই। ফলে কোনোরকম অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে কঠোর অবস্থানে ছিলো থানা পুলিশ। ওইদিন ছাত্রদলের কোনোরুপ মিছিলের অনুমতি দেয়নি প্রশাসন। তবে পুলিশের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে একটি গ্রুপ উপজেলার পাগলা বাজারে এবং অপর গ্রুপ পাগলা বাজারে সুবিধা করতে না পেরে উপজেলার জয়কলস ব্রিজ সংলগ্ন হাইওয়ে রোডে পৃথক মিছিল বের করে। পাগলা বাজারে মিছিলের নেতৃত্ব দেন ছাত্রদল নেতা জসিম বক্স, শাহাদাত হোসেন কামরান ও ওবায়দুল করিম মাসুম। অপর গ্রুপের নেতৃত্ব দেন ছাত্রদল নেতা মানসুর আহমদ ও মাহবুবুর রহমান সাফওয়ান।
এদিকে উপজেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণা হতে পারে চলতি মাসের যেকোনো দিন। এনিয়ে প্রতিটি গ্রুপের নেতৃবৃন্দরা দৌড়ঝাঁপ করছেন স্থানীয় পর্যায় থেকে শুরু করে কেন্দ্র পর্যন্ত।
এমন বাস্তবতায় ছাত্রদলের গ্রুপিং রাজনীতির বিষয়ে জানতে ছাত্রদলের একটি গ্রুপের নেতৃত্বে থাকা মানসুর আহমদের সাথে কথা হলে তিনি জানান, কমিটিতে মুল্যায়ন পেতে একটি প্রতিযোগিতা চলে আসে। সেদিক থেকে আমরা পৃথকভাবে মিটিং-মিছিল করছি। তাছাড়া এখানে বিএনপির বলয়ভিত্তিক একটা প্রভাব পড়ায় গ্রুপিং সৃষ্টি হয়েছে। তবে সব নেতাকর্মীদের স্বদিচ্ছায় আমরা যেকোনো সময় ঐক্যবদ্ধভাবে কর্মসূচী পালন করতে পারবো।
অপর গ্রুপের নেতৃত্বে থাকা ছাত্রদল নেতা শাহাদাৎ হোসেন কামরান জানান, কেন্দ্রীয় কর্মসূচীর অংশ হিসেবে আমরা আমাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। আমরা চাই ছাত্রদলের সকল নেতৃবৃন্দ একটি প্লাটফর্মে থেকে দলের কার্যক্রম চালিয়ে যাই। কিন্তু কেউ যদি নিজ থেকে গ্রুপিং রাজনীতি তৈরি করে পৃথক কর্মসূচী পালন করে সেক্ষেত্রে আমাদের কিছু করার নেই। আমি চাইবো সবাই যেনো একসাথে দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নেন।
অন্যদিকে বাংলাদেশের প্রাচীনতম রাজনৈতিক ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগের ৭৩ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী (৪ জানুয়ারী)। ৬ যুগের ও বেশি সময় পথচলায় স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্র সৃষ্টিতে প্রাচীনতম এ সংগঠনের অবদান অনেক। প্রাচীনতম এই সংগঠনের অর্জনের সাথে আছে দুর্নামও। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকান্ডে দেশব্যাপী সমালোচিত ও হয়েছে সংগঠনটি। বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় রয়েছে একাধিক গ্রুপ-উপগ্রুপ ও। তবে এদিক থেকে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ ছাত্রলীগ সম্পুর্ণ ব্যতিক্রম।
পরিকল্পনামন্ত্রী এম. এ মান্নানকে ঘিরে ঐক্যবদ্ধ উপজেলা ছাত্রলীগ। পরিকল্পনামন্ত্রীর একান্ত রাজনৈতিক সচিব হাসনাত হোসাইনের দিকনির্দেশনায় একযোগে সভা-সমাবেশ করে আসছেন উপজেলা ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ। উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নের নতুন কমিটি নিয়ে তৎপর উপজেলা নেতৃবৃন্দ। ইতিমধ্যে উপজেলার দু’টি ইউনিয়নে নতুন কমিটিও ঘোষণা দিয়েছে উপজেলা ছাত্রলীগ। এছাড়া পরিকল্পনামন্ত্রীর প্রতিটি রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ সফল করতে উপজেলা ছাত্রলীগের কর্মতৎপরতা চোখে পড়ার মতো।
সর্বশেষ গতকাল সোমবার ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সম্মিলিতভাবে নানা কর্মসূচীর উদোগ নেয় উপজেলা ছাত্রলীগ। সর্বশেষ সোমবার (৪ জানুয়ারী) ছাত্রলীগের ৭৩ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে নানা কর্মসূচি পালন করে উপজেলা ছাত্রলীগ।
এব্যাপারে কথা হলে উপজেলা ছাত্রলীগে কোনো গ্রুপিং-কোন্দল নেই উল্লেখ করে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেন তালুকদার বলেন, পরিকল্পনামন্ত্রী মহোদয়ের দিক নির্দেশনায় বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মানে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ ছাত্রলীগ ঐক্যবদ্ধ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়ন কর্মযজ্ঞ অব্যাহত রাখতে আমরা ছাত্রলীগ পরিবার এভাবেই একসাথে কাজ চালিয়ে যাবো।
বার্তাবাজার/এ.আর