চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির মাইজভান্ডাস্থ দারুচ্ছালাম ঈদগাহ মাদ্রাসা নির্মাণকে কেন্দ্র ভাংচুর ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে ৫ জন গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ৯ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
সোমবার (৪ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে স্থানীয় যুবলীগ নেতা হাসান প্রকাশ পাঠান হাসানের নেতৃত্বে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
আহত ও গুলিবিদ্ধদের স্থানীয়রা উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছেন।
আহতরা হলেন- নানুপুরের মোবারক আলী পন্ডিত বাড়ির আব্দুল গাফফারের ছেলে মুহাম্মদ নুরুদ্দিন (২৫), মুহাম্মদ আজমের ছেলে মুহাম্মদ মুজিবুল্লাহ (২৩), মুহাম্মদ জানে আলমের ছেলে মুহাম্মদ এমরান (২৬), আব্দুর রশীদের ছেলে মুহাম্মদ বাহাদুর (৬৫), আবুল কাসেমের ছেলে মুহাম্মদ জুবাইর (২৭), আরাফাত (২৮), আজগর উল্লাহ (২৫), গুর মিয়া (২৮) ও আফাজ (৪৫)।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নানুপুর ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা হাসান দেশীয় অস্ত্র-সস্ত্র ও ২০/২৫ সদস্যের একদল সাঙ্গ-পাঙ্গ নিয়ে মাদ্রাসায় অতর্কিতভাবে ভাংচুর করে লুটপাট করে, আমরা বাঁধা দিলে এলোপাতারী গুলি চালায় এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা করে।’
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত যুবলীগ নেতা হাসানের বক্তব্য জানতে তাকে একাধিকবার ফোন করা হলেও মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
জানা যায়, স্থানীয় দারুচ্ছালাম ঈদগাহ মাদ্রাসা নির্মাণকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিলো। একটি পক্ষ চাইছে মাদ্রাসা নির্মাণ করতে, আরেকটি পক্ষ সরকারী খাস জায়গায় মাদ্রাসাটি নির্মাণ হচ্ছে এমন অভিযোগে মাদ্রাসা নির্মাণের বিরোধীতা করে আসছে। মূলত এর জের ধরেই ঘটনার সূত্রপাত ঘটেছে বলে জানা যায়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ফটিকছড়ি থানার ওসি রবিউল হোসেন বলেন, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছি। অনেকেই গুলিবিদ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে। কে গুলি করেছে, কেন করেছে সবকিছু তদন্ত করে দোষীদের অবশ্যই আইনের আওতায় আনা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সায়েদুল আরেফিন বলেন, মসজিদ নির্মাণকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। প্রয়োজনীয় আইনানুগ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
বার্তাবাজার/এ.আর