আজ ২রা জানুয়ারি। স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রদূত এম হোসেন আলীর ৪০ তম মৃত্যুবার্ষিকী। মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে কোলকাতায় পাকিস্তান দূতাবাসে তখনকার পাকিস্তানি সরকারের প্রতি বিদ্রোহ করেন তিনি।
পরবর্তীতে কোলকাতার ডেপুটি কমিশনার থাকার সময় সেই দূতাবাসেই স্বাধীন দেশের পতাকা উত্তোলন করেন তিনি। তবে এখনও উপেক্ষিত রয়ে গেছে দেশের এই বীর সন্তানের অবদান। নতুন প্রজন্মের বেশিরভাগই হয়ত জানেনা উনার কথা।
মুক্তিসংগ্রামের বছর পাকিস্তান দূতাবাসের ৬৫ জন কর্মী নিয়ে মুজিবনগর সরকারের প্রতি আনুগত্য জানান তিনি। পাকিস্তানি পতাকা নামিয়ে উত্তোলন করেন বাংলাদেশের পতাকা। তখন আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয় ঘটনাটি।
বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে পাকিস্তানি দূতাবাসকে রুপান্তরিত করেন বাংলাদেশ দূতাবাস হিসেবে। আর এম হোসেন আলী জ্যৈষ্ঠ কূটনীতিক হিসেবে নিয়োগ পান মুজিব নগর সরকারের পক্ষ থেকে। মুক্তিযুদ্ধ সংশ্লিষ্ট প্রায় সবাই জানে এম হোসেন আলীর অসামান্য অবদানের কথা।
৭১ এর ২৫ মার্চ ঢাকাজুড়ে গণহত্যা চালানোর পরে পাকিস্তানিদের প্রতি এম হোসেন আলীর মনে জেগে উঠে তীব্র ক্ষোভ। সিদ্ধান্ত নেন, আর পাকিস্তানের অধীনে চাকরি করবেন না। ১৭ এপ্রিল মুজিব নগর সরকার শপথ নিলে সেদিনই এম হোসেন আলী সিদ্ধান্ত নেন তার সহকর্মীদের নিয়ে অবাঙালিদের দূতাবাস থেকে বের করে দিয়ে বাংলাদেশ দূতাবাস প্রতিষ্ঠার। করেনও তাই।
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে বাংলাদেশ মিশন ছিল প্রবাসী সরকারের কেন্দ্রবিন্দু। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের সাথে এই দপ্তর থেকেই সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করা হতো। আন্তর্জাতিক সহায়তা ও সমর্থন জোগাতে এম হোসেন আলীর প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ দূতাবাস যে ভূমিকা রেখেছে তা অনস্বীকার্য। তিনি তখন সকল বিতর্কের উর্ধ্বে অবস্থান করেছেন।
দেশ স্বাধীন হলে ১৯৭২ সালে স্বাধীন দেশের তথ্য সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে নিয়োগ লাভ করেন। এরপরের বছর মার্কিন মুল্লুকে প্রথম বাংলাদেশি রাষ্ট্রদূত হিসেবে তিনি নিযুক্ত হন। ১৯৭৬-৭৯ সাল পর্যন্ত ছিলেন জার্মানির রাষ্ট্রদূত। পরে হন কানাডার হাইকমিশনার।
১৯২৩ সালের ১ ফেব্রুয়ারি পাবনার ভাঙ্গুড়ায় জন্ম নেওয়া এই বিখ্যাত ব্যাক্তি ১৯৪৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়ন বিভাগে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। পরে ১৯৪৮ সালে করাচি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনে স্নাতক পাশ করার পরের বছর সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় উর্ত্তীর্ণ হয়ে যোগ দেন পাকিস্তান ফরেন সার্ভিসে।
বিভিন্ন দেশের নামকরা প্রতিষ্ঠান থেকে বিভিন্ন বিষয়ে ডিগ্রি লাভের পাশাপাশি কূটনৈতিক দায়িত্বও পালন করেছেন। এর মাঝে আছে কানাডা, ভারত, জার্মানি, অস্ট্রেলিয়া, মিয়ানমার, হল্যান্ড, বৃটেন, সৌদি আরব, তুরস্ক, বেলজিয়াম প্রভৃতি।
দেশের জন্য অপরিসীম অবদান রাখা মহান এই ব্যক্তি ১৯৮১ সালের ২ জানুয়ারি কানাডায় রাষ্ট্রদূত হিসেবে কর্মরত অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। কানাডার অটোয়াতে থেকে দাফন করা হয়।
বার্তাবাজার/এসজে