দেশে গত ২০২০ সালে মানবাধিকার পরিস্থিতি উদ্বেগজনক বলে জানিয়েছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)। এই মানবাধিকার সংগঠনের মতে করোনাকালেও দেশে থেমে যায়নি অপরাধের সংখ্যা। এমনকি আইন শৃঙ্খলার দায়িত্বে থাকা বাহিনীগুলোও করেছে অনেক হত্যাকাণ্ড।
বৃহস্পতিবার (৩১ ডিসেম্বর) অনলাইনে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানায় সংগঠনটি। বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তারা একটি প্রতিবেদনও তৈরী করে।
প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, বিগত ২০২০ সালে দেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাদক বিরোধী অভিযান ও ক্রসফায়ারে নিহত হয়েছেন ৩০০ জন। এছাড়া তাদের হেফাজতে থেকেও প্রাণ হারিয়েছেন ১১ জন মানুষ। গ্রেফতার করে আনার আগে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে নির্যাতনের শিকার হয়ে পাঁচ জন নিহত হয়। একইভাবে গুলিতে মারা যায় ৮ জন।
এছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে অপহরণ করার পর গুম হয়েছেন ৮ জন।
বিগত বছরে সারাদেশে ধর্ষণ ও গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন ১ হাজার ৬২৭ জন নারী। এদের মাঝে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ৫৩ জনকে। ধর্ষণের শিকার হয়ে অপমানে আত্মহত্যা করেছেন এমন নারীও আছেন ১৪ জন।
পারিবারিক নির্যাতনে প্রাণহানিও কম হয়নি বিগত বছরে। ৩৬৭ নারী মারা গেছেন পারিবারিক নির্যাতনে। এছাড়া যৌতুক, শালিস ও অ্যাসিড নিক্ষেপের মত ঘটনাও কম ছিল না।
নির্যাতন, ধর্ষণসহ বিভিন্নভাবে ২০২০ সালে হত্যা করা হয়েছে দেশের ৫৮৯ জন শিশুকে। নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ১ হাজার ১৮ জন। যৌন হয়রানি হয়েছে ২৭৯ শিশুর ওপর। তাছাড়া বিগত বছর দেশের ৫২ ছেলে শিশু শিকার হয়েছেন বলৎকারের মত বিকৃত নির্যাতনের। এই ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৩ জন।
বিগত ২০২০ সালে আইন আদালতের মাঝে সবচেয়ে বেশি ঘটনা ঘটেছে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে। এই আইনে দেশে ১২৯টি মামলা হয়েছে। আসামি হয়েছেন ২৬৮ জন। এছাড়া বিগত বছরে ২৪৭ সাংবাদিক বিভিন্নভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। হত্যা করা হয়েছে ২ জনকে।
বার্তাবাজার/এসজে