কেফায়াত ডাকাতের গুলিতে টেকনাফে যুবলীগ নেতা নিহত

নতুন বছরের প্রথম ভোরে কক্সবাজারের টেকনাফে কুখ্যাত ডাকাত শাকেরের সহযোগী কেফায়াত উল্লার গুলিতে নিহত হয়েছে যুবলীগ নেতা উসমান সিকদার (৩৫)। মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।

আজ ভোরে উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের কচুবনিয়া স্কুল সড়কে আবুল হাশেমের বাড়ির সামনে এই ঘটনা ঘটে। নিহত উসমান একই ইউনিয়নের কচুবনিয়া মোহাম্মদ আলীর ছেলে।

প্রতিবেশী মৌলানা ইসমাঈল বার্তা বাজারকে জানান, আজ ভোরে ফজরের নামাজ শেষে কয়েকজন মুসল্লীসহ বাড়ী ফেরার পথে কচুবনিয়া স্কুল সড়কে আবুল হাশেমের বাড়ির সামনে উসমানকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পায়। উদ্ধার করতে গেলে কেফায়েত উল্লাহ গুলি করেছে বলে জানায়। এসময় হাসপাতালে নেয়ার পথে ঘটনা স্থলের অদূরে একটি সূচালো স্টীলের রড হাতে ঘাতক কেফায়েত উল্লাহকে দেখতে পেয়ে হামলার কারন জানতে চাওয়া হয়। সে হামলার কথা স্বীকার করে এবং তাদের সামনেই শাকেরকে ফোন করে উসমানকে শেষ করে দিয়েছে বলে জানিয়েছে। উপস্থিত মুসল্লিরা আটকাতে চাইলে সে পালিয়ে যায়। পরে হাসপাতালে নেয়ার পথে উসমানের মৃত্যু হয়।

টেকনাফ হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, লাশের বুকে দুটি গুলির চিহ্ন রয়েছে।

ঘটনার কারন অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত ১২ ডিসেম্বর সাবরাং ইউনিয়নের কাটাবনিয়া এলাকার আবুল কাশেমের ছেলে ডাকাত শাকেরের সহযোগী কেফায়েত উল্লাহ উসমানের বাগান থেকে সুপারি চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে কেফায়েত উল্লাহর সাথে উসমানের বিরোধ চলছে। এই ঘটনার দুই দিন আগে একই গ্রামের পারভীনের একটি ইজিবাইক চুরি করে কেফায়েত। এই চুরির ঘটনা প্রমানিত হলে এতে শাকেরের সংশ্লিষ্টতা উঠে আসে। স্থানীয় ইউপি মেম্বার জাফর আহমদের শালিসে কেফায়েত উল্লাহর বাবা আবুল কাশেম টমটম ফেরত দেবে বলে একটি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করে। বিচার চলাকালীন মেম্বারের উপস্থিতিতে ডাকাত শাকের উসমানের উপর অতর্কিত হামলা চালায়।

ঘটনার পরের দিন সকালে শাকেরের চাচা ছৈয়দ মেম্বারের ছেলে গফুরের নেতৃত্বে তার বাবা, মঞ্জুর, শরিফসহ বেশ কয়েক জনকে নিয়ে শালিসে বসে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান নূর হোসেন। এসময় চেয়ারম্যান শালিসে ডাকাত শাকেরকে হাজির করার জন্য বলে। একজন সিআইপির নির্দেশে গফুর শাকেরকে বিচারে হাজির করেনি বলে জানিয়েছে স্থানীয় নির্ভর‍যোগ্য সূত্র।

পরের দিন ২৭ ডিসেম্বর এই ঘটনায় উসমান বাদী হয়ে টেকনাফ থানায় একটি লিখিত অভিযোগের সূত্র ধরে পুলিশ অভিযুক্তদের আটকের চেষ্টা চালায়। সূত্র জানায়, এতে ক্ষিপ্ত হয়ে গতকাল শাকেরের পিতা আব্দুর রহমান উরুফে খুইল্যা মেম্বার উসমানকে মেরে ফেলবে বলে জনসম্মুখে হুমকি দেয়।

স্থানীয়দের দাবী, মূলত ডাকাত শাকেরের নেতৃত্বে ঘাতক কেফায়েত, সালাম মিস্ত্রী, সেলিম উরুফে কুত্তা সেলিম, মঞ্জুরসহ দুই ডজন সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা এলাকাটিকে ভয়ংকর করে তুলেছে। গফুর ওই সিআইপি ও তার ভাই আওয়ামী লীগ নেতার ক্ষমতার জোরে ডাকাত শাকেরকে নিয়ন্ত্রন করে। গত বছর ৭টি মামলা নিয়ে ডাকাত শাকের পুলিশের হাতে আটক হয়ে ওই সিআইপির তদবিরে পার পেয়ে যায় নিরাপদে।

তবে গফুরের দাবী, শাকেরের মতো বিভিন্ন এলাকার অপরাধীদের নিয়ন্ত্রন করে সিআইপি। সিআইপি ও শাকেরের সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই।

টেকনাফ থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান বার্তা বাজারকে বলেন, লাশ উদ্ধার করে মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। অভিযোগ হাতে পেলেই অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনা হবে।

বার্তাবাজার/এ.আর

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর