আজ সোমবার রাত ১১:১৫, ২৩শে অক্টোবর, ২০১৭ ইং, ৮ই কার্তিক, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, ২রা সফর, ১৪৩৯ হিজরী

পুলিশের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও গণ হয়রানির অভিযোগ

নিউজ ডেস্ক | বার্তা বাজার .কম
আপডেট : জুন ১৪, ২০১৭ , ৯:২৪ অপরাহ্ণ
ক্যাটাগরি : আদালত,লিড নিউজ
পোস্টটি শেয়ার করুন

ঠাকুরগাঁও: ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ এলাকার জগন্নাথ নামক  গ্রামে সাড়ে তিন’শ একর খাস জমি একটি কোম্পানিকে পাইয়ে দেয়ার জন্য ভুমিহীনদের গণ হয়রানি ও চাঁদাবাজির করার অভিযোগ  উঠেছে ওই গ্রামের অস্থায়ী ক্যাম্প পুলিশের বিরুদ্ধে। পুলিশের হয়রানির ভয়ে ওই গ্রামের  অধিকাংশ মানুষ র্নিঘুম রাত কাটাচ্ছে।

জাবরহাট ইউপির করণাই গ্রামের স্কুল শিক্ষক রফিকুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে গত ২৬ মে পুলিশ ক্যাম্প বসানো হয়েছে। তবে আমরা শান্তির বদলে চরম অশান্তিতে দিন কাটাচ্ছি। তিনি জানান, তার গ্রামের দুই ভুট্টা ব্যবসায়ীকে ঠুনকো অভিযোগে পুলিশ ক্যাম্পে দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আটকে রাখা হয় । পরে মোটা অংকের বিনিময়ে ছাড়া পায় ওই দুই ব্যবসায়ী জামাল ও কামাল। এ ঘটনার কয়েকদিন পর পুলিশ জগন্নাথপুর গ্রামের ভুট্টা ব্যবসায়ী মো. রুবেলকে মিথ্যে অভিযোগে রাত ১১টায় তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে জোড় করে ধরে নিয়ে যাচ্ছিল। ওই সময় স্থানীয়দের প্রতিবাদে রুবেলকে ছেড়ে দেয় পুলিশ এবং ভুল স্বীকার করে। এরপর ওই গ্রামের কলেজ শিক্ষক রেজাউল করিমকে পুলিশ হয়রানি করে ।

বৈরচুনা ইউপির চেয়ারম্যান জালালউদ্দিন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, পুলিশ এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করেছে। তিনি জানান, একটি কোম্পানির হয়ে পুলিশ ক্যাম্প বসেছে। ওই এলাকায় প্রায় ৩শ থেকে সাড়ে তিন’শ  একর খাস খতিয়ান ভুক্ত কৃষি-অকৃষি জমি রয়েছে। এই জমিতে ২ শতাধিক বাস্তু হারা পরিবার ৫০-৬০ বছর ধরে বাস করে আসছে। তাদের জোড় করে উচ্ছেদ করে সরকারি সম্পতি দখলে নিতে চায় ওই কোম্পানি। এ কারণে সেখানে ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে পুলিশ। একই মত প্রকাশ করেন জনসংগঠন নামে  স্থানীয় একটি সামাজিক ও মানবাধিকার সংগঠনের প্রতিনিধি রমজান আলী। তিনি বলেন তৎকালীন ইষ্ট ইন্ডিয়ার  আদলে এলাকায় একটি কোম্পানি বসেছে। এই কোম্পানির সহযোগি হিসেবে পুলিশ ভাড়াটে হিসেবে মাঠে নেমেছে।

জানা গেছে, সাতচল্লিশে দেশ ভাগের সময় উপজেলার বৈরচুনা ইউপির জগন্নাথপুর মৌজার তৎকালীন জমিদার পৃথি সিংহ নাহার এ সম্পত্তি ছেড়ে ভারতে পাড়ি দেন। এরপর এই পড়ে থাকা জায়গা-জমির ঝোঁপ জঙ্গল পরিস্কার করে বসতি গড়ে তোলে বাস্তুহারা পরিবারগুলো। এই সম্পত্তি হাতিয়ে নিতে এখন বে-এগ্রো নামে একটি কোম্পানি তোড়জোর শুরু করেছে ।

এ বিষয়ে পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিরুল ইসলাম বলেন, ক্যাম্পের বিষয়টি কর্তৃপক্ষ জানে। তবে হয়রানির বিষয়টি দেখছি।

তিনি  জানান, ওই ক্যাম্পের  ইনর্চাজ বক্করকে সড়িয়ে নেয়া হয়েছে ।