দেশের প্রথম নৌকা জাদুঘর উদ্বোধন

বরগুনায় দেশের প্রথম নৌকা জাদুঘরের উদ্বোধন করা হয়েছে। জাদুঘরের উদ্বোধন করেন বিশেষ অতিথি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন, ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর কবীর, এবং সভাপতি বরগুনা জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ, ও জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর মল্লিক।

বৃহস্পতিবার বেলা ৩ টায় বরগুনা নৌকা জাদুঘরের ( বঙ্গবন্ধুর নৌকা জাদুঘর ) উদ্বোধন করা হয়।

এ সময় বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বঙ্গবন্ধু নৌকা যাদুঘর নির্মাণ কমিটির আহ্বায়ক অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক জালাল উদ্দিন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আশ্রাফুল ইসলামসহ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা এবং বরগুনা পৌরসভার মেয়র শাহাদাত হোসেন।

অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বরগুনা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি অ‍্যাডভোকেট এম. মুজিবুল হক কিসলুসহ অন্যান্য রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ ও এনজিও কর্মী এবং বিভিন্ন মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।

বিলুপ্ত হওয়া একশ ধরনের নৌকা স্থান পেয়েছে এ জাদুঘরে। বরগুনা জেলা প্রশাসন মুজিববর্ষ উপলক্ষে নৌকা জাদুঘর তৈরি করেছে । এই জাদুঘরের নাম রাখা হয়েছে ‘বঙ্গবন্ধু নৌকা জাদুঘর।

বিগত ০৮ অক্টোবর ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন বরিশাল বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার ড. অমিতাভ সরকার। ভিত্তি প্রস্তর স্থাপনের মাত্র ৮১ তম দিনে জাদুঘরের নির্মাণ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। বরগুনার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জনাব মােস্তাইন বিল্লাহ বঙ্গবন্ধু নৌকা জাদুঘরের নামকরণ, পরিকল্পনা এবং বাস্তবায়ন করেন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এঁর জন্মশতবার্ষিকী (মুজিববর্ষ) উপলক্ষ্যে বরগুনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সংলগ্ন ৭৮ শতাংশ জায়গা জুড়ে জাদুঘরটি নির্মাণ করা হয়েছে। ১৬৫ ফুট দৈর্ঘ্য এবং ৩০ ফুট প্রস্থের নৌকার আদলে

নির্মিত জাদুঘরটি দূর থেকেই দেখা যাবে একটি বড় নৌকা। এর মূল ভবন ৭৫ ফুট, প্রতিটি গলুইর দৈর্ঘ্য ৪৫ ফুট। এই স্বয়ংসম্পূর্ণ জাদুঘরে থাকছে দেশ-বিদেশের নানান আকৃতির একশত প্রকারের নৌকার অনুকৃতি/ মিনিচা’র, একটি নৌকা গবেষণা কেন্দ্র, আধুনিক লাইব্রেরি, বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ কর্নার, শিশুদের বিনােদনের জন্য বিভিন্ন রাইডের ব্যবস্থা, ৯ ডি থিয়েটার, ফুড ক্যাফে ইত্যাদি। জাদুঘরের ওয়েবসাইট
www.boatmuseumbarguna.com। আগামী ১০ জানুয়ারি ২০২১ তারিখ হতে সকল দর্শনার্থীদের জন্য জাদুঘর খুলে দেয়া হবে।

প্রাচীনকাল থেকে পৃথিবীর বৃহত্তম ব-দ্বীপ নদীমাতৃক বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান বাহন হিসেবে নৌকা ব্যবহৃত হচ্ছে। মহান মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযানে বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ নৌকা ব্যবহার করতেন। নৌকা ১৯৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতি বহন করে। বঙ্গোপসাগরের বিস্তীর্ণ উপকূল ঘেঁষে প্রবাহিত পায়রা, বলেশ্বর, বিশখালী ও খাকদোন বিধৌত জেলা বরগুনা। এই জেলার নামকরণের যে একাধিক জনশ্রুতি রয়েছে তার প্রায় সবগুলােই নৌকার সাথে সম্পৃক্ত।

জেলায় রয়েছে প্রায়৬০,০০০ মৎস্যজীবী-নৌকা যাদের জীবনের সাথে অপরিহার্যভাবে জড়িয়ে আছে। বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিভিন্ন ধরণের নৌকা রয়েছে। কালের পরিক্রমায় এসব নৌকা হারিয়ে যাচ্ছে।

এই হারিয়ে যাওয়া নৌকার স্মৃতি ধরে রাখতে মুজিব শতবর্ষে জেলা প্রশাসন বরগুনা দেশের প্রথম নৌকা জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করেছে। এ জাদুঘরে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন ধরণ ও আকৃতির নৌকাসমূহের অনুকৃতি/ মিনিচা’র

সংরক্ষণ করা হয়েছে। এছাড়াও নৌকা জাদুঘরের মাধ্যমে ব-দ্বীপ পরিকল্পনা -২১০০ বাস্তবায়নসহ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতি ধারণ, জেলার পর্যটন শিল্পের বিকাশ, বাংলাদেশের চিরায়ত লােকজ ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও তরুণ প্রজন্মের নিকট নৌকার অতীত ঐতিহ্য তুলে ধরা হয়েছে।

বার্তাবাজার/এ.আর

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর