চলছে শীতের মৌসুম। খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন গাছিরা। গ্রামাঞ্চলে খেজুর গাছের কাঁচা রস খাওয়ার প্রবণতাও কম নয়।
তবে এই খেজুরের কাঁচা রসেই ছড়িয়ে থাকে নিপাহ নামক ভাইরাস। তাই রস খাওয়া নিয়ে বিপাকে পরেছে আগ্রহী ব্যাক্তিরা। এছাড়া নিপাহ ভাইরাস নিয়ে তেমন প্রচারণা না থাকায় সংক্রমনের আশংকা রয়েছে গ্রামের মানুষদের মাঝে।
জানা যায়, এই রোগটি ১৯৯৯ সালে মালেশিয়া ও সিঙ্গাপুরে প্রথম দেখা যায়। সুঙ্গাই নিপাহ নামক মালয়েশিয়ার একটি গ্রামের নামে এই ভাইরাসের নামকরণ করা হয়েছে। সেই সময় এই রোগ যাতে ছড়িয়ে না পড়ে সেই জন্য লক্ষ লক্ষ শূকরকে মেরে ফেলা হয়েছে।
নিপাহ ভাইরাস একটি জুনোটিক ভাইরাস যা প্রাণী থেকে মানুষে সংক্রামিত হয়ে থাকে। বাংলাদেশ এবং ভারতে এই রোগের প্রাদুর্ভাব সংক্রমিত ফলভোজী বাদুড়ের প্রস্রাব অথবা লালা দ্বারা দূষিত ফল বা ফলের পণ্য (যেমন, কাঁচা খেজুর রস) খাওয়ার ফলে ঘটে। পরবর্তী প্রাদুর্ভাবের সময় নিপাহ ভাইরাস আক্রান্ত মানুষের শরীর থেকে সরাসরি সুস্থ মানুষের শরীরে এই ভাইরাসের সংক্রমন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশে এই রোগে বিভিন্ন জেলার প্রায় ৩ শাতাধিক মানুষ মারা গেছেন। এই ভাইরাসের তেমন প্রচার-প্রচারণা না থাকায় অনেকেই না জেনে হরহামেশেই কাঁচা খেজুর রস খেয়ে ফেলছেন। আমাদের দেশে বেশীর ভাগ খেজুর গাছেই খোলা ভাবে রসের হাঁড়ি লাগিয়ে থাকে তাই যে কোন সময় ফলভোজি বাদুড় সেই হাঁড়িতে মুখ দেয়। যদি রসের হাঁড়ির চারপাশে জাল বিছিয়ে নিরাপত্তা বলয় তৈরী করা যেত তাহলে বাদুড় মুখ দিতে পারতনা বলে জানিয়েছেন সচেতন মহলের অনেকেই।
এ ব্যাপারে বিশালপুর ইউনিয়নের কচুয়াপাড়া গ্রামের খেজুর রস বিক্রেতা আমিনুল ইসলাম বলেন, আমি দির্ঘদিন যাবৎ খেজুরের রস বিক্রি করছি এরকম রোগের কথা কখনো শুনিনি। তাছাড়া খেজুরের রস খেয়ে কেউ মারা গেছে তাও জানিনা।
এ ব্যাপারে শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুল কাদের বলেন, যারা খেজুরের রস খেতে চায় তারা অবশ্যই খাবে তবে রস আগুনে জাল করে খেতে হবে। কাঁচা খেজুরের রস মানুষের জন্য খুবই বিপদজনক। কোন রসের মধ্যে নিপাহ ভাইরাস আছে তা কারও জানা নেই। প্রচারণা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মাধ্যমে শীত মৌসুমের শুরুর দিকে প্রচারণা করা হয় তবে তা যথেষ্ট নয়। এ ব্যাপারে সকল স্তরের মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে।
বার্তাবাজার/পি