নানান চড়াই উৎরাই পেরিয়ে কেটে পার হয়েছে ২০২০ সাল। বছর শুরু আগে থেকেই করোনার ভয়াবহতার ইঙ্গিত আসতে থাকে। আর তা বাংলাদেশে আঘাত হানে মার্চে। কার্যত মার্চ পর্যন্ত সারা বিশের অন্যান্য দেশের মত বাংলাদেশও স্থবির হয়ে ছিল। তবুও বছর কেটেছে। নতুন বছরে নতুন নতুন বার্তা পাওয়ার আশায় মুখিয়ে মানুষজন।
এই বছর অন্যসব বছরের মতই আলোচিত ঘটনা ঘটেছে অনেক। করোনার মত ভয়াবহ মহামারিও থামিয়ে রাখতে পারেনি এইসব ঘটনার প্রবাহ।
যেমন ছিল বাংলাদেশের ২০২০-
১০ জানুয়ারি – বিশ্ব ইজতেমার ১ম পর্ব শুরু হয়
৩ ফেব্রুয়ারি – এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু।
৯ ফেব্রুয়ারি – আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপের শিরোপা জয় করে বাংলাদেশ জাতীয় অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট দল। এটি বাংলাদেশের পক্ষে প্রথম বিশ্বকাপ জয়।
৩ মার্চ – খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় স্থানীয় গ্রামবাসী ও বিজিবির সংঘর্ষে ৪ জন নিহত হন।
৬ মার্চ – বাংলাদেশ জাতীয় দলের হয়ে শেষবারের মতো ওয়ানডেতে অধিনায়কত্ব করেন ও অধিনায়ক থেকে অবসরে যান মাশরাফি বিন মর্তুজা।
৮ মার্চ – প্রথম তিনজনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত।
১০ মার্চ – জয় বাংলাকে জাতীয় স্লোগান ঘোষণা করে হাইকোর্ট কর্তৃক রায় প্রদান।
১৮ মার্চ – বাংলাদেশে প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর মৃত্যু।
২০ মে – ঘূর্ণিঝড় আম্পান ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও উড়িষ্যা এবং বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে আঘাত হানে। এতে নিহত হন ১৬ জন।
২৯ জুন – রাজধানীর ঢাকার শ্যামবাজারে বুড়িগঙ্গায় লঞ্চডুবিতে অন্তত ৩৪ জন নিহত।
২ জুলাই- বাংলাদেশে করোনা শনাক্তের সংখ্যা দেড় লাখ ছাড়িয়ে যায়।বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের টিকা আবিষ্কারের ঘোষণা দেয় গ্লোব বায়োটেক লিমিটেড।
৭ জুলাই করোনাভাইরাস শনাক্তের পরীক্ষায় প্রতারণার অভিযোগে উত্তরার বেসরকারি রিজেন্ট হাসপাতাল সিলগালা করা হয়।
একই দিনে বান্দরবানে গোলাগুলিতে ছয়জন নিহত হয়।
২৯ জুলাই – পল্লবী থানার ভেতরে বোমা বিস্ফোরণে পাঁচজন আহত হয়। জঙ্গিগোষ্ঠী আইএস বিস্ফোরণের দায় স্বীকার করে।
৩১ জুলাই – কক্সবাজারের টেকনাফে মেরিন ড্রাইভ সড়কের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ নিহত হন।
৪ আগস্ট লেবাননের বৈরুত বন্দরের বিস্ফোরণে অন্তত ৩ জন বাংলাদেশি নিহত হয়, ২১ জন নৌসেনাসহ অন্তত ৫৯ জন বাংলাদেশি আহত হয়, জাতিসংঘ শান্তি রক্ষা মিশনের কাজে বন্দরে অবস্থানরত বানৌজা বিজয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়
৫ আগস্ট – নেত্রকোণার মদনে হাওরে নৌকা ডুবে ১৭ পর্যটকের মৃত্যু হয়।
৩ সেপ্টেম্বর – দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে ইউএনওর সরকারি বাসভবনে হামলা চালানো হয়। হামলায় ইউএনও ওয়াহিদা খানম ও তাঁর বাবা গুরুতর আহত হন
৪ সেপ্টেম্বর – নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় মসজিদের পাশের তিতাস গ্যাসের পাইপলাইন থেকে গ্যাস নিঃসরণের ফলে সংগঠিত বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৩৪ জন নিহত হয়
৯ সেপ্টেম্বর- নেত্রকোনার কলমাকান্দায় ট্রলারডুবির ঘটনায় ১০ জনের মৃত্যু
২৫ সেপ্টেম্বর- সিলেটের মুরারিচাঁদ কলেজের (এমসি কলেজ) ছাত্রাবাসে এক গৃহবধূ ধর্ষণের শিকার হয়। এ ঘটনার আসামিরা ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত
৪ অক্টোবর – নোয়াখালীর এক গৃহবধূকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের ৩২ দিন আগে ধারণকৃত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলে দেশব্যাপী ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনবিরোধী আন্দোলন সূত্রপাত ঘটে
৭ অক্টোবর- করোনার কারণে ২০২০ সালের উচ্চ মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষা বাতিল করা হয়।
৮ অক্টোবর– বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট বার সমিতির সভাপতি এএম আমিন উদ্দিনকে অ্যাটর্নি জেনারেল পদে নিয়োগ দেওয়া হয়।
১৩ অক্টোবর- ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) অধ্যাদেশ জারি করা হয়।
১৩ নভেম্বর- ঢাকায় দুটি পৃথক সমাবেশ করে মামুনুল হক ও ফয়জুল করিম ধোলাইপাড়ে শেখ মুজিবুর রহমান নির্মাণাধীন ভাস্কর্যকে মূর্তি আখ্যা দিয়ে বাংলাদেশে যে কোনো ধরনের ভাস্কর্য নির্মাণের বিরোধিতা করেন।
২৪ নভেম্বর- বঙ্গবন্ধু টি২০ কাপ ২০২০-এর আয়োজন শুরু
২৯ নভেম্বর- যমুনা নদীর ওপর বঙ্গবন্ধু রেলওয়ে সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
১০ ডিসেম্বর- পদ্মা সেতুর সর্বশেষ তথা ৪১তম স্প্যান বসানোর কাজ শেষ হয়।
১৭ ডিসেম্বর- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ভার্চুয়াল বৈঠকে সাতটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়।
৫৫ বছর পর চিলাহাটি-হলদিবাড়ি ট্রেন সংযোগ পুনরায় চালু করা হয়।
১৯ ডিসেম্বর- জয়পুরহাটের সদর উপজেলার পুরানাপৈল এলাকায় ট্রেনের ধাক্কায় যাত্রীবাহী বাসের ১২ জন নিহত হন
৩০ ডিসেম্বর- শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নির্মাণাধীন তৃতীয় টার্মিনালের মাটি খননের সময় ২৫০ কেজি ওজনের ৫ম বোমা উদ্ধার
যাদের হারিয়েছে বাংলাদেশ-
১ জুলাই- লতিফুর রহমান, শিল্পপতি ও ট্রান্সকম গ্রুপের চেয়ারম্যান।
৬ জুলাই- এন্ড্রু কিশোর, সঙ্গীতশিল্পী।
৯ জুলাই- সাহারা খাতুন, আইনজীবী ও রাজনীতিবিদ, বাংলাদেশের প্রথম নারী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
১৩ জুলাই- নুরুল ইসলাম বাবুল, ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তা, যমুনা গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান।
১৪ জুলাই- শাহজাহান সিরাজ, রাজনীতিবিদ ও মুক্তিযোদ্ধা, সাবেক বন ও পরিবেশ মন্ত্রী।
১৭ জুলাই- এমাজউদ্দিন আহমদ, বাংলাদেশি রাষ্ট্রবিজ্ঞানী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য।
৯ আগস্ট- আলাউদ্দিন আলী, আটবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার বিজয়ী গীতিকার, সুরকার ও সঙ্গীত পরিচালক।
১৮ সেপ্টেম্বর– শাহ আহমদ শফী, বাংলাদেশী ইসলামি নেতা, হেফাজতে ইসলামের প্রতিষ্ঠাতা, আল হাইআতুল উলয়া ও বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের সভাপতি, দারুল উলুম হাটহাজারীর মহাপরিচালক।
২৭ সেপ্টেম্বর– মাহবুবে আলম, বাংলাদেশি আইনজীবী, বাংলাদেশের ১৫তম অ্যাটর্নি জেনারেল।
২৭ নভেম্বর- আলী যাকের, বাংলাদেশী টেলিভিশন ও মঞ্চ অভিনেতা।
১৩ ডিসেম্বর- নূর হুসাইন কাসেমী, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব
২৬ ডিসেম্বর- অভিনেতা আবদুল কাদের।
তথ্য-উইকিপিডিয়া।
বার্তাবাজার/এসজে