সিরাজগঞ্জে মাথা গোঁজার ঠাঁই পাবে ৭৯৬ পরিবার

সিরাজগঞ্জে অতিদরিদ্র গৃহহীন ৭৯৬ টি পরিবার মাথা গোঁজার ঠাঁই পাচ্ছে। ঘর নির্মাণ কাজ প্রায় ৯০ শতাংশ শেষ হয়েছে। আর কিছু দিনের মধ্যে ঘরের নির্মাণ কাজ শেষ হবে।

‘আশ্রয়ণের অধিকার শেখ হাসিনার উপহার’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে গৃহহীনদের জন্য নির্মিত হচ্ছে এ ঘর গুলো। মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সারাদেশে গৃহহীনদের মাঝে প্রথম পর্যায়ে গৃহ হস্তান্তর করবেন। এই উপলক্ষে সিরাজগঞ্জের ৯টি উপজেলায় ৭৯৬টি ঘর তৈরি হওয়ায় গৃহহীন পরিবারগুলোর মুখে হাসি ফুটেছে। স্বপ্নে বিভোর হয়ে অপেক্ষার প্রহর গুনছেন তারা।

সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে স্থানীয় প্রভাবশালীদের দখলে থাকা সরকারি খাস জমি উদ্ধার করে সেখানে প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে ঘর নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। আগামী ১৫ জানুয়ারির মধ্যে গৃহহীনদের মধ্যে ঘরগুলো বরাদ্দ দেয়া হবে। নির্মাণাধীন ঘরগুলো সার্বিকভাবে তদারকি করছেন স্ব-স্ব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, এসিল্যান্ড, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তারা।

সরেজমিনে জানা গেছে, সরকারি খরচে নিজের ঘরে থাকার স্বপ্ন কখনো দেখেনি বলে অভিমত প্রকাশ করেন অনেক অসহায় অতি দরিদ্ররা। এই ধরনের উদ্যোগে সুবিধাভোগীরা সুন্দর ঘর পেয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। নির্মিত প্রতিটি ঘরে সরকারি ডিজাইন মোতাবেক ঘর তৈরি করা হচ্ছে। টিনসেডের মেঝে পাঁকা ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রতিটি ঘরের সাথে আধা পাকা লেট্রিনও দেয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসক কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, জেলার সদর উপজেলায় ২০৭টি, কাজিপুরে ৩৫টি, উল্লাপাড়ায় ৪২টি, রায়গঞ্জে ১০০টি, বেলকুচিতে ৪০টি, শাহজাদপুরে ১৫০টি, কামারখন্দে ৬০টি, তাড়াশে ১৫২টি, চৌহালীতে ১০টি গৃহহীন পরিবারের মাঝে এ ঘর বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

দুই কক্ষ বিশিষ্ট প্রতিটি সেমি পাকা ঘর নির্মাণে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা। গৃহহীন পরিবারের জন্য থাকছে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত দুই কক্ষ বিশিষ্ট এসব ঘর। জানুয়ারির মধ্যে ঘরগুলো গৃহহীনদের মাঝে বরাদ্দ দেয়া হবে। প্রথম পর্যায়ে জেলার গৃহহীনদের ৭৯৬টি ঘর নির্মাণে ব্যয় হবে ১৩ কোটি ৬১ লাখ ১৬ হাজার টাকা।

বুধবার (৩০ ডিসেম্বর) সদর উপজেলার খোকশাবাড়িতে নির্মাণাধীন ১০০টি বাড়ির নির্মাণ কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ তোফাজ্জল হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) চৌধুরী মো. গোলাম রাব্বী ও সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা আনোয়ার পারভেজ ও এসিল্যান্ড।

এ সময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ তোফাজ্জল হোসেন বলেন, এ প্রকল্প অত্যন্ত সুন্দরভাবে সম্পন্ন হওয়ার পথে। কিছু কাজ সমাপ্ত হওয়ার পর অল্প কয়েক দিনের মধ্যে ঘরগুলো গৃহহীন অসহায় পরিবারের মধ্যে বরাদ্দ দেয়া হবে। এসব ঘর বরাদ্দে কোনো প্রকার তদবির ও অনৈতিক সুযোগ-সুবিধা যেন কেউ নিতে না পারে সেজন্য সঠিক তদারকি করা হচ্ছে।

বার্তাবাজার/পি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর