জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব ‘স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী’ ও ‘বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী’তে জাতিকে একাত্তরের চেতনায় ঐক্যবদ্ধ করার জন্য পাঁচ দফা প্রস্তাবনা উত্থাপন করেছেন।
গণতন্ত্র হত্যা দিবস উপলক্ষে বুধবার (৩০ ডিসেম্বর) আয়োজিত আলোচনা সভায় আ স ম রব বলেন স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতেই জনগণের সম্মতিবিহীন একাদশ সংসদ ভেঙ্গে দিয়ে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আয়োজন করতে হবে। এটাই হবে দেশবাসীর জন্য সুবর্ণ জয়ন্তীর সুখবর। জনগণের সমর্থন সম্মতি ও রায়ের ভিত্তিতে ১৯৭১ সালে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছিল। সুতরাং স্বাধীনতার ৫০ বছর উদযাপন হবে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অভিপ্রায়ের মাধ্যমে গঠিত বৈধ সরকার দ্বারা।
তিনি বলেন, জনগণের ভোটাধিকারের মর্যাদা রক্ষার জন্য সশস্ত্র লড়াই সম্পন্ন করতে হয়েছে এবং অগণিত মানুষের প্রাণ বলিদান দিতে হয়েছে। জনগণের অংশগ্রহণমূলক গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা ছাড়া কোন শাসন ব্যবস্থাই বৈধতা পেতে পারে না।
তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী এবং বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে আমাদের সকলের দায়িত্ব হচ্ছে ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের চেতনাভিত্তিক রাষ্ট্রপরিচালনার লক্ষ্য-উদ্দেশ্যের প্রশ্নে জাতীয় ঐক্যমত্য স্থাপন করা। প্রজাতন্ত্রের মালিকানা হচ্ছে জনগণের। জনগণের ইচ্ছা অভিপ্রায় অনুযায়ী সরকার গঠিত হবে, অন্য কোন পন্থায় নয়। রাষ্ট্রপরিচালনা হবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অন্য কারো উদ্ভাবিত নির্দেশনায় নয়।
স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী এবং বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে পাঁচ দফা প্রস্তাবনা
১. একাদশ জাতীয় সংসদ ভেঙে দেওয়া,
২. জাতীয় ঐক্য মতের ভিত্তিতে ‘জাতীয় সরকার’ গঠন করা,
৩. নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করা,
৪. সুষ্ঠু অবাধ নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করা।
৫. গণতান্ত্রিক প্রগতিশীল রাজনৈতিক দল, শ্রেণি পেশার সংগঠনসহ ঐক্যবদ্ধভাবে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী ও বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন করা।
স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে স্বাধীনতার স্বপ্ন পূরণ ও বাঙালি জাতীয়তাবাদের উচ্চতর বিকাশে একুশ শতকের উপযোগী রাজনৈতিক ব্যবস্থাপনা প্রতিস্থাপন করা আমাদের সকলের মৌলিক কর্তব্য। বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিকাশ উপযোগী রাজনীতিই হবে শহীদদের আত্মার প্রতি সুবর্ণ জয়ন্তীর নৈবদ্য।
বার্তাবাজার/এসজে