মহামারি করোনার কারণে মাঝখানে দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল আদালতের স্বাভাবিক কার্যক্রম। মাঝে মাঝে ভার্চ্যুয়ালি আদালতের কাজ চললেও তা ছিল খুবই কম। তবে করোনায় পৃথিবী থমকে যাওয়ার বছরেও আদালতে চলেছে বেশ কিছু আলোচিত মামলার কার্যক্রম।
অনেকগুলো আলোচিত মামলার রায় হওয়া থেকে শুরু করে পূনরায় আদালতে ওঠে আসা মামলার ঘটনাও কম ছিল এই বছর। তবে বছরের শেষ দিকের কিছু মামলার প্রতি দেশের মানুষের উৎসাহের কমতি ছিল না।
ঢাকার নিম্ন আদালতের কিছু আলোচিত মামলার সার সংক্ষেপ-
কমিউনিস্ট পার্টির সমাবেশে হামলা মামলা
২০০১ সালের শুরুতে বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সমাবেশে বোমা হামলার ঘটনায় রায় হয় ২১ জানুয়ারি। ঘোষিত রাতে জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদের ১০ সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত।
সালমান শাহ’র মৃত্যু নিয়ে মামলা
চিত্রনায়ক সালমান শাহ’র মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন। এর আগে সিআইডিও একই ধরণের প্রতিবেদন জমা দেয় আদালত। ২৫ ফেব্রুয়ারি পিবিআইয়ের পরিদর্শক সিরাজুল ইসলাম ৬০০ পৃষ্ঠার একটি প্রতিবেদন দাখিল করেন।
খুনী মাজেদের মৃত্যুদণ্ড
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারবর্গকে হত্যাকারী ক্যাপ্টেন (অব.) আব্দুল মাজেদকে ৬ এপ্রল গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করলে ৮ এপ্রিল ঢাকার দায়রা জজ মো. হেলাল উদ্দিন চৌধুরী তার মৃত্যদণ্ড সাজা পরোয়ানা ইস্যু করেন। ১২ এপ্রিল তার দণ্ড কার্যকর হয়।
চিকিৎসাখাতের শাহেদ-আরিফ-সাবরিনা
করোনা পরিস্থিতিতে করোনা টেস্টসহ নানা কেলেঙ্কারিতে প্রতারণার অভিযোগে রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান শাহেদ করিম, জেকেজির ডা. সাবরিনা ও তার স্বামী আরিফুলসহ সংশ্লিষ্টদের গ্রেফতার করা হয়। সাবরিনা ও আরিফুলসহ তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে।
তবে শাহেদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে দায়ের করা মামলায় ২৮ সেপ্টেম্বর যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন এক নম্বর স্পেশাল ট্রাইব্যুনালের বিচারক কে এম ইমরুল কায়েশ।
সাবেক প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহাসহ আরও কিছু মামলা
ঋণ কেলেঙ্কারির মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপরি এসকে সিনহা ও ১১ আসামির বিচারকার্য শুরু হয়েছে। ২৫ মার্চ এই মামলার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়।
তাছাড়া ডিআইজি বজলুর রশিদ, পার্থ গোপাল, ডিআইজি মিজান ও দুদকের খন্দকার এনামুল বাছিরের বিচারকাজও শুরু হয়েছে। চলছে পুরোদমে।
৩০ বছর পর ২ ডিসেম্বর আবারও আলোচিত সগিরা মোর্শেদ হত্যা মামলার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এছাড়া বুয়েটের আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের বিচারকাজও চলছে বেশ ভালোভাবেই।
পল্লবী থানা হেফাজতে আসামির মৃত্যু ও প্রথম রায়
‘নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু নিবারণ আইন’ করা হয়েছিল ২০১৩ সালে। কিন্তু এতদিন এ বিষয়ে কোনো মামলার রায় হয়নি। ২০১৪ সালে পল্লবী থানা হেফাজতে জনি নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ৯ সেপ্টেম্বর পুলিশের সাবেক তিনি সদস্যকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেন আদালত।
পাপিয়া ও তার মামলা
যুব মহিলা লীগের আলোচিত নেত্রী শামীমা নূর ওরফে পাপিয়া ও তার স্বামী সুমন চৌধুরীকে অস্ত্র আইনে দায়ের করা মামলায় ২৭ বছরের কারাদণ্ড দেন আদালত। ১২ অক্টোবর এই রায় দেন ঢাকার এক নম্বর স্পেশাল ট্রাইব্যুনালের বিচারক কে এম ইমরুল কায়েশ।
এর আগে ২২ ফেব্রুয়ারি পাপিয়া ও তার সহযোগীদের আটক করে র্যাব। আলোচিত এই নেত্রী মাদকের ব্যবসার পাশাপাশি দেহব্যবসার সাথেও জড়িত ছিলেন।
ঢাবি ছাত্রী ধর্ষণ ও মজনুর যাবজ্জীবন
বছরের শুরুর দিকে কুর্মিটোলা এলাকায় ধর্ষণের শিকার হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী। এই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় একমাত্র আসামি মজনুকে গত ১৯ নভেম্বর যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় দেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭ এর বিচারক মোছাম্মৎ কামরুন্নাহার।
শেষ হয়নি সাগর রুনি হত্যা মামলার তদন্ত
এই দশকের আলোচিত ঘটনা ছিল সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনী হত্যাকাণ্ড। কিন্তু ৭৬ বার সময় নিয়েও আদালতে এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা পড়েনি। ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের বাসায় দুর্বত্তদের হাতে নির্মমভাবে নিহত হন ছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার এবং এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি।
বার্তাবাজার/এসজে