আড়ালে থাকা নায়কের দুটি কৌশলের কল্যাণে জয় পেল অস্ট্রেলিয়া

ক্রিকেট খেলায় স্ট্র্যাটেজি, ট্যাকটিক্সের ঝনঝনানি থাকেই। কিন্তু সব রণনীতি ছাপিয়ে যায়, ইতিবাচক মানসিকতা।ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ও সাহস নিয়ে ব্যাট করতে পারলে যে কোনও বোলিং বিভাগকেই সামলে দেওয়া যায়। যেমনটা বৃহস্পতিবার (৬ জুন) ব্যাট হাতে দেখলাম অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক স্টিভ স্মিথকে।বল টেম্পারিংয়ের অভিযোগে এক বছরের জন্য নির্বাসিত হয়েছিলেন এই অজি তারকা।পাশাপাশি অধিনায়কত্বও হারান তিনি।তবে গতকাল অ্যরন ফিঞ্চকে যাবতীয় বুদ্ধি সঞ্চার করেছিলেন স্মিথ।

প্রথমে ব্যাট করে ৪৯ ওভারে ২৮৮ রান করেছিল অস্ট্রেলিয়া। জবাবে নয় উইকেট হারিয়ে ২৭৩ রানে শেষ হয়ে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংস।১৫ রানে জয় পায় অস্ট্রেলিয়া।

বেলার দিকে রোদ উঠে পিচ শুকিয়ে যাবে। তার আগেই অস্ট্রেলীয় ব্যাটসম্যানদের পরীক্ষা নেওয়ার জন্যই বোধ হয় টস জিতে ফিল্ডিং নিয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক হোল্ডার।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের দুই পেসার ওশেন থমাস ও শেল্ডন কটরেলের দাপটে স্থায়ী হয়নি অস্ট্রেলিয়ার দুই ওপেনার। এর মধ্যে কটরেল একে বাঁ হাতি। তার উপরে বল দু’দিকে সুইং করাতে পারে। সঙ্গে রয়েছে এক্সপ্রেস গতি। আর ওশান থমাসের বলে গতি ও বাউন্স রয়েছে। এই গতিতে সমস্যায় পড়ে গিয়েই থমাসের বলে কট বিহাইন্ড হয় ফিঞ্চ (৬)। আর কটরেলের বলের বাড়তি বাউন্স বুঝতে না পেরেই ফিরে যায় ওয়ার্নার (৩)।

লক্ষ্য করলে দেখা যাবে প্রথম ১৮ ওভারে বুদ্ধি করে শর্ট বলগুলো রাখছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের পেসাররা। প্রতি ওভারের দ্বিতীয় বা তৃতীয় বলে বাউন্সার। বাকি সব বল থ্রি কোয়ার্টার লেংথে (গুড লেংথ ও শট লেংথ-এর মাঝামাঝি) করছিল থমাস ও কটরেলরা।

ওসমান খাজা (১৩) ক্যারিবীয়ানদের এই কৌশল ধরতে না পেরেই পতন ডেকে আনে। গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের (০) ক্ষেত্রেই একই কথা প্রযোজ্য। ৩৯ রান তুলতে অস্ট্রেলিয়ার শেষ ৪ উইকেট। এর পরেও যে অস্ট্রেলিয়া জিতে ফিরল তার নায়ক তিন জন—স্টিভ স্মিথ, নাথান কুল্টার-নাইল (৬০ বলে ৯২ রান) ও অবশ্যই বল হাতে মিচেল স্টার্ক (৫-৪৬)।

ক্যারিবীয়ান পেস ব্যাটারির বিরুদ্ধে প্রথম প্রতিরোধটা গড়ে তোলে স্টিভ স্মিথ। ব্যাট করতে নেমে শর্ট বল বুদ্ধি করে যেমন খেলছিল, তেমনই ফিল্ডারদের মাঝে ফাঁক খুঁজে স্কোরবোর্ডও সচল রেখেছিল তার ইতিবাচক মানসিকতা দিয়ে। পিচ ততক্ষণে শুকনো হয়ে যাওয়ায় সাবলীল ইনিংস খেলতে সমস্যা হয়নি স্মিথের। ওর সাহস ও আত্মবিশ্বাসটা দারুণ লাগল।

রণনীতি ধাক্কা খাওয়ায় জেসন হোল্ডারের ভাবনাতেও প্রভাব পড়েছিল। যার প্রভাব পড়ে নাথান কুল্টার-নাইল ব্যাট করার সময়। কুল্টার-নাইল অনসাইডে বেশি মারছে দেখার পরেও তাকে অফসাইডে বলই করল না ক্যারিবীয়ান বোলাররা। আর মিড উইকেট, স্কোয়ার লেগ অঞ্চল দিয়ে মজায় রান তুলল নাথান।

সব শেষে স্টার্ক। একে বাঁ হাতি। তার উপর রিভার্স সুইং হাতে রয়েছে। শেষের দিকের ওভারে ওকে খেলাই দুষ্কর। এ দিন সেই গতি ও সুইং কাজে লাগিয়েই স্টার্ক ফেরায় ক্রিস গেইল, আন্দ্রে রাসেল, কার্লোস ব্রাথওয়েট, জেসন হোল্ডারদের। এর মধ্যে হোল্ডার ছাড়া রাসেল ও ব্রাথওয়েট ভুল শট খেলে আউট। তবে স্টার্কের বলে গেইলের এলবিডব্লিউ আউট হওয়া নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। সিমরন হেটমায়ার ভাগ্য খারাপ থাকায় ফিরে যায় রান আউট হয়ে। না হলে কিন্তু এই ম্যাচটা বের করে নিতে পারত হোল্ডাররাও।

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর