সেই মুসলিম তরুণের পক্ষে রায় দিল ভারতের হাইকোর্ট

ভারতে ভিন্ন ধর্মের বিয়ে ঠেকাতে লাভ জিহাদ অর্থাৎ মুসলিম পুরুষ কর্তৃক হিন্দু নারী অপহরণ নামে নতুন আইন করায় এবং স্থানীয় প্রশাসন ভিন্ন ধর্মের মেয়েকে বিয়ে করা দম্পতিকে হয়রানি করায় কঠোর সমালোচনা করেছে এলাহাবাদ হাইকোর্ট।

হাইকোর্ট বলছেন, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মেয়ে যদি তার স্বামী নিজেই পছন্দ করে এবং তার সঙ্গে জীবন কাটাতে চান, তাহলে সেই স্বাধীনতা ওই নারীর আছে। একজন প্রাপ্তবয়স্ক নারীর সিদ্ধান্তে কোনও তৃতীয় ব্যক্তির নাক গলানোর অধিকার নেই বলেও জানান আদালত।

উল্লেখ্য, উত্তরপ্রদেশে সালমান নামে এক মুসলিম তরুণের সঙ্গে বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হন শিখা নামে এক হিন্দু ধর্মের তরুণী। এই জন্য সালমানের বিরুদ্ধে মামলা করেন শিখার পরিবার। তারা অভিযোগ করেন, তাদের মেয়ে শিখাকে অপহরণ করেছেন সালমান এবং জোড় করে শিখাকে বিয়ে করতে বাধ্য করেছেন তিনি। আর এই অভিযোগের ভিত্তিতে মা-বাবার হাতেই আসে শিখার হেফাজতের ভার।

জেলা আদালতের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে এলাহাবাদ হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন সালমান। বেআইনিভাবে তার স্ত্রী শিখাকে আটকে রাখা হয়েছে এবং ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোড় করে তাকে তার বাবা-মায়ের কাছে পাঠানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন সালমান। সোমবার সেই মামলার শুনানিকালে উত্তরপ্রদেশ প্রশাসন এবং মুখ্য বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটকেই একহাত নেন এলাহাবাদ হাইকোর্টের বিচারপতি পঙ্কজ নকভি ও বিবেক আগারওয়ালের ডিভিশন বেঞ্চ। তারা জানান, মুখ্য বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট এবং শিশুকল্যাণ কমিটি আইন-কানুন সম্পর্কে কতটা শ্রদ্ধাশীল তা তাদের সিদ্ধান্তে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে।

আদালতে শিখা বলেন, সম্পূর্ণ নিজের ইচ্ছায় সালমানকে বিয়ে করেছেন তিনি। শিখার জন্ম ১৯৯৯ সালের ৪ অক্টোবর। সেই হিসেবে আইনত প্রাপ্তবয়স্ক তিনি। তারপরেও জোড় করে স্বামীর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে বাধ্য করা হয় তাকে।

এই জন্য পুলিশকেও তিরস্কার করেন আদালত। সেই সঙ্গে সালমানের সাথে শিখা শশুরবাড়ি না যাওয়া পর্যন্ত পুলিশি নিরাপত্তা দেওয়ার নির্দেশ দেন ২ বিচারপতি।

বার্তাবাজার/পি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর