টেকনাফে শাকের ডাকাত ফের বেপরোয়া, আতংকে এলাকাবাসী

দেশের সর্বদক্ষিন উপজেলা টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়নের নয়াপাড়া এলাকার অপরাধ সম্রাজ্যের নিয়ন্ত্রক শাকের ডাকাতের হাতে জিম্মি গোটা ইউনিয়নের মানুষ। অর্ধডজন মামলায় জেল খেটে এসে ফের শুরু করেছে অপরাধ কর্মকান্ড। এলাকায় ইয়াবাসহ এমন কোন অপরাধ বাকী নেই যেখানে সাকের ডাকাতের হাত নেই। এসব অপরাধের পেছনে অনেকটা স্থানীয় জনপ্রতিধিদের পৃষ্টপোষকতা রয়েছে বলে দাবী স্থানীয়দের।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের নয়াপাড়ার ডেইল পাড়া এলাকার সাবেক মেম্বার আব্দুল্লাহর ছেলে শাকের ডাকাত একজন তালিকাভূক্ত অপরাধী। বন্দুক যুদ্ধে জাফর ডাকাত নিহত হওয়ার পর শাকের গ্রুপ নামে এলাকায় গড়ে তুলে নিজস্ব একটি সন্ত্রাসী বাহিনী। কচুবনিয়ার মাজেদের ছেলে সুলতান মিস্ত্র ও কাটা বনিয়ার কাশেমের ছেলে কেফায়াত উল্লাহ তার ডান হাত ও বাম হাত হিসেবে পরিচিত। তার গ্রুপে রয়েছে এলাকার অন্তত দুই ডজন বকাটে। এলাকায় চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি, হামলা, মানব পাচার, সাগর পথে মাদকের চালান খালাসসহ অপরাধের জাল বুনে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করে চলছে বছরের পর বছর। এসব অপরাধের দ্বায়ে আটক হয়ে জেল থেকে বেরিয়ে আবার ফিরে গেছে পুরানো পেশায়।

নয়াপাড়া কচুবনিয়া এলাকার ইউপি সদস্য জাফর বার্তা বাজারকে জানান, গত ১০ ডিসেম্বর শাকেরের সহযোগী কাটাবনিয়ার সুলতানের ছেলে কেফায়েত কাটাবনিয়ার বাবুলের স্ত্রী পারভিনের মালিকানাধিন ইজিবাইক চুরি করে। এই সংক্রান্ত সালিশে সন্ত্রাসী শাকের এসে উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা ও ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক উসমান সিকদারকে অতর্কিত ভাবে হামলা করে রক্তাক্ত জখম করে। মূলত ইজিবাইক চুরির ঘটনায় শাকের জড়িত আছে বলেই বিচার ভন্ডুল করতে উসমানের উপর শাকের ও তার ভাই মতলব নিজে সশস্ত্র হামলা করছে বলেও মন্তব্য করেন এই ইউপি সদস্য।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয়রা বার্তা বাজারকে জানান, শাকের বিগত সময়েও এলাকার বেশ কয়েকটি ইজিবাইক চুরি করে পার্টস বিক্রি করে দেয়ার অভিযোগ রয়েছে।

টেকনাফ থানার এস আই সানাউল্লাহ বার্তা বাজারকে জানান, গত ২৬ ডিসেম্বর উসমান বাদী হয়ে দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে প্রাথমিক তদন্তে উসমানকে অন্যায় ভাবে হামলা করার বিষয়টি পরিষ্কার হওয়া গেছে। এছাড়াও বিভিন্ন সময় ডাকাত শাকেরের বিরুদ্ধে টেকনাফ থানায় বিভিন্ন অপরাধে অন্তত অর্ধ ডজনের অধিক মামলার রয়েছে। সে একজন দাগী লোক। তাকে এবং তার সহযোগীদের আটকের জন্য ইতিমমধ্যে কয়েক দফা অভিযান চালানো হয়েছে। অতি শিগগিরি তাকে এবং তার সহযোগীদের আটক করা হবে।

টেকনাফ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সুলতান মাহমুদ বার্তা বাজারকে বলেন, জেল থেকে আসার পর শাকের প্রতি রাতে কাটাবনিয়া উপকূলে বিভিন্ন মাদক কারবারীদের ইয়াবার চালান খালাস করছে। তাকে যদি অনতি বিলম্বে গ্রেফতার করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ব্যর্থ হয়, তবে সর্বস্থরের ছাত্র জনতাকে নিয়ে কটুর কর্মসূচী ঘোষনা করা হবে।

এলাকাবাসীর দাবী, আগামী ইউপি নির্বাচনকে সামনে রেখে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা শাকের ডাকাত কে হাতে রাখতেই বিভিন্ন ভাবে প্রশ্র‍য় দিচ্ছে। ফলে আরো ভয়ংকর হয়ে উঠেছে সে। তাই হাত থেকে বাঁচতে এলাকাবাসী প্রশাসনের হস্তক্ষেপ জরুরী মনে করেন।

বার্তাবাজার/এ.আর

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর