ময়মনসিংহের নান্দাইলে নিজের মেয়েকে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার জন্য রসুলপুর আলিম মাদ্রাসায় গভীর রাতে যে লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছিল তা বাতিল করা হয়েছে।
নিয়োগ বাতিলের চিঠি মঙ্গলবার (২৯ ডিসেম্বর) সন্ধায় উপজেলা নিবার্হী অফিসার ও মাদ্রাসার ফেসবুক পেজে আপলোড করা হয়েছে। নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিয়োগ বাতিল করার চিঠি প্রচারের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
জানা গেছে, সহকারী লাইব্রেরিয়ান পদে একজনকে নিয়োগ দেওয়ার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। অখ্যাত কিছু পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হওয়ায় তা ব্যাপকভাবে প্রচারও হয়নি। পদটির জন্য নিয়ম মোতাবেক চারজন প্রার্থীকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার অনুমতি দিয়ে প্রবেশপত্র দেওয়া হয়।
ওই চারজনই হচ্ছেন মাদরাসার অধ্যক্ষ রফিকুল ইসলামের তিন ছেলে ও এক মেয়ে। পূর্ব পরিকল্পনামত শুক্রবার রাত ১২টার দিকে কেন্দ্রে প্রবেশ করেন প্রার্থীরা। সেখানে ছিলেন মাদরাসা পরিচালনা পরিষদের সদস্য ছাড়াও কয়েকজন শিক্ষক। পরীক্ষা শুরু হওয়ার প্রায় ৩০ মিনিট পরে আসেন ডিজির প্রতিনিধি বাদশা মিয়া।
এলাকাবাসী বিষয়টি জেনে ফেলায় হইচই ও ধাওয়া দিলে বাদশা মিয়া দ্রুত কাগজপত্রে সাক্ষর করে ঘটনাস্থল করে চলে যান। রাতের নিয়োগ পরীক্ষায় ডিজির প্রতিনিধির উপিস্থিতির ভিডিও চিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ̄স্থানীয় প্রশাসনেও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
পরদিন (শনিবার) মধ্য রাতে নিয়োগ পরীক্ষা আয়োজনের খবরটি জানাজানি হলে এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।
স্থানীয় লোকজন জানান, আগামী ৩১ ডিসেম্বর অবসরে যাবেন মাদরাসার অধ্যক্ষ রফিকুলক ইসলাম। হাতে সময় না থাকায় তড়িঘড়ি করে গভীর রাতে মাদ্রাসাতেই লিখিত পরীক্ষার ব্যবস্থাত করলেন মেয়েকে চাকরি পাইয়ে দিতে। আর এই পরীক্ষায় প্রক্সি হিসেবে রাখেন তারই ছেলে
মেয়েকে।
মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সদস্য তারা মিয়া বলেন, হুজুরের চাকরি শেষ। তা নিজের মেয়েকে চাকরিটা দিতেই এই ব্যবস্থা করা হয়েছে।
মুঠোফোনে ডিজির প্রতিনিধি বাদশা মিয়া বলেন, অধ্যক্ষের ফাঁদে পড়ে তিনি মাদরাসায় গিয়েছেন। যা আদৌ ঠিক হয়নি। এটা তাঁর ভুল হয়েছে। রাস্তায় গাড়ী খারাপ হয়ে যাওয়ায় মাদ্রাসায় পৌছতে রাত হয়ে গিয়েছিল।
বার্তাবাজার/এসজে