ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ৩৫ নং বালিয়াডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বেশ কয়েকটি গাছ কেঁটে সাবাড় করেছে স্কুল কর্তৃপক্ষ।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বালিয়াডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ। যেখানে ছিল অর্ধশত বছরের পুরাতন নারিকেল গাছ, জামগাছ ও ভুত নিমসহ বেশ কয়েকটি গাছ।
স্থানীয়রা বার্তা বাজারকে জানান, এই গাছের মধ্যে এমন একটি বড় জাম গাছ ছিল যার বয়স হবে আনুমানিক ৫০ বছর। এছাড়াও বেশ কয়েকটি গাছ ছিল। যা দ্বারা স্কুলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বৃদ্ধি পেয়েছিল। তাছাড়া জায়গাটিতেও ছিল ছাঁয়া। কিন্তু হঠাৎ দেখি গাছগুলো নেই, গাছের ছায়াও চোখে পড়ে না। পরে গাছের গোড়াই গিয়ে দেখি গাছগুলো কেটে গাছের গোড়াই বালি দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে। তখন বিষয়টি এলাকার মানুষের মাঝে তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়।
এলাকাবাসী ও অভিভাবকরা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানে কোন কমিটি নেই। প্রধান শিক্ষক নিজের স্বার্থ হাসিলের জন্য কমিটি গঠন করে না। প্রতিষ্ঠানে একটি কমিটি থাকলে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা থাকতো। বর্তমানে এর কোন টাই নেই। যে কারণে প্রধান শিক্ষক তার নিজের ইচ্ছামত কাজ করে যাচ্ছেন। তাই স্কুলের গাছ কাঁটার সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
এ ব্যাপারে স্কুলের প্রধান শিক্ষক মিতা ঘোষের কাছে জানতে চাইলে তিনি বার্তা বাজারকে বলেন, এখানে কাউকে না জানিয়েই গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। তাছাড়া জাম গাছটি জমিদাতা কেঁটেছে।
জমিদাতা জব্বার হোসেনের কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বার্তা বাজারকে বলেন স্কুলের গাছ কাটার এখতিয়ার আমার নেই। এই গাছগুলো স্কুলের প্রধান শিক্ষক নিজে থেকেই কেটেছে। যে গাছগুলো কিনেছে, আপনি তার কাছে জিজ্ঞেস করলে ক্লিয়ার হয়ে যাবেন।
এ ব্যাপারে উপজেলা প্রথমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) সুধাংশ শেখর বিশ্বাস বার্তা বাজারকে বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে গাছ কাটার বিষয়ে একটি মামলা দেবার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
বার্তাবাজার/এ.আর