চিকিৎসকদের ওপর হামলা ও মারধরের প্রতিবাদে এবং চার দফা দাবিতে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালসহ জেলার সকল হাসপাতালে ৪র্থ দিনের মতো বহির্বিভাগে চিকিৎসা সেবা বন্ধ রেখেছে চিকিৎসকরা। বন্ধ রয়েছে বেসরকারী হাসপাতাল-ক্লিনিক ও ব্যক্তিগত চেম্বারর।
এতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের। এদিকে চিকিৎসকদের অবহেলায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দায়ের করা মামলায় গ্রেফতারকৃত রোগীর দুই স্বজনের মুক্তির দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে রোগীর স্বজন ও স্থানীয়রা।
২৫০ শয্যার জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মাহফুজুর রহমান সোহান বার্তা বাজারকে জানান, চিকিৎসকদের হামলাকারী রোগীর স্বজন ও পুলিশ সদস্যদের শাস্তি, হাসপাতালে স্থায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং চিকিৎসা সুরক্ষা আইন প্রণয়নসহ চার দফা দাবিতে বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন (বিএমএ) ও স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ(স্বাচিব) এর কেন্দ্রিয় কমিটির সিধান্তে জরুরী বিভাগ, আন্ত:বিভাগে চিকিৎসা কার্যক্রম চালু থাকলেও বহির্বিভাগ চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে।
এ ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির তদন্ত প্রতিবেদন গতকাল জেলা প্রশাসক বরাবর জমা দিয়েছে।
এদিকে চিকিৎসকের অবহেলায় রোগীর মৃত্যু ও রোগীর স্বজনদের ওপর হামলা এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দায়ের করা মামলায় গ্রেফাতার রোগীর দুই স্বজন শহিদুল ও সাইদুরের মুক্তি ও মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে মঙ্গলবার দুপুরে রোগীর স্বজন ও স্থানীয়রা শহরের বকুলতলা চত্বরে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে। এ সময় তারা দায়ী চিকিৎসকদের শাস্তির দাবি করেন।
গত শুক্রবার দুপুরে শহরের ইকবালপুর এলাকার এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চিকিৎসকদের ওপর হামলা ও মারধর করে রোগীর স্বজনরা। এসময় পুলিশ লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনার সময় কয়েকজন চিকিৎসক আহত হন। এঘটনার প্রতিবাদে শনিবার থেকে জামালপুরের সকল হাসপাতালে বহির্বিভাগে চিকিৎসা সেবা বন্ধ করে দেয় চিকিৎসকরা।
বার্তাবাজার/এ.আর