সারা বছর কোনো সভাই করেনি দুই মন্ত্রণালয়ের কমিটি

বছর শেষ হতে আর মাত্র কয়েকদিন বাকি। তবে পুরো বছরে একদিনের জন্যও বৈঠকে বসেনি সংসদের দুই মন্ত্রণালয় বিষয়ক স্থায়ী কমিটি। বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সাথে কাকতালীয়ভাবে মিল রেখে বৈঠকে বসেনি পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটিও।

জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালির নিয়ম অনুযায়ী প্রতি মাসে অন্তত একবার করে বৈঠকে বাসার কথা তাদের। বৈঠকে বসে মন্ত্রণালয়ের সকল কাজ, অনিয়ম ও অভিযোগ পর্যালোচনা করে সমাধানের নিমিত্বে কাজ করাই ছিল তাদের দায়িত্ব। কিন্তু পুরো বছরের মাঝে একদিনও তারা এই দায়িত্ব পালনে আগ্রহী দেখাননি সংশ্লিষ্টরা।

তবে এই দুই কমিটি ছাড়া যে অন্য কমিটিগুলোও খুব সক্রিয় তা মোটেও নয়। ১০টি কমিটি পুরো বছরে সর্বোচ্চ দুটি বৈঠক করে তাদের দায়সারা কর্তব্য পালন করেছেন। সরকারের সকল কাজের জবাবদিহিতার জন্য থাকা সবচেয়ে বড় জায়গা হলো এই কমিটিগুলো। তাদের নিস্ক্রিয়তা মানে অনেক কিছুই ফসকে যাওয়া বলে জানাচ্ছেন বিশ্লেষকরা।

জানা যায়, চলতি সংসদ শুরু হওয়ার ১০ কার্য দিবসের মাঝেই গঠন করা হয়েছিল ৫০টি সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। কিন্তু যত গর্জিয়ে কমিটিগুলো গঠন করা হয়েছে তত বর্ষিয়ে কমিটির কাজ লক্ষ্য করা যায়নি। হাতেগুনা কয়েকটি কমিটি বাদে বাকিগুলো মাসে একটি বৈঠকের নিয়মকে কোনোভাবেই তোয়াক্কা করছেন না।

গঠিত ৫০ কমিটির মাঝে ৩৯টি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত, বাকিগুলো সব বিষয়ভিত্তিক। চলতি বছরের ১ ডিসেম্বরের আগ পর্যন্ত ৩৯ কমিটির কোনোটিই প্রতিমাসে নিয়ম করে বৈঠকে বসেনি। করোনাকালে ২ মাস সাধারণ ছুটি চললেও বাকি ৯ মাসে তাদের অন্তত ৯টি বৈঠক করার কথা ছিল।

কিন্তু এই সময়ের মাঝে সর্বোচ্চ রেকর্ড করে ৮টি করে বৈঠক করেছেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী কমিটি ও নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের কমিটি।

সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, সাধারণ ছুটি শেষ করে আইন মন্ত্রণালয় ছাড়া অন্য কোনো মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটি অজ্ঞাত কারণে বৈঠকে বসতে পারেনি।

সারা বছর বৈঠক না করার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি দবিরুল ইসলাম জানান, তিনি করোনায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিতে ভারতে যান। সুস্থ হওয়ার পর ডিসেম্বরে একটি বৈঠক ডাকা হয়েছিল। কিন্তু মন্ত্রী সচিব সময় দিতে না পারায় তা পিছিয়ে আগামী ১২ জানুয়ারিতে নেওয়া হয়েছে।

এদিকে পুরো বছর জড়েই লেগেছিল সরকারি পাটকলগুলোতে নানাবিধ ঝামেলা। বারবার শ্রমিকরা বেতন ভাতার দাবিতে আন্দোলন করেছে। লোকসানের অযুহাতে জুলাইয়ের গোঁড়াতে সব পাটকল বন্ধ করে দিলেও শ্রমিকদের বেতন এখনও দেওয়া হয়নি। নতুন নিয়মে আবারও সরকারি পাটকল খোলার সিদ্ধান্ত নেওইয়া হলেও তা এখনও শুধু মুখের কথাতেই আটকে আছে।

পাট নিয়ে এত দৌড়ের পরেও পুরো বছরে পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটি বৈঠক করেছে মাত্র একটি। তাও করোনার শুরুতে মার্চে। এরপর তারাও পুরো বছরের জন্য অঘোষিত লকডাউনে চলে যায়! করোনাকালে তাদের টানা নিস্ক্রিয়তা নিয়েও আছে বিস্তর অভিযোগ।

সংসদ সচিবালয় থেকে পাওয়া তথ্যমতে, পুরো বছরে মাত্র একটি করে বৈঠক করেছে খাদ্য, শিল্প ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি। দুটি করে বৈঠক করেছেন অর্থ, স্থানীয় সরকার, সমাজকল্যাণ, পরিকল্পনা, তথ্য, স্বাস্থ্য এবং ধর্ম মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় এই ৭ কমিটি।

তিনটি করে বৈঠকের নাম আছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, ডাক ও টেলিযোগাযোগ, শ্রম ও কর্মসংস্থান, বাণিজ্য, কৃষি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি।

প্রতিরক্ষা, যুব ও ক্রীড়া, ভূমি, শিক্ষা, স্বরাষ্ট্র, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, রেলপথ এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি বৈঠক করেছে ৪টি করে।

পাঁচটি করে বৈঠক কররা তালিকায় আছে আইন, সংস্কৃতি, পানিসম্পদ এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি।

ছয়টি করে বৈঠক করেছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি। এই কমিটি সাতটি বৈঠক করে অপেক্ষাক্ররত সক্রয়দের মাঝে লিখিয়েছে তাদের নাম।

সবচেয়ে বেশি ১৩ টি বৈঠক করেছে সরকারি কমিটি। কোনো মন্ত্রণালয় ভিত্তিক না হয়েও তারা এই তালিকায় শীর্ষে আছে। আর দ্বিতীয় স্থানে ৮টি করে বৈঠক করে অবস্থান করছেন মহিলা ও শিশু এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি।

বার্তাবাজার/এসজে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর