গাজীপুরের টঙ্গীতে করোনাকালিন সময় থেকে এখন পর্যন্ত সরকারী নির্দেশনা ও স্বাস্থ্যবিধি অমান্য করে প্রতিদিন শতাধিক শিক্ষার্থীদের নিয়ে চালিয়ে যাচ্ছে কোচিং সেন্টার। এ ব্যাপারে কোনো প্রকার নজরদারী নেই শিক্ষা অফিসের।
সরেজমিনে দেখা যায়, টঙ্গী পশ্চিম থানাধীন আউচপাড়া কলেজ রোড এলাকার অভিযান ৪৫ এর ব্রিটিশ এমেরিকান টেকনোলজি এন্ড ম্যানেজম্যান্ট ইনস্টিটিউটের নিচ তলার একটি ফ্লাটে চলছে ‘সাকসেস এডমিশন কেয়ার’ নামের এই কোচিং সেন্টার। এই কোচিং সেন্টারে টঙ্গী ও উত্তরার স্কুল কলেজের শতাধিক শিক্ষার্থীদের থেকে দ্বীগুন অর্থ নিয়ে কোচিং করানোর অভিযোগ রয়েছে।
এ ছাড়াও টঙ্গীর বিভিন্ন স্কুল-কলেজের আশপাশজুড়ে এমন একাধিক কোচিং সেন্টার গড়ে উঠেছে। কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থেকে শুরু করে স্থানীয় নামিদামি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা সকাল থেকে রাত পর্যন্ত এসব কোচিং সেন্টারে পড়ানো নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। টঙ্গী কলেজ রোডে ‘সাকসেস এডমিশন কেয়ার’ নামে কোচিং সেন্টারে সরকারি নিদের্শনা অমান্য করেও কোন প্রকার সাইনবোর্ড ছাড়াই গোপনে কোচিং বাণিজ্য করে আসছে। গকতাল মঙ্গলবার সকালে কোচিং সেন্টারের প্রবেশ করার সাথে সাথে শিক্ষকরা তাড়াহুড়ো করে ছাত্র- ছাত্রীদের বের করে দেয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কোচিং সেন্টারের পরিচালনা কমিটির সদস্য জুবায়ের হোসেন জানান, আমাদের কোচিং সেন্টারের ৫টি কক্ষে প্রতিদিন একাধীক শীফটে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কোচিং চলে। প্রতি ব্যাচে ২০ থেকে ২৫ জন করে শিক্ষার্থী আছে। প্রতিমাসে তাদের কাছ থেকে বেতন বাবদ ১২শত’ টাকা করে নেওয়া হয়। কোচিং সেন্টারটি ইমরান, শাহিন ও অনিক ও আমি দীর্ঘদিন যাবত পরিচালনা করে আসছি। স্কুল/কলেজ বন্ধ থাকায় সাধারণ শিক্ষার্থীরা আমাদের কাছে আসে তাই আমরা কোচিং পরিচালনা করছি। আমাদের কোচিং করানোর কোন ধরণে বৈধতা নেই কিন্তু শিক্ষার্থীরা পড়তে আসে তাই আমরা কোচিং সেন্টার চালু রেখেছি। আশে পাশে এমন অনেক কোচিং সেন্টার রয়েছে।
এবিষয়ে সাকসেস এডমিশন কেয়ার কোচিং সেন্টারের পরিচালক ইমরান জানান, আমাদের কোচিং সেন্টারটি টঙ্গী সরকারী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ শাখা ছাত্রলীগের এক বড় ভাই দেখাশোনা করেন। কোচিং এর ব্যাপারে অন্য কোন কথা বলতে পারবো না।
এব্যাপারে টঙ্গী থানা শিক্ষা অফিসার শিখা বিশ্বাস জানান, এ সম্পর্কে আমাদের জানা নেই। আমরা খোজঁ নিয়ে দেখবো কারা কোচিং সেন্টার পরিচালনা করেন।
বার্তাবাজার/পি