ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ১৫ নং কালীচরণপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মতিউর রহমান বিশার বিরুদ্ধে সরকারী ঘর নির্মান করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।
ঘর পাওয়ার আশায় অনেক দরিদ্র লোকজন ঋন করে ১০ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত ওই জনপ্রতিনিধি কাছে দিয়েছে। টাকা দেওয়ার কয়েক বছর পেরিয়ে গেলেও ঘর তৈরির কোন খরব নেই।
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কালীচরণপুর ইউনিয়নের বয়েড়া তলা গ্রামের বাসিন্দা ফাহিমা খাতুন। স্বামী সন্তান নিয়ে বসবাস করেন টিনের খুপড়ি ঘরে। স্বামী কাঠ মিস্ত্রীর কাজ করে কোন রকম চালান সংসার। “যার জমি আছে ঘর নাই” তার নিজ জমিতে গৃহনির্মান প্রকল্পে ঘর পাওয়ার আশায় ঋন করে ১৬ হাজার টাকা দেন চেয়ারম্যানের কাছে। কিন্তু তিন বছর পেরিয়ে গেলেও ঘর পাননি তারা, টাকা ফেরত চাইতে গেলেও করেন খারাপ আচরন। প্রায় ২৫ টি পরিবারের কাছ থেকে ৬ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা নিয়েছে চেয়ারম্যান। এছাড়াও আরো অনেক পরিবারের কাছ থেকে বিভিন্ন ভাতা সুবিধা দেওয়ার কথা বলে টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
একই গ্রামের কাশেম আলী ভ্যান চালিয়ে সংসার চালান। সরকারী আধা পাকা ঘর পাওয়ার আশায় চেয়ারম্যান মতিউর রহমান বিশার কাছে গেলে টাকা দাবি করেন। পাকা ঘরে স্ত্রী সন্তান নিয়ে থাকবেন বলে তার দাবি মেনে নিয়ে ১৫ হাজার টাকা দেন। কিন্তু কয়েক বছর গেলেও ঘর তো দুরে থাক টাকাও ফেরত পাননি তিনি।
একই গ্রামের উজির আলীর স্ত্রী চায়না খাতুন অভিযোগ করে বলেন, আমরা গরিব মানুষ। ঘর পাবার আশায় এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে বিশা মেম্বারের কাছে ১৬ হাজার টাকা দিয়েছিলাম দুই বছর আগে। আজও পর্যন্ত আমাদের ঘরও দেয়নি। টাকাও ফেরত দেয়নি। আমাদের মত অসংখ্য লোকের কাছ থেকে সে এভাবেই টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।
একই গ্রামের জিন্নাত আলী। তিনি ঝিনাইদহ শহরের হাটের রাস্তায় নৈশ প্রহরীর কাজ করেন। তিনি কষ্ট করে জমানো ১০ হাজার টাকা ঘর পাওয়ার আশায় বিশার হাতে তুলে দেন। অনেক দিন হয়ে গেলেও তার কাছে টাকা ফেরত চাইতে গেলে সে বিভিন্ন অজুহাতে ঘুরাতে থাকে।
ওই গ্রামের হতদরিদ্র গোলাম নবী অভিযোগ করেন, তিনি বাড়িতে একটি নলকুপ বসানোর জন্য বিশার কাছে গেলে তিনি ২ হাজার টাকা দাবি করেন। তার দাবিকৃত ২ হাজার টাকা দেওয়ার পরও দুই বছর পেরিয়ে গেলেও টাকাও ফেরত দেয়নি নলকুপও দেয়নি।
অপরদিকে বিল্লাল হোসেনের স্ত্রী সুমি খাতুন বলেন তারা একটি ঘরের জন্য অনেক কষ্ট করে ১৬ হাজার টাকা বিশা মেম্বারের হাতে তুলে দেয়। দীর্ঘদিন পেরিয়ে গেলেও ঘর এবং টাকা কোনটাই দেয়নি। এরকমভাবে অত্র ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের অসংখ্য মানুষের কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছে লক্ষ লক্ষ টাকা। এব্যাপারে তারা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মতিউর রহমান বিশার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও বিচার দাবি করেছেন।
শুধু ফাহিমা কিংবা কাশেম নয় ইউনিয়নের ৬নং ওর্য়াডের অনেকেই ঘর তৈরি, টিউবওয়েল, বিধবা ভাতা, বয়স্ক ভাতা পাওয়ার আশায় ওই জনপ্রতিনিধির কাছে টাকা দিয়েছে।
কালীচরণপুর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মতিউর রহমান বিশা তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এসব বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। সামজিক দলাদলির কারনে প্রতিপক্ষরা তাকে ফাসানোর জন্য মিথ্যাচার করছে।
এ ব্যাপারে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বদরুদ্দোজা শুভ বলেন, সাধারন মানুষের সাথে এ ধরনের প্রতারণার বিষয়টি তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বার্তাবাজার/পি