যমুনার চরাঞ্চলে ড্রেজার মেশিনে বালু উত্তোলন; নিরব ভূমিকায় প্রশাসন

বগুড়ার ধুনট উপজেলার ভান্ডারবাড়ী ইউনিয়নের যমুনা নদীতে একাধিক ড্রেজার মেশিনের সাহায্যে চরাঞ্চলের শত শত একর ফসলী জমি থেকে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছে স্থানীয় প্রভাবশালীরা।

তবে এ বিষয়ে অভিযোগ করেও কোন প্রতিকার পাচ্ছেন না যমুনার ভাঙ্গন কবলিত এলাকার মানুষজন।

সরেজমিনে জানা গেছে, ধুনট উপজেলার ভান্ডারবাড়ী ইউনিয়নের পূর্ব পাশ দিয়ে বয়ে গেছে যমুনা নদী। প্রতিবছর নদী ভাঙনের কারণে ওই ইউনিয়নের প্রায় ১২টি গ্রামের শত শত একর ফসলী জমি ও শত শত পরিবারের বাড়িঘর ভাঙনের কবলে পড়ে বিলীন হয়েছে বহুবছর আগেই। ভাঙ্গন কবলিত এলাকার মানুষজন যমুনা নদীর শহড়াবাড়ী বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধ, শিমুলবাড়ি, বানিয়াজান, বৈশাখী ও রাধানগর চর সহ বিভিন্ন এলাকায় আশ্রয় নিয়ে বসবাস করে আসছে। আবার যখন যমুনার চর জেগে ওঠে তখন এসব মানুষজন চরাঞ্চলে ফসল ফলিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে।

কিন্তু গত ১০/১৫দিন ধরে ভান্ডারবাড়ী ইউনিয়নের বৈশাখী, রাধানগর ও শহড়াবাড়ি চরের প্রায় শত শত একর ফসলি জমিতে জোর করে একাধিক ল ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছে স্থানীয় প্রভাবশালীরা। তারা ৫টি ল ড্রেজার মেশিনের সাহায্যে বালু উত্তোলন করে প্রায় ৪০ থেকে ৫০টি বড় বড় নৌকায় আনলোড করে তা বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে বিক্রি করছে।

যমুনা নদীতে ভাসমান নৌকায় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ক্যাডার বাহিনীর সদস্যরা দেশীয় অস্ত্র উঁচিয়ে মহড়া দিয়ে বালু উত্তোলন করায় ওদের ভয়ে প্রতিবাদ করারও সাহস নেই এসব ভাঙ্গন কবলিত এলাকার মানুষদের। স্থানীয় এলাকাবাসী এসব বিষয়ে অভিযোগ করেও কোন প্রতিকার পাননি। ভূমিদস্যুরা চরাঞ্চল কেটে নিয়ে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিলেও নিরব ভূমিকায় রয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েক ব্যক্তি জানান, শহড়াবাড়ি গ্রামের আল-আমিন, ফরিদ উদ্দিন, গোসাইবাড়ি গ্রামের টিন ব্যবসায়ী বেলাল হোসেন, দোয়াতপুর গ্রামের মোয়াজ্জেম হোসেন ও বৈশাখী গ্রামের ভুলু মিয়া সহ আরো কয়েক ব্যক্তি ক্যাশিয়ারের দায়িত্ব পালন করছে। এদের সবার কাছেই প্রায় দেশীয় অস্ত্র রয়েছে। তারা অস্ত্র উঁচিয়ে নদীতে মহড়া দিয়ে চর কেটে বালু উত্তোলন করে নৌকায় করে কাজিপুরে মেঘাই ও ঢেকুরিয়া বাজারের বালু মহালে বিক্রি করছে। এরা সবাই স্থানীয় কতিপয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ক্যাডার।

শহড়াবাড়ী গ্রামের ফরহাদ হোসেন, মুদি দোকানদার জুয়েল ও শামীম তালুকদার সহ কয়েক ব্যক্তি বলেন, নদীতে বর্তমানে পানি রয়েছে। কিছুদিন পর বৈশাখী, রাঁধানগর, শহড়াবাড়ির চর জেগে উঠবে। গত বছরও আমরা সেখানে ধান, ভুট্টা, গম, বাদাম, ডাল সহ বিভিন্ন ফসল চাষাবাদ করেছিলাম। কিন্তু এবছর ভূমিদস্যুরা আমাদের পৈত্রিক ভিটে মাটি জোর করে কেটে নিয়ে যাচ্ছে। এবিষয়ে অভিযোগ করেও কোন লাভ হয়নি।

ধুনট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মশিদুল হক বলেন, এমনিতেই যমুনার গর্ভে অনেক ফসলী জমি বিলিন হয়েছে। তারপরও যদি চরাঞ্চলের জমি থেকে বালু উত্তোলন করা হয় তাহলে চরে ফসল উৎপাদন করা সম্ভব হবে না।

ধুনট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কৃপা সিন্ধু বালা বলেন, যমুনা নদীতে পুলিশি টহল দিতে কোন নৌযান ছিল না। কিন্তু আমি আবেদন করে একটি স্পিডবোট বরাদ্দ পেয়েছি। তারপরও নৌকা নিয়ে চরাঞ্চলে পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হবে এবং বালু উত্তোলনের বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়া হবে।

এবিষয়ে ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সঞ্জয় কুমার মহন্ত বলেন, যমুনা নদীর চর কেটে বালু উত্তোলনের বিষয়টি জানা নেই। তারপরও খোঁজ নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বার্তাবাজার/পি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর