২০২০ সাল শেষ হতে সময়ের হিসাবটা এখন ঘন্টার হিসাবেও করা যাবে। এই বছর বিএনপির চাওয়া পাওয়ার হিসাবটা এর চেয়েও সহজ। প্রাপ্তির মাঝে শুধু দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ছাড়া আর কিছুই নেই। না পাওয়ার হিসাবের খাতাটা বেশ বড়।
রাজনীতির মাঠে বড় ধরণের কোনো কর্মসূচীতে তাদের দেখা যায়নি। দল পুনর্গঠনের কাজও ঠিকঠাক করতে পারেনি তারা। দলের হাই কমান্ডের দাবি, করোনা মহামারীর কারণে তাদের কার্যক্রমে বেশ ব্যাঘাত ঘটেছে।
তবে বছরের শেষ দিকে এসে বিএনপিকে নিয়ে মানুষের মাঝে বেশ আলোচনা শুরু হয়। হাই কমান্ডকে না জানিয়ে সরকারবিরোধী আন্দোলনের ডাক দেইয়ার অভিযোগ ওঠে ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজউদ্দিন আহমেদ ও শওকত মাহমুদের নামে। তাদেরকে করা হয় শোকজ। সেটার সন্তোষজনক জবাব দেওয়ায় আপাতত তাদের প্রতি শান্ত দৃষ্টি উচ্চ পর্যায়ের নেতাদের।
এতসব ঝামেলার পরেও নিজেদের দল নিয়ে আসন্ন বছরে বেশ আশাবাদী দলটি। নতুনভাবে তাদের সকল কার্যক্রম পরিচালিত হবে বলে পরিকল্পনা করছেন। স্বাধীনতার সূবর্ণ জয়ন্তী নিয়েও তাদের রয়েছে বিস্তর কর্মসূচী। নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিতে জোরালো কর্মসূচী দেওয়ার ভাবনাও তাদের মাঝে আছে।
বছরের গোড়ার দিকে বিশ্বে আঘাত হানে করোনা। বাংলাদেশেও তাই। দেশের আকাশে যখন শঙ্কা আর শঙ্কা তখন বিএনপির জন্য খুশির খবর তৈরি করেছে সরকার। দীর্ঘদিন কারাবন্দি থাকার পর বিশেষ বিবেচনায় মুক্তি দেয়া হয় খালেদা জিয়াকে। বেগম জিয়ার পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতেই এক নির্বাহী আদেশে এই মুক্তি দেয়া হয়। ২৫ মাস কারাভোগের পর ২৫ মার্চ তিনি মুক্ত হয়ে ওঠে আসেন গুলশানের বাসা ফিরোজায়।
প্রথম দফায় তাকে ৬ মাসের মুক্তি দেওয়া হলেও পরিবারের আবেদন ও করোনার প্রকোপের কারণে সেপ্টেম্বর মাসে আরও ৬ মাসের ছুটি বাড়ানো হয়। তবে নেত্রী মুক্তি পাওয়ার পর সেই রকম বড় কোনো আন্দোলনে না গেলেও নেতাকর্মীদের মাঝে বেশ ফুরফুরা ভাব চলে এসেছে।
দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, গেল বছরটি শুধু বিএনপি নয়, সারাবিশ্বের কাছেই খুব বেদনাময়। মহামারী করোনায় সব কিছু ওলটপালট করে দিয়েছে। রাজনীতিতেও এর বিরূপ প্রভাব পড়েছে। তারপরও স্বাস্থবিধি মেনে আমরা সীমিত পরিসরে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়েছি।
তিনি আরও বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে আমরা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ একটি নতুন জাতীয় নির্বাচনের দাবি বারবার তুলে ধরছি। নতুন বছরেও এই দাবি জোরালো করতে যেটুকু স্পেস আছে, সেটুকু কাজে লাগানোর চেষ্টা করা হবে।
মির্জা ফখরুল বলেন, আমাদের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি নেতাকর্মীদের জন্য সুখবর। কিন্তু আমরা পুরোপুরি আনন্দিত হতে পারিনি। কারণ, এখনও তিনি মুক্ত নন। তাকে পুরোপুরি মুক্ত করাই আমাদের অন্যতম লক্ষ্য।
বার্তাবাজার/এসজে