জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক ও ইন্টানীদের উপর পুলিশী নির্যাতন ও মারধরের প্রতিবাদে দোষী পুলিশ সদস্যদের প্রত্যাহার ও শাস্তির দাবিতে কর্মবিরতি শুরু করেছেন জেলার সকল সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকরা।
স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (সাচিব) ও বাংলাদেশ মেডিক্যাল এসোসিয়েশন (বিএমএ) এর যৌথ ডাকে কর্ম বিরুতির কারণে শনিবার সন্ধ্যা থেকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালসহ জেলার সকল সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে জরুরি চিকিৎসা ছাড়া বন্ধ রয়েছে সকল প্রকার চিকিৎসা কার্যক্রম।
ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছে চিকিৎসা নিতে আসা প্রত্যন্ত অঞ্চলে শত শত রোগী ও স্বজনরা। বিশেষ করে শীতজনিত কারণে হাসপাতালে ভর্তিকৃত শিশু ও বৃদ্ধরা চিকিৎসা না পেয়ে পড়েছেন চরম বিপাকে।
শুক্রবার দুপুরে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে করিমন নেছা নামের এক রোগীর মৃত্যু ঘটানাকে কেন্দ্র করে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের হামলা হামলা ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। এ সময় রোগীর স্বজন ও ইন্টানী চিকিৎসকদের মধ্যে দফায় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ঘটনা ঘটে। এ সময় কয়েক চিকিৎসকসহ অন্তত ১০জন আহত হন।
খবর পেয়ে সদর থানার পুলিশ গিয়ে লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ কয়েকজন ইন্টানী ডাক্তারকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। অবশ্য পরে কোন শর্ত ছাড়াই তাদের ছেড়ে দেয়া হয়।
এ নিয়ে গতকাল বিকালে সাচিব ও বিএমএ’র নেতৃবৃন্দ জরুরি সভা করে দোষী পুলিশ সদস্যদের শাস্তির দাবিতে কর্ম বিরতির সিন্ধান্ত নেন।
স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (সাচিব) এর জামালপুর জেলা সভাপতি ডাঃ মোশায়ের-উল-ইসলাম বলেন, পুলিশ হাসপাতালে কর্মরত ডাক্তার ও ইন্টানীদের উপর যেভাবে বর্বর হামলা ও মারপিট করেছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়া কর্মবিরতি অব্যাহত থাকবে।
এদিকে পুলিশ সুপার মোঃ দেলোয়ার হোসেন বার্তা বাজারকে বলেন, ডাক্তার ও রোগীর স্বজনদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা ও সংঘর্ষের খবর পেয়ে সেখানে দ্রুত পুলিশ পাঠানো হয়। পুলিশ যাওয়ার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রেণে আসে। এ ঘটনায় স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক মোঃ কবির উদ্দিনকে প্রধান করে ৭ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ২৪ ঘন্টার মধ্যে কমিটি তদন্ত প্রতিবেদন দেবেন।
বার্তাবাজার/এ.আর