স্বর্ণ ব্যবসার আড়ালে ভারতে স্বর্ণ পাচার, ভারতীয় টাকার অবৈধ ব্যবসা

মেহেরপুরের গাংনীর কৃষক উজ্জল হোসেন অপহরনের প্রধান আসামি বিনয় কৃষ্ণ প্রামানিক স্বর্ণের ব্যবসার আড়ালে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে গড়ে তুলেছে স্বর্ণ পাচার, মাদক ও ভারতীয় টাকার অবৈধ ব্যবসা। আর এই সব অবৈধ ব্যবসার সাথে জড়িত রয়েছে বাংলাদেশ ও ভারতের একাধিক ব্যাক্তি।

পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে বলে পুলিশের দাবী। বিষয়টি আরো গভীর ভাবে ক্ষতিয়ে দেখতেই অপহরণ মামলায় আটক আসামী স্বর্ণ ব্যবসায়ী বিনয় কৃষ্ণ প্রামানিক, বিকাশ ব্যবসায়ী সাফা আহমেদ ও খালেদ হোসেনকে আদালতে দাখিল করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেছেন।

মামলার তদন্তকারী অফিসার এস আই নুর হোসেন বার্তা বাজার কে এ তথ্য জানান।

শনিবার (২৬ ডিসেম্বর) দুপুরে এসব আসামীদের আদালতে দাখিল করেন পুলিশ।

কৃষক উজ্জল হোসেন অপহরণের ঘটনায় অপরাধ পূর্বক আটক রেখে চাঁদা দাবী ও হত্যার হুমকী দেয়ার অভিযোগে ধারা ৩৬৪/৩৪২/৩৮৫/৩৮৭/৩৪ প্যানাল কোর্ড অনুযায়ী একটি মামলা দায়ের করেন অপহৃত উজ্জল হোসেনের পিতা মাফিজুর রহমান। মামলা নং ১৩।

মামলায় বিনয় কৃষ্ণ প্রামানিক, সাফা আহমেদ ও খালেদ হোসেন ছাড়াও অজ্ঞাত ৩ থেকে ৪ জনকে আসামী করা হয়েছে। এর আগে প্রধান আসামী বিনয় কৃষ্ণ প্রামাণিকের স্বীকারোক্তিতে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে অপহৃত উজ্জল হোসেনকে গাংনী উপজেলার তেরাইল গ্রাম থেকে উদ্ধার করেন গাংনী থানা পুলিশ।

গাংনী থানার ওসি তদন্ত সাজেদুল ইসলাম জানান, বিনয় কৃষ্ণ প্রামানিক স্বর্ণের ব্যবসার আড়ালে ভারতে স্বর্ণ পাচার করতো। এবং ভারত থেকে নিয়ে আসতো ফেনসিডিল। তার রয়েছে ভারতীয় টাকার অবৈধ ব্যবসা। বাংলাদেশ থেকে ভারতে চিকিৎসা বা অন্য কোনো বিষয়ে গমনকারীদের সাথে টাকার অবৈধ ব্যবসা করে থাকেন তিনি। চড়া মুল্যে টাকার এ অবৈধ ব্যবসা করে থাকে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। বিনয় কৃষ্ণ প্রামাণিকের ভারতে রয়েছে একাধিক আত্মীয় স্বজন। ওপারে স্বর্ণ পাচারে জন্য তাদের ব্যবহার করে থাকেন তিনি। এছাড়া ভারত থেকে সীমান্ত পেরিয়ে এদেশে নিয়ে আসেন ফেনসিডিলের চালান। ভারতের ওপারে প্রধান হিসেবে কাজ করে থাকে মুরুঠিয়া থানার পাকশি গ্রামের হাফিজ নামের এক ব্যক্তি। স্বর্ণ পাচার করতেই প্রায় প্রতিমাসেই ইন্ডিয়া গিয়ে থাকেন বিনয় কৃষ্ণ প্রামাণিক সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের হাফিজের মাধ্যমে ফেনসিডিলের একটি বড় চালান নিয়ে আসেন বিনয় কৃষ্ণ প্রামানিক। সেদিন ৩২০ বোতল ফেনসিডিল বিজিবির হাতে ধরা পড়ে। সীমান্তের তেতুঁলবাড়িয়া গ্রামের উজ্জল হোসেন বিজিবিকে খবর দিয়েছে এমন আশংকায় বিনয় কৃষ্ণ প্রামানিক এবং ভারতের হাফিজ পরিকল্পিত ভাবে মুক্তিপণ আদায়ের জন্যই উজ্জল হোসেনকে অপহরণ করে। পুলিশের দাবী সাফায়ত আহমেদের মাধ্যমে বিকাশের লেন দেন করতো বিনয় কৃষ্ণ প্রামানিক। আর ভারতে টাকা পৌছে দিতো মেহেরপুর সদর উপজেলার ষোলমারী গ্রামের খালেদ হোসেন।

এদিকে স্বর্ণ ব্যবসায়ী বিনয় কৃষ্ণ প্রামানিক আটক হওয়ার পর গাংনী শহরের কিছু স্বর্ণ ব্যবসায়ী আতংকিত হয়ে পড়েছেন।

উল্লেখ্য, গত ২২ ডিসেম্বর সন্ধ্যা সাত টার দিকে গাংনী উপজেলার তেরাইল গ্রামের মতিউর রহমানের ছেলে জয় সীমান্তবর্তী তেতুঁলবাড়িয়া গ্রামের মাফিজুর রহমানের ছেলে উজ্জল হোসেনকে মোটরসাইকেল করে তুলে নিয়ে যায়। পরে ভারতের ভুখন্ড থেকে হাফিজ পরিচয় দিয়ে এক লাখ ৮০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবী করে ফোন করেন। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে তাদের দেওয়া বিকাশ এ্যাকাউন্টে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা প্রদান করে। এসময় গাংনী থানা পুলিশের একটি টীম গাংনী উপজেলা শহরে অবস্থিত সাফায়েত আহমেদের বিকাশ এজেন্টের সামনে উপস্থিত হন। বিকাশের টাকা কে উত্তোলন করে এ তথ্য জানতে চাইলে স্বর্ণ ব্যবসায়ী বিনয় কৃষ্ণ প্রামানিক নাম বলে। পরে তাদের আটকের পর স্বীকারোক্তিতে বৃহস্পতিবার দিবাগত মধ্যরাতে অপহৃত উজ্জল হোসেনকে উদ্ধার করেন গাংনী থানা পুলিশ।

বার্তাবাজার/পি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর