ঢাকনাবিহীন গাড়িতে বর্জ্য অপসারণ, দূষিত হচ্ছে পরিবেশ

যততত্র আবর্জনা ফেলার বাস্তবতা যেন কেরানীগঞ্জের প্রতিটি ইউনিয়নের চিরচেনা দৃশ্য। এই ক্ষেত্রে পরিবেশ দূষণ, রোগ-জীবাণুর সংক্রমণ ও নাগরিক অস্বস্তির মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলিকেও থোড়াই কেয়ার করেন অনেকে।

রাস্তাঘাট, স্কুলমাঠ, পুকুরপাড়, অলিগলি, আবাসিক বা বাণিজ্যিক এলাকাসহ এমন কোনো এলাকা নেই যেইখানে আবর্জনার স্তূপের দেখা মিলবে না। উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ নদী এবং খালগুলিও আবর্জনায় সয়লাব হয়ে আছে। ফলে রোগ-জীবাণু ছড়াতে পাড়ে এবং বাড়তে পাড়ে রোগব্যাধির প্রকোপ।

অন্যদিকে বাসা বাড়ীর বর্জ্য এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নেওয়ার জন্য ঢাকনাবিহীন গাড়ি ব্যবহারের ফলে ময়লা মাটিতে পরে আশেপাশে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পরিবেশ দুষিত করছে।

শুভাঢ্যা ইউনিয়নের স্থানীয় বাসিন্দা মাসুদ পারভেজ অভিযোগ করে জানান, শুভাঢ্যা ইউনিয়ন ও আগানগর ইউনিয়ন থেকে সংগ্রহীত ময়লা আর্বজনা খোলা পিকআপ ভ্যানে করে বিভিন্ন জায়গায় ফেলা হয় যা ট্রিপল দিয়ে ঢেকে নেওয়ার কথা। অথচ সেটি করা হচ্ছে না।খোলা ট্রাকে ময়লা পরিবহনের ফলে প্রতিনিয়ত সড়ক নষ্ট ও পরিবেশ দূষিত হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখাগেছে, নির্দিষ্ট কোন সময় ছাড়া দিনের বেলায় যখত তখন ঢাকনা বিহীন ট্রাক বা ভ্যান দিয়ে বর্জ্য সংগ্রহ ও পরিবহন করা হচ্ছে। বর্জ্যবাহী গাড়ির পাশ কাটিয়ে যেতে পথচারীদের দুর্গন্ধ থেকে বাঁচতে নাকে রুমাল চেপে চলাচল করতে হয় । এছাড়াও খোলা ট্রাকে ঠাঁসাঠাসি করে বর্জ্য পরিবহনের সময় যেখানে সেখানে পড়ে যাচ্ছে গাড়িতে থাকা বর্জ্য । ফলে ময়লা হচ্ছে রাস্তা। এছাড়া বিভিন্ন এলাকা ঘুড়ে দেখা গেছে, শুভাঢ্যা, আগানগর ও জিনজিরা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার যেখানে সেখানে ময়লা আবর্জনার স্তুপ রয়েছে।

সচেতনমহল মনে করেন, জনসচেতনতার অভাব এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও অব্যবস্থাপনাই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি করছে। উন্নত দেশগুলিতে বর্জ্য এখন আয়ের উৎস হয়ে উঠেছে। সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বর্জ্য থেকে সার, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব। তার জন্য আন্তর্জাতিক মানের আধুনিক ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি। এর জন্য প্রয়োজন সুষম ও কার্যকর পরিকল্পনা এবং তার বাস্তবায়ন। ফলে বর্জ্যমুক্ত করা অনেকটাই সহজ হয়ে যাবে। তবে এলাকাকে পরিচ্ছন্ন ও বর্জ্যমুক্ত রাখার দায়িত্ব কেবল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাঁধে চাপিয়ে দিলে চলবে না, এলাকাবাসীর সচেতনতা এবং সক্রিয় সহযোগিতারও প্রয়োজন রয়েছে।

ঢাকনাবিহীন গড়িতে ময়লা পরিবহনের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে শুভাঢ্যা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী মোঃ ইকবাল হোসেন জানান, এ বিষয়টি আমাকে কেউ জানায়নি। তাই বিষয়টি আমার নজরে আসেনি। তবে আমি সবাইকে বলে দিবো যেনো কারো দায়িত্ব অবহেলার কারণে বাসা বাড়ীর বর্জ্য পরিবহনের সময় ময়লা আবর্জনা সড়কে না পরে এবং খোলা ট্রাক অথবা ভ্যানে বর্জ্য পরিবহনের সময় কোন ভাবে যেনো পরিবেশ দূষিত না হয় সে বিষয়টিও খেয়াল রাখতে বলবো।

বার্তাবাজার/পি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর