টিউশন ফি মওকুফ চায় ইবি শিক্ষার্থীরা

করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে অভিভাবকদের আর্থিক অসহায়ত্ব বিবেচনা করে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) অনলাইনে সম্পন্ন হওয়া দুই সেমিস্টারের ফাইনাল পরীক্ষার টিউশন ও পরিবহন ফি মওকুফের দাবি জানিয়েছে শিক্ষার্থীরা। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দাবি জানাতে দেখা গেছে তাদের।

শিক্ষার্থীদের দাবি, চলমান করোনা পরিস্থিতিতে সারা বাংলাদেশের প্রতিটি পরিবার অর্থনৈতিক, মানসিক ও সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। সমাজের নিম্নবিত্ত, নিম্ন মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষদের জীবিকা নির্বাহ করা অত্যন্ত কষ্টকর। অধিকাংশ শিক্ষার্থীরা আর্থিকভাবে সংকটে রয়েছে। নয় মাস ধরে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকলেও শিক্ষার্থীদের নানা ব্যয় থেমে নেই। অন্যদিকে শিক্ষার্থীরা হারিয়েছে টিউশনসহ অন্যান্য উপার্জনের পথ। এমতাবস্থায় টিউশন ফিসহ অন্যান্য ফি পরিশোধ করা তাদের পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

এ বিষয়ে লোক প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী তন্ময় সেন বলেন, চলতি বছরে অনলাইনে সম্পন্ন হওয়া দুই সেমিস্টারের টিউশন, পরিবহন ফি ও হল ফি মওকুফ করার জন্য ইবি প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।

ফার্মেসী বিভাগের শিক্ষার্থী আরিফুল ইসলাম খান বলেন, করোনা সংকটের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি আমরা। এ অবস্থায় টিউশন অন্যান্য ফি বহন করা শিক্ষার্থীদের জন্য কষ্ট হয়ে যাবে। অনেক শিক্ষার্থী নিজের টিউশনির টাকা দিয়ে চলতো যাদের বাসা থেকে সাপোর্ট দিতে পারে না। এখন তাদের টিউশনি নাই তারা কি করবে? আর যেহেতু ক্যাম্পাস অফ সেহেতু পরিবহন ফি নেওয়াটা এমনেই জুলুম। বিশ্ববিদ্যালয় যেহেতু শিক্ষার্থীদের জন্য সুতরাং আশা করি যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের জন্য ভালো সিদ্ধান্তই নিবেন ইনশাআল্লাহ।

বাংলাদেশ ছাত্রমৈত্রী ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি আব্দুর রউফ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যেহেতু করোনা কালীন সময়ে শিক্ষার্থীদের কল্যাণে সেরকম কোনো উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারেনি। একারণে শিক্ষার্থীদের কল্যাণের জন্য তারা চাইলে যেকোনো ধরনের ফি মওকুফ করতে পারেন। সেই স্বাধীনতা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের রয়েছে। তাই শিক্ষার্থীদের কল্যাণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে তিনি প্রত্যাশা করেন।

এবিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ আবদুস সালাম বলেন, এখন বিশ্ববিদ্যালয় ছুটি। আমিও এখন ছুটিতে আছি ঢাকাতে। সরকারকে আমরা মৌখিক ভাবে বলেছিলাম তাদেরকে সাহায্য করা দরকার। ছুটির পরে এ বিষয়ে দেখবো।

বার্তাবাজার/এ.আর

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর