রংপুরে প্রতিবন্ধী রিকশাচালক নাজমুল ইসলামকে পিটিয়ে হত্যার পর তার মৃতদেহ ঝুলিয়ে রাখার ঘটনায় অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বুধবার (২৩ ডিসেম্বর) রাতে নিহতের স্ত্রী শ্যামলী বেগম বাদী হয়ে পুলিশ কনস্টেবল হাসান আলী ও স্ত্রী সাথী বেগমকে আসামি করে এ মামলা দায়ের করেন।
বৃহস্পতিবার নগরীর পার্কের মোড়ে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন সড়কে বিক্ষোভ মিছিল করেছে স্থানীয় এলাকাবাসী ও অটোরিকশা শ্রমিকেরা। এসময় বিক্ষুব্ধ জনতা পুলিশ কনস্টেবল হাসান আলীর শাস্তির দাবিতে ঢাকা-রংপুর-কুড়িগ্রাম মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে যানচলাচল বন্ধ করে দেয়। এসময় পুলিশের সাথে এলাকাবাসীর সাথে পুলিশের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে কয়েকজন এলাকাবাসী আহত হন।

দুপুরে নগরীর শাপলা চত্বরে অটো রিকশাচালক শ্রমিক লীগ ও দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বাংলাদেশ ছাত্র ও যুব অধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা ওই ঘটনায় জড়িতদের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করে।
এব্যাপারে মহানগর পুলিশের তাজহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আখতারুজ্জামান প্রধান বলেন, এ ঘটনায় কনস্টেবল হাসান ও স্ত্রী সাথীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আজ বেলা সোয়া দুইটায় আসামিদের আদালতে নেয়া হয়েছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম জানান, বেলা সোয়া দুইটার দিকে আসামিদের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক ফজলে ইলাহী খান এর আদালতে নেয়া হয়েছে।
এদিকে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য ও তার স্ত্রীকে আদালতে নেয়া হলে ছবি তোলার সময় সাংবাদিকদের বাধা দেন কোর্ট কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যরা।
উল্লেখ্য, বুধবার সন্ধ্যায় কনস্টেবল হাসান আলীর আশরতপুর কোর্টপাড়া এলাকার ভাড়া বাসা থেকে ওই রিকশাচালকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে কনস্টেবল হাসান ও স্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করে এলাকাবাসী। ঘটনার দিনই ওই পুলিশ সদস্য ও তার স্ত্রীকে আটক করা হয়।
বার্তা বাজার/এস.আর