উত্তর কোরিয়াতে একটি কারাগারে থাকা বন্দিদের মৃত্যুর পর মাটিচাপা দেওয়া স্থানে সার উৎপাদন করে তা বাগানের কাজে ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। ওয়াশিংটন ডিসির হিউম্যান রাইটস ইন নর্থ কোরিয়া (এইচআরএনকে) তাদের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য ফাঁস করেছে।
তাদের তথ্যমতে উত্তর কোরিয়ার দ্য চংসান-১১ নামের ক্যাম্পে যত বন্দি আছে তাদেরকে করা হয় অমানবিক নির্যাতন। রাজধানী পিয়ংইয়ং থেকে ৩০ মাইল পূর্বে অবস্থিত এই ক্যাম্পটি।
প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিবছর অন্তত ২ হাজার বন্দি নির্যাতনে নয়তো মৃত্যুদণ্ডে মারা যাচ্ছে। প্রেসিডেন্ট কিম জং উনের নির্দেশেই দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা ব্যক্তিদের ধরে এনে এই ক্যাম্পে বন্দি করা হয়। তাদেরকে জোর করে শূকর পালনে বাধ্য করা হয়। নির্যাতন সইতে না পেরে অনেকেই মারা যান। আবার অনেককে মৃত্যুদণ্ডও দেওয়া হয়। পরে তাদের দেহ থেকে উৎপাদন করা হয় জৈব সার।
ক্যাম্পটি থেকে পালিয়ে আসতে সফল হওয়া এক বন্দি জানান, মাটি চাপা দেওয়ার পর মরদেহগুলো প্রাকৃতিক সারের মত কাজ করে। আর সেই সার থেকে ‘আজালিয়া’ নামের এক প্রকার লাল ফুলের চাষ করা হয়।
তার সাথে পালাতে সক্ষম আরও এক বন্দি জানান, আমরা যে ক্যাম্পে ছিলাম তার আশেপাশে মরদেহ মাটি চাপা দেওয়ার মত খালি জমি আর ছিল না। আমি মৃতদেহগুলো ওই ফুলের বাগানে নেওয়ার কাজ করতাম। সেখানে একটি গণকবর ছিল। যেটায় অন্তত ৫ হাজার মরদেহ মাটিচাপা দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদনের বিষয়ে কমিটি এইচআরএনকে’র সিনিয়র ফটো এনালিস্ট জোসেফ এস বার্মুডেজ জানান, চংসানের ১১ নম্বর ক্যাম্পটি বন্দি নির্যাতনের জন্য সাক্ষাত নরক। এখানের বন্দিদের সরাসরি কাজ করানো হচ্ছে মাংস, মাছ ও লবণ উৎপাদনে।
বার্তাবাজার/এসজে