ঋতু পরিবর্তনের ফলে প্রতিবছরেই শীত আসে। এক রোমাঞ্চকর ঋতুর নাম শীত। এ সময় নিয়ে ভাবলে কুয়াশাঘেরা সকাল, শিশির ভেজা ঘাস আর তুষার কণা বেষ্টিত ফুলের স্মৃতি সামনে ভাসে। প্রকৃতি অপরূপ সৌন্দর্যে মোড়ানো থাকে এই মৌসুমে।
গতবার শীতের শেষবেলায় বন্ধ হয়েছিলো বিশ্ববিদ্যালয়। এরপর বছর ঘুরে আবারও শীত এসেছে। কিন্তু ক্যাম্পাস খুলেনি। আর তাই ঘরে বসেই শীতের সময়ের ক্যাম্পাসের স্মৃতি হাতড়াচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। কয়েকজন শিক্ষার্থীদের সাথে আলাপ করে ক্যাম্পাসের শীতের সৌন্দর্য ফুটিয়ে তুলেছেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী মোঃ ফাহাদ হোসেন।
শীতে শিশিরভেজা চবি ক্যাম্পাসের শুভ্রতা
ভিন্ন ভিন্ন ঋতুতে ভিন্ন রুপ ধারণ করে সৌন্দর্যের রাণী খ্যাত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ক্যাম্পাস। শীতকালে তার রুপের মায়া বেড়ে যায় কয়েকগুণ। কুয়াশাচ্ছন্ন সকালে শাটলে শিশিরভেজা কাঁশবন ছুঁয়ে শুরু হয় দিন। দিন কাটে ক্লাসে, আড্ডায় আর ঝুপড়ির গানের আসরে কিংবা সখার সাথে চায়ের চুমুকে। বিকালে কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে ঘুরতে গেলে দেখা মিলবে ভিন্ন চিত্র। শীতকালে এসময় এ জায়গায় লোকজনের ভিড় একটু বেশিই থাকে। কেউ খেলতে আসে, কেউ আসে পরিবারের সাথে শীতের বিকেলটাকে উপভোগ করতে। কেউ বা আবার প্রিয়তমাকে নিয়ে সূর্য ডুবার গৌধূলির দৃশ্য দেখেন।
সন্ধ্যায় ক্যাম্পাসের জিরো পয়েন্ট দাঁড়ালে মনে হবে আপনি সাইবেরিয়ায় আছেন। তবু এ শীত উপেক্ষা করে সাইবেরিয়ার ফিল নিতে অনেকেই কাঁটা পাহাড়ে হাঁটতে আসেন। কাঁপা কাঁপা শীতে ধোঁয়া উঠা গরম গরম ভাঁপা পিঠায় শরীর গরম করতে ভুলেন না কেউ কেউ। রাত একটু বাড়লেই দেখা মিলবে বার-বি-কিউ পার্টির। শীতকালে চবি ক্যাম্পাসে এটাকে জাতীয় উৎসব বলা চলে। মধ্যরাতে আবার অনেকেই নিয়ম করে দুই নম্বর গেইট আড্ডা দিতে যান। এ শীত যেন তাদের জন্য আনন্দের। গলা ছেড়ে গান গেয়ে গায়ে জোশ আনেন তারা।
ইমাম ইমু,
যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।
শীতে অতিথি পাখির আগমনে মুখরিত হয়ে উঠে নোবিপ্রবি ক্যাম্পাস।
শীতে উপকূলীয় ক্যাম্পাস হিসেবে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ও রূপ নেয় মৌসুমীয় প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে। পুরো ক্যাম্পাস জুড়ে থাকা নানা রকমের ফুলের শ্রী জানিয়ে দেয় শীতের আভাস।
শীতে অতিথি পাখির আগমনে মুখরিত হয়ে উঠে নোবিপ্রবি ক্যাম্পাস। ময়না দ্বীপ নামক স্থানটি অতিথি পাখিদের কিচিরমিচির ধ্বনিতে নয়নাভিরাম রূপে সাজে। ক্যাম্পাসের খেলার মাঠ, গোল চত্ত্বর, প্রশান্তি পার্ক সহ বিভিন্ন জায়গায় দেখা যায় বন্ধু বান্ধবের শীতের আড্ডা। চায়ের কাপে চুমুক বসিয়ে তারা হরেক রকম গল্পে মেতে উঠে। ক্লাসের ফাঁকে অডিটোরিয়ামের সামনে ভলিবল খেলায় নামে অনেকে। দিন শেষে কেউ কেউ সন্ধ্যা কাটিয়ে দেয় ব্যাডমিন্টন খেলায়। বারবিকিউ আর হাঁস পার্টিতে খালি গলায় গান গেয়ে পুকুর পাড়ে রাতের অর্ধেক কাটিয়ে যায় বহু শিক্ষার্থী। শীতের ক্যাম্পাসের এমনি আরো বহু স্মৃতি উঁকি দিয়ে যায়।
আব্দুল কবির ফারহান,
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।
শীতের ঋতুতে ক্যাম্পাসের বিশেষ আকর্ষণ হলো ফুল।
অন্যসব ঋতুর তুলনায় শীত বেশ উপভোগ্য একটি ঋতু। শীতের শিশিরভেজা সকালে কড়া লিকারের চায়ের স্বাদ বেড়ে হয় দ্বিগুন আর বন্ধুমহলের উষ্ণ পরিবেশে পূর্ণতা পায় তা। অন্যসব বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় বেশি শীত অনুভূত হয় হাবিপ্রবি ক্যাম্পাসে। হাবিপ্রবি বাংলাদেশের উত্তরবঙ্গের জেলা দিনাজপুরে অবস্থিত বলেই এমনটা হয়। উত্তরবঙ্গের বিদ্যাপীঠ হাবিপ্রবিতে শীতের অনুভূতি বেশ উপভোগ্য।
শীতের সকালের শিশিরভেজা ক্যাম্পাসকে দেখে তৃপ্ত হয় ক্যাম্পাসিয়ানরা । সকালে সূয্যিমামার উঁকি মেরে শিশির কণার প্রতিফলনের দৃশ্যও হয় দেখার মতো। সবাই সকালের নাস্তা সেরে ছড়িয়ে পড়ে ক্যাম্পাসে।
শীতের ঋতুতে ক্যাম্পাসের বিশেষ আকর্ষণ হলো ফুল। নানান প্রজাতির ফুলের সৌরভে মুখরিত হয়ে যায় ক্যাম্পাস। ফুলে ফুলেল ক্যাম্পাসের চেহারা হয় তখন দেখার মতো। ফুললে ক্যাম্পাসের রূপ দেখতে দর্শনার্থীরা আসেন বিভিন্ন জায়গা থেকে।
দিন পেরিয়ে সন্ধ্যা নামে। সন্ধ্যার পর চায়ের আড্ডার মেতে ওঠে প্রতিটি বন্ধুমহল। হয় সুখ দুঃখের আলোচনা। খুব বেশি রাত হওয়ার আগেই সবাই চলে যায় নিজেদের হলে বা রুমে। দিনাজপুরের তাপমাত্রা কমে চলে যায় ৪-৫ ডিগ্রি এর দিকে। তাই এমনটি হয়। তীব্র শীতের মধ্যে মাঝেমধ্যেই হয় বারবিকিউ পার্টি।
আজ বাসায় বসেই নিজের অভিজ্ঞতা লিখতে হলো। মহান আল্লাহ পৃথিবীকে সুস্থ করে দিক। পরেরবার ক্যাম্পাসে বসেই লিখবো। হাতে কড়া লিকারের চায়ের সাথে বন্ধুদের কল্লোলময় মুহূর্ত সত্যি অসাধারণ হবে।
যোবায়ের ইবনে আলী,
হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ( হাবিপ্রবি)
বার্তাবাজার/এ.আর