দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার টঙ্গুয়া গ্রামের মাদারডাঙ্গা এলাকায় তিন সন্তানের জননী এক নারীকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে একই এলাকার সোনা মিয়া (৫৫) নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। অভিযোগকারী পয়ত্রিশ বছরের অসহায় নারী সোনা মিয়ার রক্তের সম্পর্কে ভাগিনী বলে জানা গেছে।
এই ঘটনায় ওই নারী সোমবার রাতে সোনা মিয়ার নামে খানসামা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ওই নারী অভিযোগ করে বলেন, ‘গত ১৬ ডিসেম্বর আমার স্বামী বাড়িতে না থাকায় আমি এশার নামাজ আদায় করার জন্য অজু করে নামাজ পড়ার জন্য ঘরে ঢুকব এমন সময় সোনা মিয়া পিছন থেকে অতর্কিতভাবে দৌড়ে এসে আমাকে ঝাপটে ধরে এবং এক হাত দিয়ে মুখ চেপে ধরে। আমার মুখ চেপে ধরে আমাকে চুপ থাকতে বলে। মুখ চেপে ধরে আমাকে ঘরের ভেতরে টেনে হেচরে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের চেষ্টায় আমার শরীরের কাপড় ছিড়ে ফেলে।
ওই নারী আরও বলেন, ‘আমাকে ধর্ষণের চেষ্টা করলে আমি সোনা মিয়ার হাতে কামড় দেই এবং চিৎকার চেচামেচী শুরু করি। আমার চিৎকার শুনে প্রতিবেশিরা এগিয়ে আসলে সোনা মিয়া ঘর থেকে দৌড়ে পালিয়ে যায়।
তারপর থেকে আমি যেনো বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি না করি এজন্য এক লাখ টাকা দিয়ে মিমাংসা করার জন্য বিভিন্নভাবে আমাকে প্রস্তাব দিয়ে যাচ্ছে। তবে আমি টাকা দিয়ে মিমাংসা করতে রাজি হইনি। পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সাথে বিষয়টি নিয়ে আলাপ আলোচনা করে থানায় অভিযোগ দিতে বিলম্ব হয়েছে। আমি দোষী সোনা মিয়ার কঠোর শাস্তি চাই। আর যেনো কেউ এমন ঘটনা ঘটাতে না পারে সেজন্য সোনা মিয়াকে আইনের আওতায় এনে কঠিন শাস্তির দাবি জানাই।’
ওই এলাকার স্থানীয় রহুল আমিন বলেন, ‘সোনা মিয়া এলাকার একজন ভূমিদস্যু হিসেবে পরিচিত। বিভিন্ন লোককে অকারণে বিপদে ফেলে মামলা দিয়ে হয়রানি করে। অযথা গরিব ও অসহায় মানুষকে জমির ব্যাপারে মিথ্যা তথ্য দিয়ে হয়রানি করে টাকা আদায় করে। সোনা মিয়ার আসল বাড়ি হলো গাইবান্ধা জেলায়। সেখানেও বিভিন্ন অকাম কুকাম করে এখন খানসামায় বসবাস শুরু করেছে। সে রক্তের সম্পর্কের ভাগিনীর সাথে এই কাজ করেছে। আমরা এলাকাবাসী সোনা মিয়ার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’
এ বিষয়ে খানসামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ কামাল হোসেন বলেন, ‘গতকাল (সোমবার) রাতে থানায় ওই নারী এসে সোনা মিয়ার নামে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ করে। বিষয়টি তদন্তের জন্য একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে বিষয়টির তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে সোনা মিয়ার অপরাধ প্রমাণিত হলে অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
বার্তাবাজার/এসজে