বন্ধ ঘোষিত পাবনা সুগার মিল বন্ধের প্রতিবাদে এবং চলতি মৌসুমে আখ মাড়াই কার্যক্রম চালুর দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে আখচাষি ও মিলের শ্রমিককর্মচারী’রা।
আখ মাড়াই বন্ধ হওয়ার ঘোষণা আসার কারণে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন এ অঞ্চলের আখ চাষিরা।
মঙ্গলবার সকাল ১১টা থেকে পাবনার ঈশ্বরদীর দাশুড়িয়া কালিকাপুর চিনিকলের প্রধান ফটকে টায়ারে আগুন ধরিয়ে বিক্ষোভ করেন আখ চাষি ও শ্রমিককর্মচারী’রা, পরে আখচাষি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ চিনিকল আখ চাষি ফেডারেশন সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান আলী বাদশাতে ও পাবনা চিনিকল আখ চাষি সমিতির সাধারণ সম্পাদক আনছার আলী ডিলুর সঞ্চালনায় বক্তব্যে রাখেন ঈশ্বরদী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা নায়েব আলী বিশ্বাস, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মকলেছুর রহমান মিন্টু, দাশুড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম বকুল, পাবনা চিনিকল ওয়াকার্স ইউনিয়নের সভাপতি সাজেদুল ইসলাম শাহিন, সাধারণ সম্পাদক আশরাফুজ্জামান উজ্জল প্রমুখ।
বক্তরা বক্তব্যে বলেন, পাবনার আখ দিয়ে পাবনা চিনিকল চলবে, অন্য কোন মিলে আখ দেওয়া হবে না। যতদিন মিলটি চালু না হয়, শ্রমিককর্মচারী’রা কর্মবিরতি দিয়ে বিক্ষোভ চলমান রাখবে। পাবনায় ৫ হাজার ২শ একর জমিতে আখ চাষ করেছেন এখানকার কৃষকরা। আখ চাষি সমাবেশে পাবনা জেলার বিভিন্ন উপজেলার প্রায় কয়েক হাজার আখ চাষি যোগ দিয়েছেন।
১৯৯২ সালের ২৭শে ডিসেম্বর ঈশ্বরদীর দাশুড়িয়া ইউনিয়নের পাকুড়িয়া মৌজায় ৬০ একর জমিতে পাকিস্তান সরকারের আর্থিক সহযোগিতায় ‘পাবনা সুগার মিল’ প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৯৭-৯৮ অর্থবছরে আখ মাড়াই মৌসুমে মিলটি পরীক্ষামূলকভাবে চালু হয়। ৬ মাস এই মিলের শ্রমিক কর্মচারীর বেতন দেওয়া হয়নি। ৬৫০ জন শ্রমিককর্মচারীর বেতন বাবদ মিলের কাছে ৬ কোটি টাকার বেশি পাওনা রয়েছে। ঈশ্বরদীতে প্রায় ৫ হাজার কৃষক এ বছর তাদের জমিতে আখ চাষ করেছেন। এখন কাঁটার উপযোগী হয়েছে এ আখ। মিলটি বন্ধ হলে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন বলে মনে করেন ভুক্তভোগীরা।
বার্তাবাজার/এ.আর