আজ বুধবার দুপুর ১:২৮, ২২শে নভেম্বর, ২০১৭ ইং, ৮ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, ৩রা রবিউল-আউয়াল, ১৪৩৯ হিজরী

হারলো শ্রীলঙ্কা, সেমিফাইনালে পাকিস্তান

নিউজ ডেস্ক | বার্তা বাজার .কম
আপডেট : জুন ১৩, ২০১৭ , ১:০৬ পূর্বাহ্ণ
ক্যাটাগরি : খেলাধুলা
পোস্টটি শেয়ার করুন

জিতলে সেমিফাইনালের খেলা নিশ্চিত। আর হারলেই বিদায়। এমনই এক বাঁচা-মরার লড়াইয়ে সোমবার কার্ডিফে মুখোমুখি হয় পাকিস্তান-শ্রীলঙ্কা। প্রথমে ব্যাট করে ৪৯.২ ওভারে সবকটি উইকেট হারিয়ে ২৩৬ রান তুলেছে লঙ্কানরা। জয়ের জন্য পাকিস্তানের সামনে ছুড়ে দিয়েছে ২৩৭ রানের লক্ষ্যমাত্রা। পকিস্তান মাঝপথে হোঁচট খেলেও শেষ পর্যন্ত সরফরাজের অনবদ্য ৬১ রানের ইনিংসের উপর ভর করে ৩১ বল হাতে রেখে ৩ উইকেটের জয় পেয়ে সেমিফাইনালে পৌছে যায়।

পাকিস্তান ৭ উইকেটে ১৯৪। সেমি-ফাইনালে খেলার শেষ আশা ধরে রাখেন অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদ ৬১। মোহাম্মদ আমির ২৮ রানে অপরাজিত থাকেন।

একটা সময় পাকিস্তানের দরকার ৪৩ রান। শ্রীলঙ্কার ৩ উইকেট। লাসিথ মালিঙ্গার বলে রসগোল্লার মতো এক ক্যাচ মিড অনে এই সময় তুলে দেন সরফরাজ। সেই বল কিভাবে ফেলে দেন থিসারা পেরেরা! তার অবস্থা তখন ‘ধরণী তুমি দ্বিধা হও…!’ থিসারার হাত গলে লঙ্কান ফাস্ট বোলারদের বীরোচিত বোলিং ওই বলের সাথে মাটিতে লুটায়। সেই সাথে শ্রীলঙ্কার সেমিতে খেলার শেষ সুযোগও।

তাতে ক্যাপ্টেন্স নকে প্রায় হারা এক ম্যাচে সরফরাজই প্রতিপক্ষকে ছিটকে ফেলে সোমবার পাকিস্তানকে নিয়ে গেলেন আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেমিতে। কি ট্র্যাজেডি লঙ্কানদের! নিশ্চিত জেতা ম্যাচ হেরে তারা নিলো বিদায়। থিসারার মাখন লাগানো হাতের কল্যাণে সরফরাজ হলেন বীর। সাথে পার্শ্বনায়ক মোহাম্মদ আমির! ১৪ জুনের সেমি-ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলবে পাকিস্তান!

পাকিস্তানি পেসাররা দারুণ দাপটে লঙ্কানদের ৪৯.২ ওভারে অল আউট করেছিল ২৩৬ রানে। লক্ষ্য মাঝারি। ফখর জামানের দ্রুতগতির ৫০ এ ৭৪ রানের ওপেনিং পার্টনারশিপ পাকিস্তানের। কিন্তু এরপর লঙ্কান পেসারদের লাগাতার তোপে কোণঠাসা হয়ে পড়ে তারা। ১৩৭ রানে নেই ৬ উইকেট। তখনো ১০০ রান বাকি! অভিষিক্ত ফাহিম আশরাফ প্রস্তুতি ম্যাচে বাংলাদেশকে হারিয়েছিলেন লোয়ার অর্ডার ব্যাটিং বীরত্বে। এবার সরফরাজের হিটে বোলারের হাত হয়ে স্টাম্প ভাঙা বলে ফাহিম ১৫ রানে নেই।

টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নামে শ্রীলঙ্কা।  দিনেশ চান্দিমালকে রানের খাতাই খুলতে দেননি ফাহিম আশরাফ। অধিনায়ক অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউজকে থামান মোহাম্মদ আমির। আমিরের দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে বোল্ড ম্যাথিউজ। বিদায়ের আগে ৫৪ বলে দুটি চার ও একটি ছক্কায় ৩৯ রান করেন লঙ্কান অধিনায়ক।

এরপর ধনঞ্জয় ডি সিলভাকে প্যাভিলিয়নের পথ দেখান জুনায়েদ খান। ১ রান করতেই জুনায়েদের বলে সরফরাজ আহমেদের হাতে ক্যাচ তুলে দেন ধনঞ্জয়। একপ্রান্ত আগলে রেখে লড়াই চালিয়ে যান নিরোশান ডিকভেলা। লঙ্কান এই ওপেনারকে ৭৩ রানে থামান আমির। ২৭ রান আসে আসেলা গুনারত্নের ব্যাট থেকে।

পাকিস্তানের সেরা বোলার জুনায়েদ খান। ১০ ওভারে ৪০ রান দিয়ে তিনটি উইকেট নেন তিনি। সমসংখ্যক উইকেট নিয়েছেন হাসান আলিও। মোহাম্মদ আমির ও ফাহিম আশরাফ পকেটে পুরেছেন দুটি করে উইকেট।