১৫ বছর বয়সী লাকিং মে । জন্ম টেকনাফের বাহারছড়ার শিলখালী চাকমা পরিবারে । এ বছরের জানুয়ারিতে বিয়ে করেন আতাউল্লাহ নামে এক যুবককে । ১০ ডিসেম্বর মৃত্যু হয় কিশোরী লাকিং মে এর।
এখন লাশ সৎকার নিয়ে তৈরি হয়েছে জটিলতা। স্বামী আতাউল্লাহ চায় মুসলিম আর বাবা লালাঅং চায় মেয়ের সৎকার হোক বৌদ্ধ ধর্মের রীতি অনুযায়ী।
কক্সবাজার সদর থানার উপ-পরিদর্শক আবদুল হাকিম জানিয়েছেন, যখনই দেখি উভয়পক্ষ লাশ গ্রহণের গ্রহণ করতে চায় তখন একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের প্রয়োজন বলে মনে করি আমরা।
আতাউল্লার দাবি গত ১১ জানুয়ারি কুমিল্লায় লাকিং ধর্মান্তরিত হন হালিমাতুস সাদিয়া নাম গ্রহণ করে তাদের বিয়ে হয় । নভেম্বরে তাদের ঘরে আসে সন্তানও। সম্প্রতি পারিবারিক এক আয়োজনে মনোমালিন্যের জের ধরে লাকিংকে থাপ্পড় মারেন আতাউল্লাহ। এরপর অভিমান করে কীটনাশক পান করে লাকিং। হাসপাতালে
নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত লাকিং এর স্বামী আতাউল্লাহ জানিয়েছেন, আমি সার্থক চেষ্টা করেছি লাকিং কে বাঁচানোর জন্য কিন্তু আমি পারিনি । তবে আমি আমার স্ত্রীর লাশ ইসলাম ধর্ম মোতাবেক দাফন করতে চাই।
লালাঅং এর দাবি তার মেয়েকে অপহরণ করা হয়েছে। থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ তা নেয়নি। পরে কক্সবাজার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করলেও কোন কাজ হয়নি।
মরদেহ নিয়ে দু-পক্ষের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ শরণাপন্ন হয় আদালতের। আদালত র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) কে দায়িত্ব দেয় তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার।
লাকিং মে নাবালিকা হওয়াই আরো তদন্তের কথা জানায় র্যাব।
দু’পক্ষের টানাপোড়েনে কিশোরের মরদেহ কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পড়ে আছে ১১ দিন ধরে।
বার্তাবাজার/এস.এস