পঞ্চগড়ে কনকনে ঠান্ডা, সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস

গত এক সপ্তাহ থেকে যেন ঘন কুয়াশা আর কনকনে ঠান্ডা ছাড়ছেই না দেশের সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে। চলমান মাঝারী শৈত্য প্রবাহে আরো বেড়েছে শীতের প্রকোপ। ঘন কুয়াশার কারণে দিনের বেলাতেও হেডলাইট জালিয়ে যানবাহন চলাচল করছে। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা হতেই কুয়াশার পরিমাণ বাড়তে থাকে।

রাতভর বৃষ্টির মত টপটপ করে পড়ছে কুয়াশা। সাইবেরিয়া থেকে আসা হিমেল হাওয়া হিমালয়ে ধাক্কা খেয়ে তেতুঁলিয়া সহ উত্তরের এই জনপদে ঠান্ডার পরিমাণ আরো বাড়িয়ে দিচ্ছে। উত্তরের হিমেল বাতাসে জেঁকে বসেছে শীত। এদিকে সব থেকে কষ্টে আছে ছিন্নমূল ও খেটে খাওয়া নিম্ন আয়ের মানুষেরা। শীতবস্ত্রের অভাবে খড়কুটো জালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছে। ঘন কুয়াশা আর কনকনে ঠান্ডাকে উপেক্ষা করে পেটের তাগিদে বাইরে বের হচ্ছেন ভ্যান চালক, রিক্সা চালক ও দিন মুজুরেরা। এই শীতে রিক্সা-ভ্যান চালাতে তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।

গত কয়েকদিন ধরে সূর্যের দেখা মিললেও সন্ধ্যা থেকে সকাল পর্যন্ত থাকছে কুয়াশা আর তীব্র শীত। ফলে সাধারন মানুষের দূর্ভোগ আরো বেড়ে গেছে। এদিকে প্রায় প্রতিদিনই জেলায় সরকারী ও বেসরকারীভাবে শীতবস্ত্র বিতরণ চলছেই। তবে শীতার্ত মানুষের তুলনায় তা অপ্রতুল বলে মনে করছেন সচেতন মহলের নাগরিকেরা। রবিবার সকাল ৯টায় যৌথভাবে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে কুড়িগ্রামের রাজার হাট ও পঞ্চগড়ের তেতুঁলিয়ায় ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগে সকাল ৬ টায় পঞ্চগড়ে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৭ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত শনিবার বিকেলে জেলায় দিনে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ২২ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

তেতুঁলিয়া আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাসেল শাহ্ জানান, রবিবার সকাল ৯ টায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে পঞ্চগড়ের তেতুঁলিয়া ও কুড়িগ্রামের রাজার হাটে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। পঞ্চগড়ের আকাশে মেঘ কিছুটা কমে যাওয়ায় উত্তরের সাইবেরিয়া থেকে আসা হিমেল বাতাসে শীতের প্রকোপ বেড়েছে। তবে দ্রুতই দেখা মিলছে সূর্যের। যার কারণে তাপমাত্রা কিছুটা বাড়তে পারে। তবে আগামী আরো কয়েকদিন এ ধরনের তাপমাত্রা থাকতে পারে।

পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আজাদ জাহা (সার্বিক) জানান,চলতি শীত মৌসুমের কথা মাথায় রেখে জেলা প্রশাসন যথাযথ প্রস্তুতি নিয়েছে। এ পর্যন্ত জেলায় শীতার্ত মানুষের জন্য ২১ হাজার ২শত শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে। সেই সাথে শীতবস্ত্র কেনার জন্য ৩০ লক্ষ টাকা এসেছে। আমরা প্রতিনিয়তই জেলার ৫ উপজেলায় স্থানীয় প্রতিনিধিদের মাধ্যেমে শীতবস্ত্র বিতরণ করে যাচ্ছি। এছাড়াও বেসরকারীভাবে বিভিন্ন সেচ্ছাসেবী সংগঠন শীতবস্ত্র বিতরণ করে যাচ্ছে।

বার্তাবাজার/পি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর