যশোরের মণিরামপুরে পৃথক পৃথক দুর্ঘটনায় যাত্রীবাহী বাস খাদে পড়ে ও পিকআপের ধাক্কায় মোটরসাইকেল থেকে পড়ে নারী পুরুষসহ ১১ জন আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (১৮ ডিসেম্বর) দুপুর ১টার দিকে যশোর—চুকনগর আঞ্চলিক মহাসড়কের জামলা এলাকায় ও মণিরামপুর রাজগঞ্জ সড়কের কাশিপুর নুড়িতলায় দুর্ঘটনা দুটি ঘটে।
খবর পেয়ে মণিরামপুর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। এর মধ্যে গুরুতর আহত হওয়ায় আহতদের মধ্যে পাঁচ জনকে যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।
আহত বাসযাত্রীরা হলেন- মণিরামপুর উপজেলার মুজগুন্নি গ্রামের ইলিয়াস হোসেন, ঢাকুরিয়ার তেলিকুড় গ্রামের রনি হোসেন, কদমবাড়িয়া গ্রামের ইব্রাহিম, কেশবপুর উপজেলার সাপদিয়া গ্রামের সাগর দাস, মির্জানগরের তৃষা খাতুন, আলতাপোল গ্রামের ইমরান হোসেন, সুবলকাঠি গ্রামের কামরুজ্জামান ও মির্জানগরে জোহরা খাতুন।
মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহতরা হলেন- মোটরসাইকেল যাত্রী পাইকগাছা উপজেলার কপিলমনি গ্রামের জালাল উদ্দিন, তার মেয়ে শাকিলা খাতুন এবং চালক মণিরামপুরের বিজয়রামপুর গ্রামের আলম হোসেন।
আহতদের মধ্যে শাকিলা খাতুন, তার পিতা জালাল উদ্দিন, আলম হোসেন, সাগর দাস ও জোহরা খাতুনকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে শাকিলা খাতুনের অবস্থা সংকটাপন্ন।
বাসের যাত্রী ইব্রাহীম ও তৃষা বলেন, বাসটি (খুলনা মেট্রো—জ—০৪—০০৬৮) দ্রুতগতিতে যশোর থেকে সাতক্ষীরার দিকে যাচ্ছিল। দুপুর একটার দিকে জামলা এলাকায় ফাঁকা মাঠে পৌঁছলে সামনের একটি ট্রাককে টপকিয়ে সামনে উঠতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাস রাস্তার পাশে খাদে পড়ে যায়।
অপরদিকে প্রতক্ষ্যদর্শীদের বরাত দিয়ে আতিয়ার রহমান নামে এক মোটরসাইকেল চালক বলেন, দুপুর একটার দিকে রাজগঞ্জ বাজারের দিক থেকে দুইজন যাত্রী নিয়ে মণিরামপুর বাজারে আসছিলেন মোটরসাইকেল চালক আলম। তারা কাশিপুর নুড়িতলায় পৌঁছুলে বিপরীতগামী একটি পিকআপ ধাক্কা দিলে মোটরসাইকেল থেকে পড়ে তিনজনই আহত হন।
মণিরামপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের লিডার হুমায়ুন কবির বলেন, পৃথক দুর্ঘটনায় আহত ১১ জনকে উদ্ধার করে মণিরামপুর হাসপাতালে পৌঁছে দিয়েছি।
মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডাঃ নাজমীন নাহারের উদ্ধৃতি দিয়ে জরুরি বিভাগের ওয়ার্ড বয় আক্তার হোসেন বলেন, আহত ১১ জনের মধ্যে পাঁচ জনকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। বাকিরা এখানে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
বার্তাবাজার/এ.আর