ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রুহিয়ায় উপ-সরকারী কৃষি কর্মকর্তার (ব্লক সুপার ভাইজার) পরিত্যক্ত আবাসিক ভবনটি স্থানীয় কয়েক প্রভাবশালী দখল করে হাঁস-মুরগীর দোকান ঘর নির্মাণ ও কিছু অংশ বিক্রিরও অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভবনের ২টি রুমে কাপড় সেলাইয়ের কাজ করছে এক দর্জি। ২টি রয়েছে বিএনপির অফিসের দখলে আর বাকি ঘরগুলোতে হাঁস-মুরগীর পালন করছে পিকা নামের এক ব্যক্তি। ভবনের আরেক পার্শে দোকান ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। ভবনের এক পার্শ্বে দেখা যায় নেশা জাতীয় দ্রব্য পড়ে আছে। এই ভবনে প্রতি রাতেই মাদক ও জুয়ার আড্ডা বসে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
জানা যায়, পাকিস্তানী আমলে সদর উপজেলার রুহিয়া ইউনিয়নে উপ-সরকারী কৃষি কর্মকর্তাদের জন্য ৫১ শতকের জমির উপর একটি এক তলা বিশিষ্ট আবাসিক ভবন (বিএস কোয়ার্টার) নির্মাণ করা হয়। নির্মাণের পর কর্মরত শাহাজাহান আলী নামের এক বিএস স্বপরিবারের বসবাস করেন। ১৯৯৬ সালে তার অবসরের পর আরেক বিএস আসলে স্থানীয় আনছারুল নামের এক ব্যক্তি নতুন বিএসকে মারধর করলে তিনি ভয়ে কোয়ার্টার ত্যাগ করেন এরপর থেকে এই কোয়াটারে কোন বিএস আসেননি। এরপর যে যার মতো দখল করতে শুরু করেন।

আরও জানা যায়, ফজলে হাসান পিকা নামের এক ব্যক্তি ২টি রুম দখল করে হাঁস-মুরগী পালন করছেন। ১টি রুম চিটাগাং মেশিনারী দখল করে মালামাল রেখেছে। ২টি রুম বিএনপির দখলে রয়েছে। আর বিএনপির নেতা মোতাহার চৌধুরী এক অংশ স্থানীয় ব্যবসায়ী সোহেলের নিকট বিক্রি করে দেয়।
বীর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিল বীর মুক্তিযোদ্ধা মো: মোস্তাফা কামালসহ আরো অনেকেই জানান, ১৯৬৬ সাল থেকে দেখে আসছি বিএস কোয়ার্টার। এটা পাকিস্তান আমলে নির্মাণ করা হয়েছে। এটা সরকারি জমি কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি না। মোতাহার দেখাতে পারবে এটা তাদের জমি। এখন হয়তো কারও কাছে কাগজপত্র করে নিয়েছে। মোতাহার চৌধুরীর বাবা জমিটা দখল করেছে। জমির কিছু অংশ মোতাহার বিক্রি করেছে এটা ১০০% সত্য। ইউনিয়নবাসীর কথা চিন্তা করে বিএস কোয়ার্টার উদ্ধার করে পুনরায় চালু করার দাবি জানাচ্ছি।
বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব মো: সাইফুল্লাহ বলেন, বিএস কোয়ার্টার কারও মালিকানা নয় নিঃসন্দেহে এটা সরকারের জমি। পূর্ব পাকিস্তানের আমলে এটা হয়েছে। আর ৭৫-৯৬ সাল পর্যন্ত বিএসরা এখানে থাকত। যেহেতু কেউ থাকেন না এই সুযোগে বিএনপি সামনে অফিস করেন। আস্তে আস্তে মোতাহাররা দখল নিয়ে নিজের জমি বলে দাবি করছে। এমনকি কিছু দিন আগে মোতাহার ৮লক্ষ ৫৫ হাজার টাকায় সোহেললের কাছে একটা অংশ বিক্রি করে দেয়। আমি আশা করি এলাকার মানুষ আবারও বিএস কোয়ার্টার ফিরে পাবে।
এ প্রসঙ্গে মোতাহার চৌধুরীর সাথে কথা বললে তিনি নিজেকে জমির মালিকানা দাবি করে বলেন, সরকার ও বিএনপি আমাদের জমি দখল করে আছে।
ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা তৈয়মুর রহমান বলেন, আমরা কারও জমিতে অফিস করিনি। আর বিএস কোয়ার্টার তো কৃষি অফিসের জমিতে নেই। তাহলে জমি কার- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন আমি কিছুই জানিনা।
এ ব্যাপারে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুক হক বাবুর সাথে কথা বলতে তার কার্যালয় ও মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।
জেলা কৃষি দফতরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. আফতাব হোসেন বলেন, রুহিয়ায় একটি বিএস কোয়ার্টার আছে। অর্থের অভাবে সংস্কার করতে না পারায় ভবনটি পরে আছে। তবে ভবনটি সরকারি জমিতে আছে।
বার্তাবাজার/এ.আর