মেয়র হলে পরিচ্ছন্ন নগরী গড়ে তুলবেন বিএনপির মেয়র প্রার্থী

আসন্ন পৌরসভার ১ম ধাপে নির্বাচনে কুড়িগ্রাম পৌরসভার ভোটের লড়াইয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে ধানের শীষ
প্রতীক নিয়ে লড়ছেন কুড়িগ্রাম শহরের রাজনীতিবীদ, সাংবাদিক ও ক্রীড়া সংগঠক শফিকুল ইসলাম বেবু।

তিনি মেয়র নিবার্চিত হলে কুড়িগ্রামের পৌরবাসীকে একটি পরিচ্ছন্ন নগরী উপহার দেবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন। সম্প্রতি বার্তা বাজার এর একান্ত সাক্ষাৎকারে নানা প্রতিশ্রুতি দেবার আশ্বাস দেন তিনি।

কুড়িগ্রাম পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপি থেকে মনোয়ন পাওয়া মেয়র প্রার্থী মোঃ শফিকুল ইসলাম বেবু গত বুধবার মুখোমুখি হয়েছিলেন বার্তা বাজার পত্রিকার। মেয়র নিবার্চিত হলে কি কি নাগরিক সুবিধা দেবেন সেইসব জানান তিনি। তার সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন আমাদের প্রতিনিধি সুজন মোহন্ত, নিচে পুরো সাক্ষাৎকারটি তুলে ধরা হলো-

বার্তা বাজারঃ আপনার নিজস্ব কিছু চিন্তা-ভাবনা জানতে চাই, যা মেয়র হলে পূরণ করবেন?

শফিকুল ইসলাম বেবু: দেখুন,আমি দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতি ও সাংবাদিকতার সাথে জড়িত,আমি সব-সময় জনগনের সঙ্গে মাঠে,রাজপথে থেকেছি,তাই তাদের কষ্টতা বুঝি,তাদের সমস্যাগুলোও দেখেছি। মেয়র হলে, আমি ৯ ওর্য়াডের কমিশনদের সাথে নিয়ে ৯টি ওর্য়াডে ওর্য়াড অফিস করবো । যেখানে কাউন্সিলরা বসবেন এবং তাদের ওর্য়াডের মানুষদের সমস্যা শুনে সমাধান করতে পারেন। আমিও এসব ওর্য়াডে প্রতিদিন কোন না কোন অফিসে বসবো। এতে করে গরীব অনেক মানুষদের কষ্ট কিছুটা লাঘব হবে। এবং গরীব অসুস্থ পরিবারকে পৌরসভা থেকে আমি বিনামূল্যে এ্যাম্বুলেনাস সেবা দেবো।

বার্তা বাজারঃ বর্তমানে করোনার এই সময়ে ভোট কি সুষ্ঠু হবে,ভোটার কি আসবেন ভোট দিতে ,আপনি কি মনে করেন?

শফিকুল ইসলাম বেবুঃ হ্যাঁ নিশ্চয় জনগন ভোট দিতে আসবেন,কেননা,কুড়িগ্রামের মানুষ এখন অনেক সচেতন হয়েছেন ,তারা তাদের নাগরিক অধিকার প্রয়োগ করতে স্বাস্থ্যবিধি মেনেই ভোট দিতে আসবেন আশা করি।

বার্তা বাজার: আপনি জয়ের ব্যাপারে কতটুকু আশাবাদী?

শফিকুল ইসলাম বেবু: আমি শতভাগ জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। কারন কুড়িগ্রামের জনগন যোগ্য ও সৎ মানুষ হিসেবে আমাকে বেছে নেবে।

বার্তা বাজারঃ পৌর শহরে যানজট আর জলাবদ্ধতা বড় সমস্যা,এটি নিরসনে কি করবেন?

শফিকুল ইসলাম বেবুঃ জলাবদ্ধতা আসলে এটি অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে হচ্ছে,আমি এই ড্রেনেজ ব্যবস্থা গুলো পুনরায় মেরামত করবো,নিচু এলাকায় পানি যাতে বের হয় পরিকল্পনা করে সঠিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা নিমার্ন করবো ।যাতে জলাবদ্ধতা না থাকে। আর যানজটের যে বিষয়টি এটা নিরসনে শহরের বাসস্টান্ডটিকে আধুনিক করবো এবং ট্রাক স্টান্ড দুরে নির্মান করবো যাতে গাড়িগুলো এসব জায়গায় পার্কিং করতে পারে।

বার্তা বাজার: জেলায় ময়লা ফেলার নিদিষ্ট স্থান নেই,এটার সমাধানে কি করবেন?

শফিকুল ইসলাম বেবুঃ শহরের পরিবেশ দূষণ যাতে না হয়,নির্দিষ্ট জায়গায় ময়লার ভাগার নির্মান করে ডাম্পিং এর ব্যবস্থা করবো। যাতে ধরলা সেতু যেতে পৌরবাসীকে দূর্ঘন্ধ পোহাতে না হয়। আমি একটি পরিচ্ছন্ন নগরী পৌরবাসীকে উপহার দেবো।

বার্তা বাজার: নাগরিক সেবা কতটুকু নিশ্চিত করবেন?

শফিকুল ইসলাম বেবুঃ শুরুতেই বলেছি,প্রতিটি ওর্য়াডে একটি করে অফিস নির্মান করে,পৌরবাসীর সমস্যার কথা শুনে তাদের কষ্ট লাঘব করবো,এছাড়াও জনগন যখনি তাদের সমস্যার কথা আমাকে জানাবে,আমি সেটি সমাধানের চেস্টা করবো।

বার্তা বাজার: মাদক নির্মুলে এবং তরুণ সমাজকে কাজে লাগাতে কি পদক্ষেপ নেবেন?

শফিকুল ইসলাম বেবু: মাদক নির্মুলে এবং তরুণ সমাজকে কাজে লাগাতে তাদের সমস্যার কথা ভেবে সমাধান করবো,পাশাপাশি গনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রশাসনকে সাথে নিয়ে অভিভাবকদের সাথে নিয়মিত উঠোন বৈঠক করবো । খেলাধুলার জন্য মাঠগুলো সংস্কার করবো এবং সুইপিং পুল নির্মান করারো উদ্যোগ গ্রহন করবো।

বার্তা বাজার: পৌরবাসীর বিনোদনের স্থান নেই, এ বিষয়ে কিছু বলুন?

শফিকুল ইসলাম বেবুঃ আমি মেয়র হলে,পৌরবাসীর বিনোদনের জন্য আমাদের ধরলা সেতুতে আধুনিক বিনোদন ব্যবস্থা গড়ে তুলবো এবং একটি পার্ক হবার কথা ছিলো সেটি বাস্তবায়নে উদ্যোগ গ্রহন করবো।

বার্তা বাজার: বিরোধী দলের নেতা হিসেবে ভোট কারচুপি কিংবা ভোট সুস্থ না হওয়া এরকম কিছু আশংকা করছেন?

শফিকুল ইসলাম বেবু: না, ভোট কারচুপি কিংবা ভোট ডাকাতির মতো কোন ঘটনা ঘটবে বলে আমি আশংকা করছি না। কুড়িগ্রামের জনগন শান্তি প্রিয় তারা নির্বিঘ্নে ভোট দেবেন । ভোটের ফলাফল যাই হোক আমি সেটি মেনে নেবো।

বার্তা বাজারঃ আপনাকে ধন্যবাদ সময় দেবার জন্য।
শফিকুল ইসলাম বেবুঃ আপনাকেও ধন্যবাদ।

মোঃ শফিকুল ইসলাম বেবু একাধারে একজন শিক্ষক, সাংবাদিক রাজনীতিবীদ এবং ক্রীড়া সংগঠক। তিনি ক্রীড়ায় কুড়িগ্রামে প্রথম.স্বর্ন পদক পেয়েছিলেন এছাড়াও সাংবাদিকতায় অবদানের জন্য পেয়েছেন নানান সম্মাননা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতিতেও দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করছেন।

বার্তাবাজার/পি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর