বিদেশে অর্থ পাচারকারীদের তালিকা প্রকাশ

বিদেশে অর্থ পাচারকারীদের নামের একটা বেশ বড় তালিকা হাইকোর্টে জমা দিয়েছে দুদক। তালিকাটি চেয়ে উচ্চ আদালত আদেশ দেওয়ায় বিভিন্ন ধরণের তথ্য উপাত্ত প্রতিব্দেওন আকারে জামা দেয় দুদক ও সংশ্লিষ্টরা। প্রতিবেদনে পুরোনো তথ্য থাকায় দুদকের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন আদালত।

এ বিষয়ে পরবর্তী তথ্য জানাতে দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষকে আগামী বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছেন আদালত

বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদারের বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

আদালতে দাখিল করা এই তালিকা এসেছে গণমাধ্যমে । সেখানে পাওয়া গেছে দেশের শীর্ষ সরকারি বেসরকারি কর্মকর্তাদের নাম। এমনকি তাদের কারো কারো গাড়িচালকও আছেন তালিকায়।

তালিকাটি হলো-

আমানত স্টীলের এমডি হারুন আর রশীদ।

পুলিশ পরিদর্শক ফিরোজ কবীর ।

এনসিসি ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তা সিদ্দিকুর রহমান ও তার স্ত্রী শিল্পী আক্তারি।

খাজা সোলেমান আনোয়ার, সাহরিশ কম্পোজিটের এমডি।

শহিদুল আলম সাবেক প্রধান প্রকৌশলী বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড।

সাবেক সহকারী সচিব শাহরিয়ার মতিন।

সিএসএস করপোরেশনেরআবু বকর চৌধুরী।

ইলিয়াস ব্রাদার্সের এমডি মোহাম্মদ সামশুল আলম।

আমানত স্টীলের এমডি হারুন আর রশীদ।

হুমায়ন কবীর, বাতেন মিডিয়া।

সিটি করপোরেশন অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আব্দুস সালাম।

একুশে টিভির সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম,সাবেক এমডি আশরাফুল আলম ও কর্মকর্তা ফজলুর রহমান শিকদার।

টেলিটকের সাবেক ম্যানেজার শাহ মো জোবায়ের।

প্যারাডক্স ফার্মাসিউটিকালের সাবেক এমডি রকিবুল হাসান রাজন।

গ্রামীণ ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন।

রাজনীতিবিদ গিয়াস উদ্দিন আল মামুন।

লর্ড ভিশনের চেয়ারম্যান হুসাইন মাহমুদ রাসেল।

এএমসি টেক্সটাইল সাবেক চেয়ারম্যান চাঁদ মিয়া ও তার স্ত্রী রাশেদা খাতুন।

এমদাদ হোসেন।

আইন কমিশনের ড্রাইভার শামছুল আলম।

খোরশেদ উদ্দিন ভুইয়া।

লতিফা ইয়াসমিন।

এবি ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান এম ওয়াহিদুল হক।

এবি ব্যাংকের সাবেক এমডি ফজলুর রহমান ও শামীম আহমেদ চৌধুরী, হেড অফ করপোরেট আবু হেনা মোস্তফা কামাল, মোহাম্মদ মাহফুজ উল ইসলাম, মোহাম্মদ লোকমান, সাইফুল হক, সাবেক পরিচালক সৈয়দ আফজাল হাসান উদ্দিন।

সাবেক ওরিয়েন্টাল ব্যাংকের কর্মকর্তা মঞ্জুরুল আলীম, তারিকুল ইসলাম খান, মোশতাক আহমেদ, এস মাহবুবুল আনাম, অলিনুর রহমান নুর।

এর আগে যুবলীগের বহিস্কৃত নেতা ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটসহ অর্থ পাচারের সাথে জড়িত ১০০ জনের নামসহ হাইকোর্টে প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়।

এর তদন্তে থাকা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) জানায়, ক্যাসিনোকাণ্ডে জড়িত ইসমাইল হোসেন সম্রাট ৭ জন্য হ্যাকারের মাধ্যমে ফিলিপাইন, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও শ্রীলঙ্কায় অর্থ পাচার করেছে। শুধু সম্রাট এবং এনামুল হক আরমানই ২৩২ কোটি ৩৭ লাখ ৫৩ হাজার ৬৯১ টাকা সিঙ্গাপুরে পাচার করেছে।

এর আগে, গত ২২ নভেম্বর হাইকোর্টের বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের সমন্বয়ে গঠিত ভার্চুয়াল বেঞ্চ স্বপ্রণোদিত হয়ে এক আদেশে বিদেশে অর্থ পাচারকারীদের সব ধরনের তথ্য চেয়েছেন। ১৭ ডিসেম্বরের মধ্যে পররাষ্ট্র সচিব, দুদক চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি এ নির্দেশনা দেয়া হয়।

এরপর হাইকোর্টের আদেশের জবাব তৈরি করতে অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে দুবার বৈঠক করেছেন সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রতিনিধিরা। সর্বশেষ গত সোমবার (১৪ ডিসেম্বর) অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে এ বিষয়ে বৈঠক হয়। বৈঠকে দুদক, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক, বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট ও এনবিআরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সুত্র-যমুনা টিভি।

বার্তাবাজার/এসজে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর