ভারত থেকে ফসল ধ্বংসের জন্য পাঠানো হচ্ছে হাতির পাল

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের জামালপুর জেলার বকশীগঞ্জ অংশে আবারও ধ্বংসলীলা চালাচ্ছে একদল হাতি। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা নাগাদ ৭০-৮০টি হাতি তাণ্ডব চালিয়ে ধ্বংস করেছে ৩ একর জমির সরিষা। সন্ধ্যা হতেই সীমান্তের গেট খুলে হাতির পালকে বাংলাদেশে প্রবেশের সুযোগ করে দিচ্ছে ভারতের বিএসএফ।

জানা যায়, উপজেলার কামালপুর ইউনিয়নের বালুরচর এলাকায় অবস্থান করা এই হাতির পালটি ভারত থেকে এসেছে। সন্ধ্যায় খুলে দেয়া সীমান্তের গেট দিয়ে এগুলো দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেছে। হাতির এই বিশাল দল দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশের সাথে সাথেই বিএসএফ গেট বন্ধ করে দেয়। এসময় তারা উচ্চ আলোর বৈদ্যুতিক বাতি জ্বালিয়ে রাখে। সারারাত তাণ্ডব চালিয়ে ভোরের দিকে গেট খুলে দিলে সেগুলো আবারও ভারতে ফিরে যায়। গত দু’দিন ধরে চলছে অভিনব এই অত্যাচার।

স্থানীয়রা জানায়, প্রতিবছর আমন মৌসুমের শেষ দিকে এই হাতিগুলো বেশি করে প্রবেশ করে দেশের ভেতর। তখন পাক আমন ফসল ধ্বংস করে সেগুলো। এবার জমিতে ধান না থাকায় হাতির পাল লোকালয়ে এসে তাণ্ডব চালাবে ভয়ে তটস্থ তারা। এমনকি লোকালয়ের দিকে ধেয়েও আসে মাঝে মাঝে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জেনারেটরের মাধ্যমে উচ্চ আলোর বাতি জ্বালানোর ব্যবস্থা থাকলেও জ্বালানি সংকটে সেগুল এখন চলছে না।

এ বিষয়ে বকশীগঞ্জ থানার ওসি শফিকুল ইসলাম জানান, হাতির জন্য যাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কোনো ক্ষতি না হয় তার জন্য ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

জামালপুরের জেলা প্রশাসক এনামুল হক জানান, হাতির জন্য যে সমস্যার সৃষ্টি হয় তা নিরসন করতে কমিশনার পর্যায়ের বৈঠকে উত্থাপন করা হয়েছে। আশা করি শীঘ্রই দুই দেশের আলোচনার মাধ্যমে এই সমস্যা সমাধান হবে।

উল্লেখ্য, বন্যহাতির উপদ্রবে এই উপজেলায় প্রতিবছর নষ্ট হয় অন্তত ৩শ’ হেক্টর জমির ফসল। গত ৫ বছরে এই উপজেলায় হাতির আক্রমণে মারা গেছে ১৩ জন। আহত হয়ে স্থায়ী পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন ২ শতাধিক মানুষ।

বার্তাবাজার/এসজে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর