ফলদ বৃক্ষরোপণ সচেতনতায় চারশ কিলোমিটারের পদযাত্রায় ৯জন

ফলজ বৃ‘ক্ষরোপনে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে চারশত কিলোমিটার পদযাত্রা শুরু করেছে ফলদ বাংলাদেশ নামের সংগঠনের কর্মীরা।

মহান বিজয় দিবসকে ঘিরে ১৬ ডিসেম্বর সকালে ত্রিশাল টু খাগড়াছড়ি পর্যন্ত চারশ কিলোমিটারের ১৬ দিনের একটি বৃক্ষ পদযাত্রা শুরু করল ‘ফলদ বাংলাদেশ’ এর জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার শি‘ক্ষক, কর্মকর্তা ও শি‘ক্ষার্থীদের ৯ সদস্যের একটি টিম। পায়ে হেঁটে ওই বৃ‘ক্ষ পদযাত্রা সফল করতে ইতিমধ্যে টানা দুই মাস প্রতিদিন দৈনিক ২০ কিলোমিটার হেঁটে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য কাজ করেছে টিমের সদস্যরা।

“পুষ্টি অর্থ সবুজপথ, ফলের গাছেই ভবিষ্যৎ” এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে গড়ে উঠা ‘ফলদ বাংলাদেশ’ নামে সংগঠনের ত্রিশালের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার শিক্ষক, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীদের ৯ সদস্যের একটি দল, এ বছর মহান বিজয় দিবসকে ঘিরে চারশ কিলোমিটারের ১৬ দিনের ফলদ বৃক্ষ সচেতনতার জন্য পদযাত্রার কর্মসূচী হাতে নিয়েছে।

বুধবার সকাল ১০টায় নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধুর ভা‘স্ক‘র্যের সামনে থেকে শুরু হওয়া চারশ কিলোমিটারের ওই ফলদ বৃক্ষ পদযাত্রার উদ্বোধন করেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. এএইচএম মোস্তাফিজুর রহমান। ওই ফলদ বৃক্ষ পদযাত্রায় অংশগ্রহনকারী ৯ সদস্যরা হলেন, কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক দ্রাবিড় সৈকত, সেকশন অফিসার মাহমুদুল আহসান লিমন, নাট্যকলা ও পরিবেশনা বিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী রাতুল মুন্সি, হুমায়ুন কবির টুটুল, শাহীন আলম, সুজালো চাকমা, স্থানীয় সরকার ও নগর উন্নয়ন বিভাগের শিক্ষার্থী নিউটন চাকমা, ফোকলোর বিভাগের শিক্ষার্থী রঞ্জিত কুমার ও ফিল্ম এন্ড মিডিয়া বিভাগের শিক্ষার্থী ছাব্বির আনাম রেজা। তবে ক্যাম্পেইনকালে ওই ৯ সদস্যের সঙ্গে যুক্ত হবেন স্থানীয় সদস্যরা।
সংগঠনটি ফলের গাছের গুরুত্ব, উপকারিতা এবং পরিবেশ ও বাসস্থানের জন্য ক্ষতিকারক বৃক্ষের প্রভাব সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টি করতে ত্রিশাল থেকে খাগড়াছড়ি পর্যন্ত ৭টি জেলা ও ২৪টি উপজেলাসহ দেড় শতাধিক বাজারে ক্যাম্পেইন করবেন তারা। পথে পথে আর ক্যাম্পেইনে গাছের চারা লিফলেট বিতরন করবেন, কেন ফলবৃক্ষ রোপন করবেন ও ইউক্যালিপ্টাস, রেইনট্রি, মেহগনি, শিশু একাশিয়া নামে বৃক্ষ কেন রোপন করবেন না সম্পর্কিত লিফলেট। পায়ে হেঁটে চারশ কিলোমিটারের ১৬ দিনের ওই ফলদ বৃক্ষ পদযাত্রা সফল করতে এবং শারীরিক সক্ষমতা ঠিক করতে সংগঠনের সদস্যরা গত দুই মাসের মধ্যে প্রায় প্রতিদিন ২০ কিলোমিটার করে হেঁটেছেন। ইতপূর্বে সংগঠনটি দেশের বিভিন্ন জেলায় পৌনে তিন লাখ ফলদ বৃক্ষ রোপন করেছে বলে জানান কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সমন্বয়ক মাহমুদুল আহসান লিমন।

সমন্বয়ক মাহমুদুল আহসান লিমন বলেন, পথিমধ্যে রসুলপুর, গফরগাও, হোসনপুর, কটিয়াটি, ভৈরব, তালশহর, কসবা, ব্রাক্ষনপাড়া, কুমিল্লা সদর, চৌদ্ধগ্রাম, ফেনী, বারৈইহাট, কয়লা বাজার, রামগড়, জালিয়াপাড়া, মাটিরাঙ্গা হয়ে খাগড়াছড়ি পৌছব। পথিমধ্যে আমরা যেখানে যেখানে রাত্রিযাপন করব সেখানে সচেতনতার জন্য ক্যাম্পেইন করে খাগড়াছড়ি শহীদ মিনারে গিয়ে পদযাত্রা শেষ করব। আমরা প্রতিদিন গড়ে সকালে ১০ কিলোমিটার ও বিকেলে ১০ কিলোমিটার করে পায়ে হেটে আমাদের গন্তব্যে পৌছব।

চারুকলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক দ্রাবিড় সৈকত জানান, বিজয়ের ১৬ তারিখের সঙ্গে মিল রেখে ১৬ দিনের কর্মপরিকল্পনা ও ফলের গাছের গুরুত্ব, উপকারিতা এবং পরিবেশ ও বাসস্থানের জন্য ক্ষতিকারক বৃক্ষের প্রভাব সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টি করতেই আমাদের এ আয়োজন।

বার্তাবাজার/এ.আর

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর