আজ ১৬ ডিসেম্বর। মহান বিজয় দিবস। আজ বাঙালি জাতির গৌরবের দিন। বিশ্ব মানচিত্রে লাল–সবুজের পতাকার স্থান পাওয়ার দিন। ১৯৭১ সালের এই দিনে ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে আত্মসমপর্ণ করেছিলো পাকি‘স্তা‘নি হানা‘দার বাহি‘নী। আজকের এইদিনে দিবসের মহিমা প্রকাশ পাবে যেসব বীর সন্তানের প্রাণের বিনিময়ে এই পতাকা ও মানচিত্র এসেছে, তাঁদের শ্রদ্ধা জানানোর মাধ্যমেই ।
দিবসটি উপলক্ষে সারা দেশে গ্রহন করা হয়েছিলো বিভিন্ন অনুষ্ঠান। প্রতিবছরের ন্যায় করোনা মধ্যেও রাজধানীর কেন্দ্রীয় শ‘হী‘দ মিনারের বিভিন্ন অনুষ্ঠান হয়েছিলো। বিজয়ের আনন্দে বেদি ও পাদদেশে ছোটাছুটি করছিলো ছোট ছোট শিশুরা। শিশুদের আদর, আবদার মেটাতে জাতীয় পতাকা, বেলুনসহ বিভিন্ন পণ্য ও খাবার সামগ্রী কিনে দিচ্ছেন তাদের পিতা-মাতারা।
হঠাৎ চোখ পড়ে যায় বেদির সামনে কালো বোরকা পরিহিত আট কিংবা নয় বছর বয়সী একটি মেয়ে সুললিত কণ্ঠে সুরা পাঠ করছে। পাশেই একই রঙয়ের বোরকা পরিহিত এক নারীকেও বসে থাকতে দেখা যায়। সুরা পাঠের পাশাপাশি শিশুটি ও ওই নারী দুহাত পেতে আছেন। বেড়াতে আসা লোকজনের মধ্যে দু-চারজনকে পেতে রাখা হাতে ৫/১০ টাকা অনুদান দিতে দেখা যায়।
কৌতূহলবশত তাদের সামনে গিয়ে নাম পরিচয় জানতে চাইলে ওই নারী তার নাম রুবি ও মেয়ের নাম লাবনি বলে জানান। রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরের বাসিন্দা রুবি দুই মেয়ে ও এক ছেলের জননী। বছর দেড়েক আগে তার স্বামী মারা যান। স্বামীর মৃত্যুর পর সংসারের খরচ চালাতে বিভিন্ন বাসাবাড়িতে গৃহপরিচারিকার কাজ করেন।
তবে কয়েক বাসায় দিনভর কাজ করে প্রতি মাসে যে টাকা বেতন পান, তা দিয়ে বাসাভাড়া ও খাবার খরচ চালাতেই হিমশিম খেতে হয় তাকে। এছাড়া তার সন্তানরা স্থানীয় মসজিদে আরবি পড়ে। রুবির স্বপ্ন ছেলে-মেয়েদের হাফেজ হিসেবে গড়ে তুলবেন। কিন্তু টাকার অভাবে তাদেরকে মাদরাসায় ভর্তি করাতে পারছেন না।
রুবি শুরুতে আজই প্রথম সাহায্যের জন্য হাত পেতেছেন বলে জানালেও পরবর্তীতে তিনি স্বীকার করেন ছোট ছোট ছেলে-মেয়েদের বাসায় একা রেখে বাইরে কাজে যেতে সাহস পান না, তাই গত কয়েকমাস ধরে তিনি ভিক্ষা করে সব খরচ মেটাচ্ছেন।
অনুরোধ জানিয়ে রুবি বলেন, কোন দয়াশীল মানুষ যদি আমার সন্তানদের মাদরাসায় পড়ার খরচ চালানোর দায়িত্বটা নিতেন, তাহলে আমি চা ও পানের একটি ছোট্ট দোকান দিয়ে ঘরের খরচ চালাতে পারতাম।
বার্তাবাজার/এ.আর