“বিজয় দিবসে তারুণ্যের প্রত্যাশা “

১৬ই ডিসেম্বর, মহান বিজয় দিবস। ১৯৭১ সালের এ দিনে আমরা পাকিস্তানি হা‘না‘দার বা‘হিনীকে হটি‘য়ে স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনি। পা‘কিস্তা‘নিদের দা‘স‘ত্বের শৃ‘ঙ্খল থেকে মুক্ত হতে এ দেশের ৩০ লক্ষ মানুষ জীবন দিয়েছে এবং অসংখ্য নারী তার স‘ম্ভ্র‘ম হারিয়েছে। যে দেশে থাকবে না কোনো বৈষম্য, শো‘ষণ, রাহা‘জানি, দূর্নী‘তি, অন্যা‘য়-অবিচা‘র।

আজ বিজয়ের ৪৯ বছরেও কি আমরা সেই সব শ‘হী‘দদের, মুক্তি‘যু‘দ্ধাদের, স‘ম্ভ্র‘মহারা নারীদের ও বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাশিত বাংলাদেশকে পেয়েছি? সেই প্র‘ত্যা‘শিত বাংলাদেশের স্বনামধন্য চারটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিজয় দিবসের প্রত্যাশা নিয়ে লিখেছেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মহিব্বুর রহমান।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান জোবায়ের বলেন, “প্রতি বছর ১৬ই ডিসেম্বর আমাদেরকে স্মরণ করিয়ে দেয় দীর্ঘ ৯ মাসব্যাপী র‘ক্ত‘ক্ষ‘য়ী যু‘দ্ধা‘র্জিত এক মহান বিজয়ের কথা। বিজয়ের ৪৯ বছরে অনেক অর্জন ও সাফল্য আমাদের কাছে ধরা দিয়েছে। আমাদের মাথাপিছু গড় আয় ১০০ ডলার থেকে বেড়ে ২০৬৪ দাঁড়িয়েছে। ফলে আমরা রুপা‘ন্তরিত হয়েছি নিম্ম আয়ের দেশ থেকে মধ্যম (নিম্মমধ্যম) আয়ের দেশে। স্বাস্থসেবায়, কৃষিতে, বিদ্যূ খাতে, শিল্প ও বানিজ্য খাতে, পোষাক শিল্পসহ বিভিন্ন রপ্তা‘নিপ্রবন শিল্পের অভূতপূর্ব উন্নয়ন করে তা বিকাশে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রসারতা লাভে সাফল্য অর্জন করতে পেরেছি। এত প্রাপ্তির পরও অনেক অপ্রাপ্তি রয়েছে। যেমন- খাদ্যে ভেজাল, বিদেশী অপ-সং‘স্কৃতির আগ্রাসন, সামাজিক নৈতিকতার অবক্ষয়, দূ‘র্নী‘তি প্রভৃতি থেকে হতে না পারা আমাদের মাঝে নিয়মিত আক্ষেপের সৃষ্টি করে। বিজয়ের এ লগ্নে দৃশ্যমান উন্নয়নের পাশাপাশি অদৃ‘শ্যমান উন্নয়ন- সামাজিক নৈতিকতার মূল্যবোধ বৃদ্ধিকরণ, সাং‘স্কৃতিক স্বকীয়তা অর্জন, নাগরিক সম-অধিকার,খাদ্য নিরাপত্তা, জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের নিশ্চি‘তকরণের প্রত্যয়ই ৩০ লক্ষ শ‘হী‘দের আ‘ত্মার প্র‘শান্তি দান করবে”

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নেছার আহমদ হাজারী বলেন, “১৬ ডিসেম্বর আমাদের মহান বিজয় দিবস। এইদিনে ১৯৭১ সালে আমাদের মুক্তিবা‘হি‘নীর নিকট পাকি‘স্তানী হা‘না‘দার বাহি‘নী আত্ম‘সমর্প‘ণের মাধ্য‘মে আমা‘দের বিজয় নিশ্চিত হয়। আমরা স্বাধীন জাতি হিসেবে স্বাধীন বাংলাদেশ লাভ করতে স‘ক্ষ‘ম হয়েছি। কিন্তু স্বাধীন দেশে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা কতটুকু দিতে পেরেছি? অথচ যে কোন গণতান্ত্রিক রা‘ষ্ট্রে বিচার বিভাগের স্বা‘ধীনতা জরুরি। কেননা ব্য‘ক্তির অধিকার প্রতিষ্ঠা ও রক্ষা করার জন্য প্রয়োজন একটি স্বা‘ধীন ও নির‘পে‘ক্ষ বিচা‘রব্যব‘স্থা। এছাড়াও কোনো রাষ্ট্রে‘র শা‘সনব্যব‘স্থা সু‘ষ্ঠুভাবে পরিচালিত হচ্ছে কি না তা বিচারের মাপকাঠি হলো, সে দেশের বিচার বিভাগের নিরপেক্ষতা ও স্বাধীনতা সংরক্ষণ। বাংলাদেশের সংবিধানের ষষ্ঠ ভাগে বিচার বিভাগ, অ‘ধঃস্ত‘ন আদালত এবং প্রশাসনিক ট্রা‘ইব্যুনা‘লগু‘লো (অনু‘চ্ছেদ ৯৪-১১৭) লি‘পিব‘দ্ধ রয়েছে। সংবিধা‘ন অনু‘যায়ী, আ‘পিল ও হা‘ইকো‘র্ট সম‘ন্বয়ে বাংলাদেশ সুপ্রি‘ম‘কো‘র্ট গঠিত এবং প্রধান বি‘চার‘পতি ও অন্য বিচা‘র‘প‘তিরা বিচারি‘ক কার্য পালনের ক্ষেত্রে স্বাধীন থাকবেন। অথচ বাস্তবে তারা ক্ষমতাসীনদের কাছে জি‘ম্মি। এমন পরিস্থিতি আমাদের বিজয়ের অ‘র্জনকে ব্যা‘হত করছে।”

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আব্দুল কবীর ফারহান বলেন, “দীর্ঘ সময়ের র‘ক্তক্ষ‘য়ী যু‘দ্ধের বিনিময়ে আমাদের স্বাধীনতা শব্দ‘টি অর্জি‘ত হয়েছে। বহু প্রাণের তাজা রক্তের মূল্য দিয়ে কেনা এই বাংলাদেশ। প্রতিবছর বিজয়ের দিনে রা‘ষ্ট্রীয় সকল পর্যায়ে দিবসটি সম্মানের সাথে পালিত হয়। তবে প্রচলিত সেই বাক্যটির দিকে খেয়াল রাখতে হবে, ‘ স্বা‘ধীনতা অর্জ‘নের চেয়ে তা র‘ক্ষা করা কঠিন।’ আজও দেশের ভিতর লু‘কিয়ে থাকা দে‘শদ্রো‘হী শ‘ক্তির প্র‘ভাবে আমাদের স্বাধীনতা শ‘ব্দটি যেন বি‘লীন হয়ে না যায় এজন্য তরুণ সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে। এদেশের অর্জিত স্বাধী‘নতা রক্ষায় আমি, আমরা সহ সকল দে‘শপ্রে‘মী তরুনদের অংশগ্রহণ থাকুক বিজয় দিবসে এটাই কামনা। এদেশ গঠনের প্রকৃত ইতিহাস জেনে স্বাধীনতা রক্ষা‘র্থে আত্ম‘নিয়োগ করাই দেশপ্রেমীদের দায়িত্ব ও কর্তব্য।”

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. ইয়াছিন ভূইয়া বলেন, “বিজয় শুনতেই কেমন আনন্দের হইচই। কিন্তু এর পেছনে রয়েছে কত শত ত্যা‘গ আর বিস‘র্জনের ম‘র্মস্প‘র্শী গল্প। দী‘র্ঘ ৯ মাসের র‘ক্তক্ষ‘য়ী যুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত এই বিজয়। র‘ক্তস্না‘নে অর্জিত এই বিজয় আমাদেরকেই রক্ষা করতে হবে।
বিজয়ের প্রকৃত ইতিহাস জানতে হবে। দেশকে অ‘ভ্য‘ন্তরী‘ণ ও ব‘হিঃশ‘ক্তির হাত থেকে র‘ক্ষা করতে দী‘প্ত শপথ গ্রহণ করতে হবে। কেবল মনোযোগ আকর্ষণ আর স্বা‘র্থসি‘দ্ধির জন্য ‘মু‘ক্তিযু‘দ্ধ, বঙ্গবন্ধু, স্বাধী‘নতা, বিজয়’ এসব আবেগময় শ‘ব্দগু‘চ্ছকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার না করে মু‘ক্তিযু‘দ্ধের চেতনায় উদ্ভু‘দ্ধ হয়ে প্রকৃত দেশপ্রেমিক হতে হবে। দেশের স্বা‘র্থকেই নিজ স্বা‘র্থের উ‘র্ধ্বে প্রাধা‘ন্য দিতে হবে।তবেই শ‘হীদ‘দের প্রাণের বিসর্জন সার্থক হবে।বিজয় তার প্রকৃত অর্থ খুঁজে পাবে।”

বার্তাবাজার/এ.আর

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর